ভোটের মুখে উত্তরপাড়ায় এক আশ্চর্য নিস্তব্ধতা। সেনা ছাউনি সব সময় নিস্তব্ধ থাকে ঠিকই। কিন্তু বাংলাদেশের সেনানিবাসের এই নিস্তব্ধতা বেশ রহস্যময়। আর এই নিস্তব্ধতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ুঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভোটের যখন বাকি আর মাত্র ৬ দিন, সেই সময় উত্তরপাড়া আচমকাই যে শব্দ-বাক্যহীন হয়ে গেল। বাহিনী যে আড়াআড়িভাবে বিভক্ত, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। একটি পক্ষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, অপর পক্ষ রয়েছে জামাতের পক্ষে। কিন্তু বাহিনী যেহেতু সুশৃঙ্খল তাই, এই আড়াআড়ি ভাগ হওয়ার বিষয়টি চোখে পড়ে না। এখন প্রশ্ন – ভোটের আগেই কি সেনাপ্রধান ওয়াকার ক্ষমতা দখল করবেন? তবে সেনাপ্রধান ওয়াকার কিন্তু বেশ সতর্ক রয়েছেন। তার কারণ রয়েছে।
সতর্ক থাকার কারণ সেনাবাহিনীতে তদারকি সরকার কিছু রদবদল ঘটাতে চাইছেন। জেনারেল ওয়াকার ইউনূসের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে নারাজ।সর্বশেষ সিজিএস জেনারেল সামিম এলপিআর-য়ে চলে যাওয়ার আগে এই পদে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসানকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। অন্যদিকে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেলকে পিএসও পদে নিয়োগ করার চেষ্টা করেন তদারকি সরকার প্রধান। সেনাপ্রধান ওয়াকার এই দুই নিয়োগে প্রবল আপত্তি তোলেন। কারণ তিনি জানতেন, এই দুটি নিয়োগ মানে তাঁর ক্ষমতা ছাঁটাই করা। আর সেটা হলে বাহিনীর রাশ কার্যত মুহাম্মদ ইউনূসে হাতে চলে যাবে। সেটা কোনওভাবেই হতে দিতে চাইছেন না সেনাপ্রধান ওয়াকার। ঢাকা ক্যান্টমেন্টে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। কিছুদিন গাজিপুরে তিন বাহিনীর প্রধান স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। মূলত নির্বাচন কীভাবে শান্তিতে ও নির্বিঘ্নে করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটিলিয়নের নাম ও পোশাক পরিবর্তন নিয়ে বাদানুবাদ হয়। এদিকে, বাংলাদেশে ভোটের মুখে বিভিন্ন দর্জির দোকানে সেনাবহিনীর পোশাকের আদলে পোশাক তৈরির কাজ চলছে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে। উদ্দেশ্য ভোটের দিন ওই পোশাক পরে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা। অনেকে মনে করছেন র্যাবের নতুন পোশাক নিয়ে সমস্যা তৈরি হবে।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌবাহিনী বিশেষ পদক্ষেপ করতে চলেছে। তারা সাতটি যুদ্ধজাহাজ স্ট্যান্ডবাই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হল, ভোটের সঙ্গে যুদ্ধজাহাজ স্ট্যান্ডবাই রাখার কি কোনও সম্পর্ক আছে? নৌসেনা কি মনে করছে বাংলাদেশ ভোটের দিন মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। ভারত বঙ্গোপসাগর দিয়ে এসেছে ভোটের দিন কোনও গোলমাল বাঁধাতে পারে? এদিকে, নতুন সিজিএস কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। এই ইস্যুতে তদারকি সরকার প্রধান ইউনুস এবং তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে সেনাপ্রধান ওয়াকারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। আপাতত সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন সরকার কাউকে সিজিএস পদে নিয়োগ করবেন। খলিলুর রহমানের সঙ্গে ওয়াকারের সম্পর্ক আদায় কাঁচকলায়। খলিলুর যেটা বলবেন, ঠিক তার উল্টোটা বলবেন ওয়াকার। সাম্প্রতিক অতীতে এই ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
একটি সূত্র বলছে, ওয়াকার ক্যান্টনমেন্টে ঘন ঘন বৈঠক করছেন। তিনি বলেছেন, ১২ তারিখের ভোট হবে অবাধ ও সুষ্ঠু। ভোটে কারচুপি রুখতে তাঁর ইউনিট সর্বোতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এখন প্রশ্ন, যে সেনা সব সময় চায় ক্ষমতা দখল করতে, সেই সেনার এমন কী হল যার জন্য তারা অবাধ ভোটের পক্ষে সওয়াল করছে? সূত্রটি বলছে, সেনাবাহিনী যে কোনও মূল্যে আওয়ামীকে প্রতিহত করতে চাইছেন। আওয়ামী লীগ যাতে কোনওভাবে ক্ষমতা দখল করতে না পারে, তার জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠমহলে বলেছেন, আমি আমার ড্রইং রুমে এমন কাউকে আমন্ত্রণ করতে পারি না যে আমায় হত্যা করতে পারে। ফলে, এক তপ্ত পরিবেশের মধ্যে দিয়ে অনু্ষ্ঠিত হতে চলেছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।












Discussion about this post