রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বাংলাদেশের একটি দৈনিককে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ইউনূস শাসনামলে এটা তাঁর দ্বিতীয় বৃহত্তম সাক্ষাৎকার। এই সাক্ষাৎকারের আগে তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকার নিয়ে পদ্মাপারে কম বিতর্কের জন্ম দেয়নি। তবে সেই সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকার। সেই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বিএনপির প্রশংসা করেছেন। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, এই দেড় বছরে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার নানা কৌশল করা হয়েছিল। তাঁকে বিভিন্ন অধ্যাদেশে চাপ দিয়ে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, গত দেড় বছর ধরে তিনি বঙ্গভবনে চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি ছিলেন। অসাংবিধানিক চাপ, অপসারণের চক্রান্ত, প্রেস উইং খালি করে দেওয়া, বিদেশ সফর আটকে দেওয়া – এ সব তো ছিলই। এমনকী ইদের নমাজ পড়তে জাতীয় ইদগাহে যেতে দেওয়া হয়নি। বাইপাস সার্জারির পর ফলোআপের জন্য তাঁর সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা ছিল। তদারকি সরকার তাঁকে বিদেশ যাওয়ার ছাড়পত্র দিতে অস্বীকার করে। তিনি নিজে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান মানেননি। বিদেশ সফরের রিপোর্ট দেননি। বিদেশি মিশন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি নামিয়ে ফেলেছে। এমনকী একজন প্রাক্তন এক বিচারপতিকে অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ দেওয়ারও চেষ্টা হয়। এর মধ্যে সব চেয়ে গুরুতর অভিযোগ হল সংবিধানের ১৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশ থেকে ফিরে বিদেশি চুক্তি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা। যা কখনও করেননি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সংবিধানের ৭ এবং ৭ (ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে সংবিধান লঙ্ঘন মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। রাষ্ট্রপতি নিজে এটা জানতেন তবুও তিনি কোনও আইনি বা সাংবিধানিক পদক্ষেপ করেননি। কারণ, তিনি বলেছেন আইনি জটিলতা ও ব্যুমেরাং হওয়ার ভয়ে। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, এড়িয়ে গিয়েছি। চিন্তা করেছি যতটা নির্ঝঞ্ঝাট থাকা যায়। তাই, নীরবে সয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।
এই সাক্ষাৎকার তাঁর রাষ্ট্রপতি পদের মেয়দা পূর্ণ করার বিষয়টি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, সংসদে তিনি যখন ভাষণ দিতে উঠবেন, সেই সময় জামাত সহ বিরোধী দল যে তাঁকে পদে পদে বাধা দেবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত রাজনৈতিকমহল। তারা কি সম্মানের সঙ্গে বক্তব্য পেশ করতে দেবেন? তারেক রহমানও হয়তো বুঝতে পেরেছেন যে রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। অনেকে বলছেন, ওই কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারই তাঁর কাল হল। রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বিএনপির বাইরে ভিতরেও আলোচনা চলছে। সংবাদমাধ্যমে রীতিমতো আলোচনা চলছে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে চলেছেন। তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির প্রতি তাঁর সৌজন্য বাড়িয়েছেন। বিডিআর হত্যাকাণ্ডে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর মনে কী আছে, সেটা বলা মুশকিল।
ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে জামায়াত। দলটি আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ৫ অগাস্ট বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অনেক কিছু চেপে গিয়েছেন। তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘৫ অগাস্ট ২০২৪-য়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অনেক কিছু চেপে গিয়েছেন। পতিত পলাতক প্রধানমন্ত্রী বিষয়ে উনি উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে যা বলেছিলেন এবং পরবর্তী জাতিকে যা জানিয়েছিলেন, তাঁর বর্তমান বক্তব্যকে তিনি তা স্বীকার করেননি। আর এখন যা বলছেন, সেদিন তাঁর কিছুই করেননি।’ শফিকুর রহমান আরও লিখেছেন, ‘কোটি কোটি মানুষ যা শুনল এবং সেদিন তিনি যা বললেন, আর এখন যা বলছেন, তার হিসেবে রাষ্ট্রপতি মিলিয়ে দেবেন কী?’ পোস্টের শেষের দিকে জামায়াতে আমির লিখেছেন, ‘জাতি অবুঝ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এরকম আচরণ অগ্রহণযোগ্য। ’
এদিকে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার। আইনি নোটিশে বলা হয়, জুলাইকে অসম্মান করে সাম্প্রতিক বক্তব্য দেওয়ার রাষ্ট্রপতি চুপ্পু শপথ ভেঙেছেন। তাই, তাঁকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে উদ্বোধন করাতে সংসদ সচিবালয় ও আইন সচিবকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে পদক্ষেপ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী নেওয়া হবে।












Discussion about this post