বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র দিন কয়েক বাকি। এই আবহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন বা ‘থমকে থাকা’ কূটনৈতিক অবস্থার কথা অকপটে স্বীকার করলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন, নানা কারণে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ ছিল না। পাশাপাশি তিনি আশাবাদী, এই সরকারের উত্তরসূরি হয়ে যে নতুন সরকার আসবে, তারা এই অচলাবস্থা কাটিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারবে। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই দাবি করেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এ হেন মন্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শোড়গোল পড়ে গিয়েছে। ধরা হচ্ছে, এটাই অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে সাংবাদিকদের সঙ্গে শেষ মতবিনিময় সভা। আর এতেই তৌহিদ হোসেন যা বললেন তা কোনও অংশে বিস্ফোরণের থেকে কম নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের পরিস্থিতি নিয়ে তৌহিদ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নানা কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ ছিল না।
যদিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের অদ্ভুত যুক্তি, বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না- পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে এই দায় তাঁর নয়। তিনি দাবি করেন, এটা দেশের দায়, পুরো সিস্টেমের দায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও না, ব্যক্তিগতভাবে আমারও না। তাঁর যুক্তি, পৃথিবীজুড়ে প্রচুর সুযোগ আছে। আমরা তা নিজেদের দোষে ব্যবহার করতে পারছি না। আমাদের ভিসা দেয় না, এর জন্য সম্পূর্ণভাবে আমরা দায়ী। তৌহিদ আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নিজেই বলেছেন, জালিয়াতিতে আমরা একেবারে বিশ্বসেরা। আপনি যখন জালিয়াতি করবেন, তখন আপনার কাগজ কেন তাঁরা বিশ্বাস করবে? বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এ হেন মন্তব্য সামনে আসতেই কূটনৈতিক মহলে কার্যত হইচই পড়ে গিয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং নির্বাচন পরবর্তী সেফ এক্সিট খুঁজতেই সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর শেষ মতবিনিময় সভায় ভারতকে দোষী না করে নিজেদের দোষ স্বীকার করলেন।
অপরদিকে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ নিয়ে বলতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন স্বীকার করছেন, অন্যান্য দেশগুলি জানে বাংলাদেশে একটি অস্থায়ী সরকার রয়েছে। এর পরে কারা ক্ষমতায় আসবে সেটা এখনও কেউ জানে না। ফলে যারা বিনিয়োগ করবেন তাঁরা এই বিষয়টি বিচার-বিবেচনা করবেন এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিগত আঠারো মাস ধরে বাংলাদেশে সরকার পরিচালনার পর একের পর এক উপদেষ্টা এখন নিজেদের ব্যর্থতার দায় ঝেড়ে ফেলতে উদ্যোগী। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কয়েকদিন আগেই ভারতের বিরুদ্ধে বিষাদগার করতে ভুলতেন না, তিনিই এখন দাবি করছেন, তাঁদের আমলে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ‘মসৃণ’ ছিল না এবং কিছু ‘বিপত্তি’র সম্মুখীন হতে হয়েছিল। উল্লেখ্য, ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে নয়া দিল্লিকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে ঢাকা। কিন্তু ভারত সরকার তার কোনও জবাব পর্যন্ত দেয়নি। উল্টে ভারতের বিদেশমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, হাসিনা যতদিন ইচ্ছা ভারতে থাকতে পারেন। এই বিষয়টি নিয়েই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নাকি খারাপের দিকে গিয়েছে এটা এর আগে দাবি করেছিলেন তৌহিদ হোসেন। তবে এবার তাঁর কথায় ভিন্ন সুর। কিন্তু যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা হল মুহাম্মদ ইউনূসের মতোই তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে জালিয়াত বললেন। যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে পদ্মাপাড়ে।












Discussion about this post