ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক চিত্র। কলকাতায় অবস্থানরত প্রায় ৬০০ নেতার গতিবিধি এবং নয়া দিল্লির অন্দরমহলে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে ব্রিটিশ সংবাদপত্রটি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতেই উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি ‘বীরের বেশে’ দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ঠিক প্রাক্কালে শেখ হাসিনার অবস্থান ও প্রত্যাবর্তন নিয়ে গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। দ্য গার্ডিয়ান দাবি করেছে, ভারতের মাটিতে বসে প্রতিদিন ১৫-১৬ ঘণ্টা মিটিং আর ফোন কলে দলীয় কর্মীদের বিভিন্ন বার্তা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা।
দ্য গার্ডিয়ান ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সেখানে ছাত্রলীগের সভাপতি দাবি করেছেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আওয়ামী লীগের ৬০০-এর বেশি প্রভাবশালী নেতা অবস্থান করছেন। গত কয়েকমাসে সাবেক সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভার সদস্য এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। আলাদা আলাদা বৈঠকে পরবর্তী রণকৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। সাদ্দাম হোসেনের দাবি, শেখ হাসিনা প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা নেতাকর্মী ও অন্যান্য সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে ইতিমধ্যেই। ফলে এই পরিস্থিতিতে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি ঝুঁকিতে থাকার কথা। কিন্তু তবুও কয়েকটি মহলে খোদ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে ফিরবেন এবং তা সুশাসন ফেরার পর। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেত্রী বর্তমান মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তবর্তীকালীন সরকারের পতনের বিষয়টিকেই সুশাসন ফেরানোর কথা বলেছেন।
অন্যদিকে সম্প্রতি কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার পূত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রীদের মধ্যে সাড়া পড়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, মুজিবের নেতৃত্বে প্রথম এই কলকাতা থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল। সেই কলকাতা থেকেই এবার শুরু হল সজীবের নেতৃত্বে দেশ উদ্ধারের সংগ্রাম। দ্য গার্ডিয়ানও প্রায় একই দাবি করছে। ওই প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম লিখেছে, কলকাতার শপিং মলের ফুড কোর্টে আরাম করে ব্ল্যাক কফি আর ভারতীয় ফাস্ট ফুড খেতে খেতে আওয়ামী লীগের নির্বাসিত রাজনীতিবিদরা রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছেন৷ হাসিনাপুত্র জয় তাঁর ভার্চুয়াল ভাষণে দাবি করেছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সাজানো এবং পরিকল্পিত। তাঁর আরও দাবি, এই নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই ঠিক করা হয়ে গিয়েছে।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথা সাবেক সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন নাছিম ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ওটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লব ছিল না, এটা ছিল আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার জন্য সন্ত্রাসীদের ক্ষমতা দখল৷ আর তাঁদের নেত্রী যে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হয়েছেন সে বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে নাথিম বলেন, মিথ্যা মিথ্যা মিথ্যা। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে কয়েকজন আওয়ামী নেতা অবশ্য ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকার সময়ে নিজেদের ভুলের বিষয়টিও স্বীকার করেন৷ যেমন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়। তিনি বলেছেন, আমি স্বীকার করছি যে আমরা সাধু ছিলাম না৷ আমরা কর্তৃত্ববাদী ছিলাম৷ আমরা পুরোপুরি গণতান্ত্রিক ছিলাম না৷ আমি একমত যে, ২০১৮ সালের নির্বাচন পুরোপুরি ঠিকমতো হয়নি৷ আমরা আশা করেছিলাম, সেটি আরও সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হতে পারতো৷ এটা দুর্ভাগ্যজনক৷ তবে দ্য গার্ডিয়ানের মতো সংবাদমাধ্যমের মতে, সমস্ত ছোট-বড় ভুল নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নিয়ে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বদর্পে ফেরার প্রচেষ্টায় রত। আর এই কাজে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ভারতের দিল্লি থেকে শেথ হাসিনা যেমন প্রচন্ড খাটছেন। তেমনই বাংলাদেশের একেবারে পাশে ভারতের কলকাতায় বসে আওয়ামী লীগের ৬০০-র বেশি নেতা ব্যাগ গোছাতে শুরু করেছেন। একটি গ্রীন সিগন্যালেই তাঁর ঢুকে পড়বেন বাংলাদেশে।












Discussion about this post