বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মুহূর্তে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট টাকা ছেড়েছিলেন বাংলাদেশের এক সামরিক বিমানে। তারপর থেকে ভারতের রাজধানী নয় দিল্লির কোন এক গোপন আস্তানায় ভারতের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তিনি গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। ঘটনার পর ১৮-১৯ মাস অতিবাহিত হলেও হাসিনার সঠিক অবস্থান এখনো কেউ জানতে পারেনি। তিনি এতটাই গোপনীয়তার সঙ্গে ভারতে রয়েছেন। পাশাপাশি সম্প্রতি একটি রিপোর্টে জানা গিয়েছে ভারতে এক প্রতি সুরক্ষিত বাংলো তিনি এমনভাবে রয়েছেন যেখানে ভারত সরকার তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়ে বহাল তবিয়তে বহু তরী ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছে। সে বিষয়ে পরে আসছি। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ কোন খেলা খেলছে সেটা নিয়েই বরং আগে আলোচনা করা যাক। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেখানে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি নেই। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে না থেকেও আছে এবং তা প্রবল ভাবে আছে। এটাই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং তাঁদের দোসর জামায়াতে ইসলামী ও তাঁর জোট শরিকদের মাথাব্যথার কারণ। কেন এ কথা বলা হচ্ছে সেটা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।
মুহাম্মদ ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পরই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট চাকমা দিয়ে নির্বাচিত করা হয়েছে। শেখ হাসিনার দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দণ্ডিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই। যদিও ভারত সহ একাধিক দেশ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের এই বাদ যাওয়াকে ভালো চোখে দেখছে না। কিন্তু ইউনূসের এতে থোড়াই কেয়ার। তিনি জামাতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে দূরে ঠেলে রেখেছেন। বিএনপি মুখে কিছু না বললেও এই সিদ্ধান্ত মুখ বুঝিয়ে মেনে নিয়েছে। কারণ তাদেরও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আসলে নেমেছে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত আওয়ামী লীগ। বলা ভালো তাদের সর্বোচ্চ নেত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। দুজনেই মুহূর্তে বাংলাদেশের বাইরে। শেখ হাসিনা ভারতে কোনও এক অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন আর তার পুত্র জয় প্রকাশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ প্রবাহ লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে, দুজনেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অতি সক্রিয়। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা এবং তার পুত্র জয় অত্যন্ত সক্রিয়।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট তকমা দিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে নিষিদ্ধ করে রেখেছে। মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে কার্যত ফতোয়া জারি করে কার্যত হুমকি দিয়ে রেখেছে যাতে তাঁরা কোনওভাবেই শেখ হাসিনা বা তাঁর দলের কোনও নেতার বক্তব্য প্রকাশ না করে। ফলে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেত্রী তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কোনও বক্তব্য বা প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে না। ফলে হাসিনা বা তার দলের নেতৃত্ব অথবা তাঁর ছেলে জয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বেছে নিয়েছেন। ওয়াকিবহাল মনের মতে এটা ভারতের একটা দুর্দান্ত চাল। ভারত সরকার এই বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে সাহায্য করছেন যাতে পশ্চিমা মিডিয়া , তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরে।
মজার ব্যাপার শেখ হাসিনা বা তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে উদ্ধৃতি করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দাবি করছে, আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবেন নতুন কোনও নেতা বা নেত্রী। এটা একটা আওয়ামী লীগ নেত্রীর দুর্দান্ত চাল হিসাবে মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল। কারণ বাংলাদেশে এই মুহূর্তে খালেদা জিয়া জামানা শেষ, বিএনপির ক্ষমতায় আছেন তার পুত্র তারেক রহমান জিয়া। ফলে আওয়ামী লীগেও পরবর্তী প্রজন্ম সেটা হাসিনার পুত্র হোক বা অন্য কেউ তাকে জায়গা করে দিতে হবে। আওয়ামী লীগকে সে চেষ্টায় আছে? এই মুহূর্তে এর কোন স্পষ্ট উত্তর নেই। তবে যেটা আছে সেটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি হয় তাহলেও আওয়ামী লীগ ঘুরিয়ে অংশ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দলীয় সভ্য সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এই ভোট বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে নেত্রীর এই আহ্বান যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। যা নিয়ে চিন্তিত ইউনূস সরকার। মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের থেকেও বেশি যেটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হল গণভোট। তাতে যদি কম ভোট পড়ে তাহলে তা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নোবেলজয়ী অধ্যাপকের কাছে হারের শামিল। তাই সরকার সর্বশক্তি দিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে তাদের পক্ষে আনার জন্য ময়দানে নেমে পড়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ছেড়ে কথা বলছে না। বিদেশের মাটিতে বসেই আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেদের মতো করে চেষ্টা চালিয়ে চলেছেন যাতে এই নির্বাচন সফল না হয়। কূটনৈতিক স্তরে তাঁরা অনেকটাই গুছিয়ে এনেছেন। ফলে আসন্ন নির্বাচন খুব একটা সফল হবে তা হলফ করে বলা যাবে না।












Discussion about this post