“Better late then never”। এই বহুশ্রুত কথাটি আমরা কমবেশি সকলেই জানি। প্রতিবেদনের সূত্রে এই বহুশ্রুত প্রবাদটির উল্লেখ করতে হয়।
তারেক রহমান তখনও ক্ষমতায় আসীন হননি। তিনি তখন প্রবাসে। বাংলাদেশে তদারকি সরকার। হিংসার আগু যেন দাবালনের মতো ছড়িয়ে পড়িয়েছে। আগুন এতটাই ভয়ংকর যে তাকে নিয়ন্ত্রণ আনাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশজুড়ে জুলাই যোদ্ধাদের দাপাদাপি। নির্বিচারে চলছে হত্যাযজ্ঞ। সেই হত্যালীলার হাত থেকে রক্ষা পায়নি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী। পদ্মাপারে ঘটেছে পালাবদল। অবৈধ তদারকি সরকার এবং সেই সরকারের প্রধান বিদায় নিয়েছেন। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশে চলতে শুরু করেছে গণতন্ত্রের রেলগাড়ি। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কাঁধে রয়েছে বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পুলিশ হত্যার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
জুলাই জঙ্গিদের বিচারের আওতায় যাতে কোনওভাবে কেউ নিয়ে আসতে না পারে, তার জন্য তদারকি সরকার জারি করেছিল জুলাইয় যোদ্ধাদের দায়মুক্ত অধ্যাদেশ। সেটার অনুমোদনও হয়। জুলাই যোদ্ধাদের এটি এক ধরনের রক্ষাকবচ। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে পালাবদল ঘটলেও অবস্থার বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। দেশের কোনও না কোনও প্রান্তে ঘটে চলছে হিংসাত্মক ঘটনা। তারেক রহমান সেই সব ঘটনার কতটা মোকাবিলা করতে পারেন, সেটা এখন লাখ টাকা নয় কোটি টাকার প্রশ্ন। তবে নতুন সরকার জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশ হত্যার বিচার হবেই। কিন্তু যে সরকার মববাজ গোষ্ঠীকে সংসদে যাওয়ার রাস্তা করে দিয়েছে, সেই সরকার জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করবে কি না, তা নিয়ে পদ্মাপারের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পুলিশ হত্যার হোতা হাসনাত, সারজিস, নাহিদ, পাটোয়ারিকে কি গ্রেফতার করা হবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব তথা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য জানিয়েছেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার তদন্তের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলেছন, সেটাই হবে। এ ছাড়া যদি প্রয়োজন মনে হয় পুনঃতদন্তের, তাহলে নিশ্চই পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে। বর্তমানে বিষয়গুলি আদালতে রয়েছে। তাই আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে।” আলমগীর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা শুনে আসছিলাম, ফ্যাসিস্ট সরকার রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল ও অকার্যকর করে ফেলেছিল। নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেসব প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সুশাসনের কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।’ ২০২৪ জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে রক্তাক্ত করে হত্যা সন্ত্রাসের খেলা শুরু হয়, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এটা ছিল স্বতস্ফূর্ত আন্দোলন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বাস্তবতা উন্মোচিত হয়েছে ভয়ংকরভাবে। সেই আন্দোলনের নামে হয়েছে পুলিশ হত্যা, থানা দখল করে অস্ত্র লুঠ, মব সন্ত্রাস। তারেক রহমান ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরে পরেই সেই ঘটনাগুলি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। প্রশ্ন হচ্ছে হত্যাযজ্ঞের হোতারা আদৌ বিচারের মুখোমুখি হবেন? বিএনপি সরকার তাদের কাঠগড়ায় তুলবে? বা তুলতে গেলে তাদের কি কোনোভাবে বাধা দেওয়া হবে? সেই চাপের কাছে তারেক রহমানের সরকার কি নতি স্বীকার করতে বাধ্য হবেন? ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে, তারা জড়িত ছিল বলে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছিল, ৪৪ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা যদিও এত কম সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি মানতে নারাজ, তাদের মতে, নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তদন্তের দাবি ওঠালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। তবে নতুন সরকার আসার পর পুলিশ হত্যা এবং স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলোর তদন্তে গ্রিন সিগন্যাল মিলেছে। দেড় বছরেও তদন্ত না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সরকারের শীর্ষ মহলের কেউ কেউ। এসব ঘটনার মাত্র পাঁচটিতে মামলা হয়েছে; আটক হয়নি কেউ।
এই তদন্ত কার্যক্রম কেবল অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে সত্য উদঘাটনে কাজ করা। কারণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলেই কেবল রাষ্ট্রে স্থায়ী শান্তি ও আস্থা ফিরে আসবে।












Discussion about this post