যে সেনাপ্রধানকে ছাত্ররা রোজ অপদস্থ করত, যার চাকরী জীবনের থেকেও কম বয়সের ছাত্ররা তাকে ক্যান্টনমেন্টে থাকার পরামর্শ দিত, যাকে ছাত্রনেতারা অনাআসে ভারত এবং আওয়ামীলীগের দালাল বলত, এত কিছু শোনার পরও তিনি কোন দিন কোন ছাত্রনেতাকে, সেনাপাঠিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে সংযত থাকার বার্তা দেননি। উল্টে গোপালগঞ্জে গিয়ে আওয়ামীলীগের অবরোধে আটকে পড়া হাসনাত সারজিসদের উদ্ধারে সেনা নামিয়ে, সেনার গাড়ীতে করে তাদের নিয়ে আসেন। আর সেনার গুলিতে আওয়ামীলীগেরই কয়েক জনের মৃত্যু হয়। এগুলি বলার কারণ তিনি এতদিন ধরে গো বেচারা সেজে থাকা, নখ দাঁত হীন বাঘের মত ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে তিনি বা তার দফতর অতিতৎপর হয়ে ওঠেন। যেখানে সেনার বিরুদ্ধে যায় এমন কোন খবরের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, যে খবরের প্রেক্ষিতে ২১ জন সাংবাদিককে দু গাড়ি সেনা পাঠিয়ে সেনা ক্যান্টনমেন্টে তুলে নিয়ে যান, সেই খবরটি যে আদৌও সেনার বিরুদ্ধে কিনা তারও প্রমান পাওয়া যায় নি। এর আসল উদ্দেশ্য হল সেনাকে নিয়ে কোন খবর প্রকাশ করার আগে যে কোন সাংবাদিককে হাজার বার ভাবতে হবে। যা জানা যাচ্ছে,রাজধানী নিকুঞ্জের অফিস ঘেরাও করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাদেশ টাইমসের বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
প্রতিষ্ঠানটির এডিটর ইন চিফ সাব্বির আহমেদ ফেসবুক লাইভে এ দাবি করে বলেন, সেনা সদস্যরা বিকালের শিফটের কর্মীদের তুলে নিয়ে যান।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে- তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে।
শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বাংলাদেশ টাইমসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে পোস্ট করে বলা হয়, বাংলাদেশ টাইমস অফিস ঘেরাও করে সাংবাদিকদের তুলে নিয়েছে সেনা সদস্যরা।
বাংলাদেশ টাইমসের একজন সংবাদ কর্মী জানান, শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইন্টার কন্টিনেন্টাল মোড়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান আদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে চলা আন্দোলনের সময়, আন্দোলনকারীদের একজন সেনাবাহিনীকে নিয়ে মন্তব্য করেন, যা প্রচার করে বাংলাদেশ টাইমস। এটিকে কেন্দ্র করেই হয়তো সাংবাদিকদের তুলে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
খিলক্ষেত থানার পরিদর্শক আশিকুর রহমান বলেন, যৌথবাহিনী সন্ধ্যায় নিকুঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায়। তবে কী কারণে অভিযান চালানো হয়েছে তা তিনি জানেন না।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনী হাজী ক্যাম্পের মেজর ফাহাদ বলেন, আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ টাইমসের কয়েকজন সংবাদকর্মীকে ক্যাম্পে নিয়ে এসেছি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কয়েকজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এখনো কয়কজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদেরকেও পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দেয়া হবে। তবে ঠিক কি কারণে এবং কয়জন সাংবাদিককে ক্যাম্পে আনা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বিষয়ে পরে জানানো হবে। এবার তো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, এর পর যদি কোন সাংবাদিক সেনার বিরুদ্ধে কোন কথা বলে তাকে যে ছেড়ে দেওয়া হবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। সেনা যে ভোটে তাদের কতৃত্ব পুরোপুরি কায়েম করতে চান তার প্রমাণ পাওয়া যায়, যখন
সেনাপ্রধান নির্বাচন কমিশনের থেকে এই দাবী আদায় করতে চেয়েছিলেন যাতে, সেনা শুধু নির্বাচনী অফিসের বাইরে নয়, ভিতরেও যেন প্রবেশ করতে পারে তার অধিকার দিতে হবে, যদিও নির্বাচন কমিশন তাতে রাজি হয়নি। সেনা এবং সেনাপ্রধান যে প্রচ্ছন্ন বার্তা সব মহলকেই দিয়ে রাখলেন তা বলাই বাহুল্য। যে প্রাক্তন সেনা কর্তাকে দিয়ে সেনাপ্রধান ৫ই আগস্ট সব দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি তদরকী সরকার গঠনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সেই প্রাক্তন সেনাপ্রধানই বলছেন যে, এবার সেনাশাসন লাগু হতে যাচ্ছে। সেনাপ্রধানের বক্তব্যে এটি তখনই সম্ভব, যদি এই নির্বাচন ভেস্তে যায়। বা রাজনৈতিক দলগুলি ব্যর্থ হলে তখন সেনাপ্রধান আবার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। মানে ঐ যে এক লক্ষ্য সেনা মাঠে আছে তারা এবার ক্ষমতার দখল নেবে। যদিও সেনা শাসনের নিয়ম হল হলো বেসামরিক সরকার ভেঙে দিয়ে সামরিক বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, যেখানে দেশের সাধারণ আইন স্থগিত করে সামরিক আইন বা কমান্ডারের নির্দেশ কার্যকর করা হয়। সাধারণত জরুরি পরিস্থিতি, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, বা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনা শাসন জারি করা হয়।এই তদারকী সরকার যে পাহাড় পরিমান দূর্নিতী করেছে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল হাসিনার সময় দেশে ঋনের পরিমান ছিল ২ লক্ষ্য কোটি টাকা। বর্তমানে যা ২৩লক্ষ্য কোটিতে দাঁড়িয়েছে। বানিজ্য উপদেষ্টা এটা বললেন না যে হাসিনা ছেড়ে যাওয়ার সময় দেশে ঋনের পরিমান কত ছিল। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে তদারকী সরকারের সময়ে কতটা ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে তা বলা হয়নি। ফলে সেনা যে কি করবে ভোটে এবং ভোটের পরে তা কেউ আগাম বলেতে পারবে না।












Discussion about this post