বাংলাদেশের ভোট নিয়ে পদ্মাপারে তুমুল ব্যস্ততা। ভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল সাড়ে ৭টি থেকে। ভোটপর্ব মিটলেই শুরু হবে গণনা। রাতের মধ্যে ইঙ্গিত মিলতে পারে পরবর্তী পাঁচ বছর কাদের হাতে থাকবে দেশশাসনের চাবি।
এই ভোট নিয়ে পদ্মাপারে যেমন তুমুল ব্যস্ততা, ব্যস্ততা পদ্মার এপারে এবং সুদূর মার্কিন মুলুকে। এই ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। ভোট যাতে কোনওভাবেই বানচাল না হয়, তার জন্য সাউথব্লক যেমন সক্রিয়, সক্রিয় ওয়াশিটং ডিসি। ব্যস্ত কতটা, সেটা দুটি ঘটনার উল্লেখ করলে বোঝা যাবে। একটি ঘটনা বাংলাদেশে, দ্বিতীয়টি ওয়াশিংটনে। বারিধারার কূটনৈতিক মহলে এখন এই সব ঘটনা টক অব দ্য ডিপ্লোম্যাটিক জোন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং ভারতের বিদেশ সচিব সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকের বিষয়ে জয়শঙ্কর তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে দেখা করে আমি আনন্দিত। আমাদের মধ্যে ভারত-মার্কিন কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল বাণিজ্য, পারমাণবিক শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়। ” বিদেশ সচিব এর আগে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গেও দেখা করেন। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুবিওর সঙ্গে অন্য যে সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, মায়ানমার সীমান্ত এবং এই অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা। জয়শঙ্করের আমেরিকা যাওয়ার কারণ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। আর সেই সফরে তিনি মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন।
ঠিক পরের দিন বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভর্মার সঙ্গে বৈঠক করেন সে দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। চমকপ্রদ তথ্য হল, এই বৈঠকের আগে মার্কিন রাষ্টদূত বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমানের সঙ্গে। তারেকের সঙ্গে গত জানুয়ারিতে বৈঠক করেছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভর্মা। সাক্ষাৎকার হয়েছিল বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে। কোনও হাইকমিশনারের কোনও একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দলের সুপ্রিম কম্যান্ডের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি বেশ ব্যতিক্রমী। বিশেষ করে তারেক কিন্তু কোনও সরকারি পদে নেই। তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। কাজেই এই সাক্ষাৎকার বেশ অর্থবহ। ঢাকা হোক বা ওয়াশিংটন, তারেক রহমান বা প্রণয় ভর্মা – সব বৈঠক কিন্তু এক সুতোয় গাঁথা। আর সেটি হল বাংলাদেশ নির্বাচন, আওয়ামী লীগ, জঙ্গি আর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু। প্রতিটি বৈঠক যে হাইভোল্টেজ, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশের নির্বাচন যখন দরজায় কড়া নাড়ছে সেই সময় ঢাকা আর ওয়াশিংটনে দুই দেশের আমলাদের ব্যস্ততাকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশেক আমেরিকা তাদের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার বা কৌশলগত শরিকের তালিকা থেকে ছাঁটাই করে দিয়েছে।
বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগে ভারত। আর মায়ানমার নিয়ে উৎকণ্ঠায় আমেরিকা। একদিকে উদ্বেগ অপর দিকে উৎকণ্ঠা – এই দুই মিলিয়ে দিল ভারতের বিদেশ সচিব জয়শঙ্কর এবং মার্কিন বিদেশ সচিব রুবিওকে। দেশদুটির চাওয়া-পাওয়ার হিসেবকে এক করে ফেলেছে। এই চাওয়া-পাওয়ার সমীকরণ দুটি দেশকে এতটাই কাছে নিয়ে এসেছে যে দুইয়ের মধ্যে শুল্ক নিয়ে যে কৌশলগত দূরত্ব ছিল সেটা এখন কার্যত অদৃশ্য। ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে নিযুক্তি সে দেশের রাষ্ট্রদূতের কানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আর সেই বার্তাকে প্রাধান্য দিয়ে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন দেখা করেন প্রণয় ভর্মা এবং তারেক জায়া এবং দম্পতির মেয়ের সঙ্গে। আমেরিকা চাইছে, মায়ানমারে চিনের প্রভাব হ্রাস করতে। তাতে তারা সে দেশের খনিজ সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। সে জন্য মায়ানমারের বিদ্রোহ গোষ্ঠীগুলিকে সামরিক, সেই সঙ্গে আর্থিক সাহায্য দিয়ে এসেছে আমেরিকা। বলা হচ্ছে, আমেরিকা ও জাতিসঙ্ঘ এই সাহায্য পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ দিয়ে রাখাইন মানবিক করিডোর তৈরি করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এর জন্য আদা জল খেয়ে নেমেছিলেন। কিন্তু আপত্তি তোলে সেনাবাহিনী। শেষ পর্যন্ত করিডোর আর দিতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এই ইস্যুতে বাংলাদেশকে আমেরিকা কৌশলগত অংশীদার করতে চেয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু ৩ জানুয়ারি সেনেটে একটি বিল পাশ হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে আমেরিকা তাদের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। বাংলাদেশকে তারা আর কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় না।
আমেরিকায় জয়শঙ্করের সঙ্গে মার্কো রুবিওর যে বৈঠক হয়েছে, সেই বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে মায়ানমার নিয়েও। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মায়ানমার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রাধান্য দেবে ভারত। আর বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতকে প্রাধান্য দেবে আমেরিকা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post