প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেশের সেনাবাহিনীতে ক্ষমতা পেয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে বড় পরিবর্তন তারেক সরকারের!ভারতই যে ‘বন্ধু’ বুঝিয়ে দিলেন একটি পদক্ষেপেই। এমনকি কান্ড ঘটিয়ে বসলেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান?
আসুন সেই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদনে আলোচনা করা যায়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বড় পরিবর্তন আনলেন তারেক রহমান। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ঠিক করতেও তৎপর ঢাকা-দিল্লি।
দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় বর্মা।বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শীর্ষ পর্যায়ে এই পরিবর্তনের মধ্যে নতুন চিফ অব জেনারেল স্টাফ CGS নিয়োগ-সহ বেশ কয়েকটি কৌশলগত কমান্ড এবং দেশের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থায় বদলি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সদ্য দায়িত্ব নেওয়া প্রয়াত খালেদা জিয়া পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনাবাহিনীর ওপর নিজের প্রভাব আরও সুসংহত করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে কি সব জেনে বুঝেই প্রথম কোপ পড়তে চলেছে বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারের উপর? এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।প্রসঙ্গত এর আগে মহম্মদ ইউনূস সরকারের আমলে নেতৃত্বাধীন সরকার শেখ হাসিনার অপসারণের পর সেনাবাহিনীতে রদবদল করেছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে তারেক রহমানের দল দায়িত্ব নেওয়ার পরেই বড়রদবদল আনা হল বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে।সেনা সদর দফতর থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম মাইনুর রহমানকে নতুন চিফ অব জেনারেল স্টাফ যাক পোশাকি নাম CGS হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড ARTDOC-এর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং GOC হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীমের স্থানে দায়িত্ব নিলেন।মেজর জেনারেল কায়সার রশীদ চৌধুরীকে ডিরেক্টর জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি আর্মি সদর দফতরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতির পর তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের স্থানে তাঁকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রদূত হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ে এই পরিবর্তনের মধ্যে নতুন চিফ অব জেনারেল স্টাফ নিয়োগ-সহ বেশ কয়েকটি কৌশলগত কমান্ড এবং দেশের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থায় বদলি করা হয়েছে।পাশাপাশি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানকে ডেকে পাঠাল বিএনপি। তিনি একদা ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পদোন্নতি করে ৫৫তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং যাক পোশাকি নাম জিওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানের পরিবর্তে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মির মুশফিকুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কামরুল হাসানকে বিদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ৫৫তম পদাতিক ডিভিশনের সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলামকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টার-এর কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর এই বড় ধরনের রদবদল নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রশাসনিক ও কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।উল্লেখ্য,শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে সর্বশেষ রদবদল করা হয়েছিল সেনাবাহিনীতে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর নতুন সিজিএস অর্থাৎ চিফ অফ জেনারেল হয়েছেন এম মইনুর রহমান। এর আগে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডে কর্মরত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীমের জায়গায় তাঁকে নিয়োগ করেছে বাংলাদেশের নতুন সরকার। কায়সার রশিদ চৌধুরীকে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।তিনি সেনা সদর দপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতির পর তিনি এই পদ গ্রহণ করবেন। আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসানকে বিদেশ মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে। কোনও দেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের জন্য তাঁকে বিদেশমন্ত্রকে বদলি করা হচ্ছে।তাঁর জায়গায় নিয়োগ করা হয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়েছে তাঁকে। বাংলাদেশের পদাতিক বাহিনীর ৫৫তম ডিভিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাফিজুর রহমানকে। ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। তারপরই সেনাবাহিনীতে রদবদল করা হল। এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে মহম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন চিফ প্রসিকিউটর অর্থাৎ মুখ্য সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে আইনজীবী মহম্মদ আমিনুল ইসলামকে। এখানেই প্রশ্ন জাগছে তবে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ ক্ষেত্রেই তারেকের নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত আগামী দিনে সেনাবাহিনীতে যে আমল পরিবর্তন ঘটছে তার সাথে চাকরি হারাতে চলেছে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান তা আজ তারেক রহমান সরকারের পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।












Discussion about this post