বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন করানোর কথা বলেছিলেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছিলেন, এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট এমন এক উচ্চতায় পৌঁছবে, যা দেখতে আসবে গোটা বিশ্ব। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এই ভোট দেখে গিয়ে তাঁদের দেশের জনগণকে শোনাবেন, যে বাংলাদেশে এমন একটা ভোট হল যা গোটা বিশ্বের জন্য রোল মডেল হতে পারে। কিন্তু তা হওয়ার আর কোনও সম্ভাবনা নেই। কারণ এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে না এসেছে জাতিসংঘ, না এসেছে আমেরিকা বা ইউরোপীয় দেশগুলির পর্যবেক্ষকরা। এমনকি ভারতও কোনও পর্যবেক্ষক পাঠায়নি বাংলাদেশে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। এর অন্যতম কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মহল তুলে ধরছে আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ ও প্রাচীন রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে এই নির্বাচন মোটেই অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না। তাই এই নির্বাচনকে মোটেই গুরুত্ব দিতে নারাজ ইউরোপ-আমেরিকা। ফলে এই পরিস্থিতিতে মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে আরও কিছু সময় ক্ষমতায় টিকে থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। কেউ কেউ দাবি পর্যন্ত করেছিলেন, তিনি এবার জোর করেই যমুনায় ক্ষমতা আঁকড়ে বসে থাকবেন। আর এর জন্য তিনি একটি ক্ষেত্রও প্রস্তুত করে রেখেছেন।
কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচনের দিন দুয়েক আগে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস অবশ্য জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এবং গৌরবের সঙ্গে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে, তাঁদের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যাব। আমরা এই শুভ মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি’।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ভোট নিয়ে প্রভুত সংশয় ও টানাপোড়েন ছিল। এমনকি ভোটের কয়েকদিন আগেও যেভাবে বাংলাদেশে ক্রমাগত রাজনৈতিক হিংসায় মৃত্যু ও সংখ্যালঘুদের হত্যার মতো ঘটনা ঘটছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। আবার দিন কয়েক আগেই ঢাকা এবং চট্টগ্রামে পরপর কয়েকটি বিক্ষোভ আন্দোলন এবং প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা দখলের চেষ্টা দেখে অনেকেই দাবি করতে শুরু করেছিলেন যে এটা ভোট বানচালের প্রচেষ্টা। অনেকেই দাবি করছিলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার এবং তাঁর দোসররা চাইছেন এই ভোট যেন না হয়। তাই নতুন করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি। তবে ভোটের ঠিক প্রাক্কালে মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই স্বীকার করেছেন, যে এই বিশৃঙ্খলা মোটেই কাম্য ছিল না।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী রিয়াজ জানিয়েছিলেন, নতুন সরকার গঠনের আগে সংসদ কাজ করবে গণপরিষদ হিসেবে। তাঁরা প্রথম ছয় মাস সংবিধান সংস্কার করবে। এখনেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ইউনূস সরকার আরও ছয়মাস টিকে থাকতে চাইছে। ভোটের পর কোনও দল বা জোট মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারবে না? ইউনূসের রাজত্বে সবই সম্ভব। ভোটের আগের দিন সন্ধ্যে থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে দেখা যাচ্ছে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের দখল নিয়ে ব্যাপকহারে ছাপ্পা ভোট চলছে। আবার কোথাও কোথাও রেজাল্টশিট তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাতে একটা বিষয়ই স্পষ্ট যে এই ভোটের মূল্য খুব কম। বৃহস্পতিবার সকালেও খোদ ঢাকাতেও অনেকে অভিযোগ করছেন, তাঁরা ভোট দিতে গিয়ে শুনেছেন তাঁদের ভোট হয়ে গিয়েছে। ফলে এখন ইউনূস সাহেব যাই বলুন না কেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে একটাই শঙ্কা, তিনি না আঁচালে বিশ্বাস নেই। অর্থাৎ, নোবেলজয়ী যে আদৌ যমুনা ছাড়বেন, তা এখনও বিশ্বাসযোগ্য নয়।












Discussion about this post