ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। কারণ ওই হামলায় নিহত হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেইনি। পাশাপাশি জানা গিয়েছে ওই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান-সহ উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন পদাধিকারী নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে খামেইনির মৃত্যুর খবরে শোরগোল পড়েছে বেশি। এই ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শোক ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। আবার কোনও কোনও দেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। আবার কিছু দেশ খুব সাবধানী ও সাদামাটা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হচ্ছে বাংলাদেশের তারেক রহমান সরকার। “ধরি মাছ না ছুঁই পানি” গোছের একটা বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশে নতুন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘটনা হল, ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে দাবি করে এর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে গোটা বাংলাদেশে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে কি পুরোপুরি মার্কিন নীতিতেই চলছে তারেক রহমানের বর্তমান সরকার?
গত শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরান-সহ বেশ কয়েকটি শহরে আচমকা ক্ষেপনাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী। ওই হামলা এতটাই নিখুঁত ছিল যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেইনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং সে দেশের কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকের প্রাণ যায়। এতবড় প্রত্যাখ্যাতেও দমে যায়নি ইরান। শনিবার সকাল থেকেই তাঁরা পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে একসাথে ক্ষেপনাস্ত্র ছোড়ে ইরান। এই হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও কার্যকর বিমানবাহী রণতরী উএসএস আব্রাহাম লিংকনে চারটি ক্ষেপনাস্ত্র হিট করেছে ইরান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের এই পাল্টা হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সেখানে খামেইনি হত্যার কোনও প্রসঙ্গই উল্লেখ করেনি তারেক রহমানের সরকার। যা কূটনৈতিক মহলে গভীর কৌতূহলের উদ্রেক করেছে। ঘটনাচক্রে বাংলাদেশ সরকারের এই বিবৃতিতে কোথাও যুক্তরাষ্ট্র বা ইজরায়েলের নাম উল্লেখ নেই। ফলে ওই বিবৃতিটি প্রকাশের পর সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরণের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে। অপরদিকে বাংলাদেশের কূটনীতিক বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকরা এই বিবৃতিকে কার্যত ‘একপেশে’ বলে দেগে দিচ্ছেন। সে দেশের কূটনীতিক মহলের বিশ্লেষণ, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত ন্যায় সঙ্গত হওয়া উচিত ছিল। আমরা জানি না এই বিবৃতি কী কারও চাপে পড়ে দেওয়া হয়েছে, নাকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজে থেকেই দিয়েছে! যেটাই হোক, এই বিবৃতি মেনে নিতে পারেনি বাংলাদেশের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য সহযোগী দলগুলো। তাঁরা ইতিমধ্যেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে হাজার-হাজার ছাত্র-জনতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান উপস্থিত হন।
যদিও খামেইনির মৃত্যুর খবর এবং ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনার পর শনিবার সন্ধ্যাতেই জরুরি বৈঠকও করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আরেকটি বিবৃতিও দিয়েছে। রবিবার সকালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেইনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই বাংলাদেশে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে জামায়াত-সহ অন্যান্য ইসলামিক সংগঠনগুলি। কিন্তু তারেক রহমানের সরকার এই ইস্যুতে কোনও মন্তব্য না করে পাল্টা ইরানের হামলা নিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় প্রবল ক্ষিপ্ত জামায়াত। তাঁদের মতে, তারেকের সরকার এখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গুলিহেলনে চলছে। তাই তাঁদের খুশি করতেই এই ধরণের বিবৃতি এল। কারণ ইরান ইস্যুতে ভারতও প্রায় এক ধরণের বিবৃতি দিয়েছে।












Discussion about this post