ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের শেষে বাংলাদেশের আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছে । সমালোচনা রয়েছে যে, এই সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন, বিচারবহির্ভূত ব্যবস্থা, এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হয়রানি বেড়েছিল, যা আইনের শাসনের মূলনীতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন একের পর এক কার্যকলাপ করেছেন। নিজের হাতে ছিল ক্ষমতা সব কিছু ঘটনা ঘটে যাবার পর , অন্যায় দেখার পরও তিনি নীরব ছিলেন। যারা দোষী তারা ইউনূসের আমলে শাস্তি পেতেন না। খোলা ময়দানে রীতিমতো ঘুরে বেড়াতেন। যে সরকারে থাকে পুলিশের নিয়ন্ত্রাধীন থাকে তার ওপরে। ইউনূস থাকাকালীনও সেই একই ছবি দেখা যায়। পুলিশ, বিচার ব্যবস্থা সব কিছুই নিজেই কন্ট্রোলে রাখতেন। যাওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি যা যা পেরেছেন সব করে গেছেন। ড. ইউনুসের ৯ মাসে ৯টি সুবিধা, একে দুর্নীতি না দক্ষতা বলা যায়? সে নিয়েও যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। গত ৯ মাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে যে নাটকীয় এবং অস্বচ্ছ পরিবর্তন ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়। গণতান্ত্রিক শাসন, জবাবদিহিতা, ও স্বচ্ছতার যে স্বপ্ন জাতি দেখেছিল, বাস্তবে তা রূপ নিয়েছে একটি সুপরিকল্পিত ‘দখল প্রক্রিয়ায়’। পর্দার আড়ালে কেউ কেউ রাষ্ট্রযন্ত্রের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন যার অন্যতম রূপকার ড. মুহাম্মদ ইউনুস। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক মহলে একাধিক নাম শোনা যায়, যেমন, আসিফ, মাহফুজ, নাহিদ, সারজিস, হাসনাত—যেন সকল অনিয়ম ও অশুভ পরিকল্পনার দায়ভার তাদের কাঁধেই বর্তায়। কিন্তু প্রকৃত সত্য হল, এরা কেবল পুতুল মাত্র। আসল চালক, মূল দিকনির্দেশক আর সুবিধাভোগী ব্যক্তি হলেন ড. ইউনুস স্বয়ং। ইউনূসের ক্ষমতায় থাকার সময়ে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। তারপর তিনি কারাগারে ছিলেন। অবশেষে ইউনূসের জামানা শেষ হতে হতে তিনি পেলেন জামিন। হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে চারটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে স্থায়ী জামিন দেয় হাইকোর্ট।রবিবার বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ খায়রুল হকের চারটি পৃথক জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদেশ দেওয়া হয়। তবে জামিন হলেও এখনই কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি। আইনজীবীর তরফ থেকে বলা হয়েছে, তাঁকে একটি দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বছরের ২৬ অক্টোবর করা জামিন আবেদনের পর অন্য একটি বেঞ্চ এসব রুল জারি করে রাষ্ট্রপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছিল, কেন খায়রুল হককে এসব মামলায় জামিন দেওয়া হবে না।শুনানির সময়ে অন্য আইনজীবীরা সওয়াল করেন জামিনের জন্য। তারা বলেন, প্রায় ৮০ বছর বয়সী বিচারপতি খায়রুল হক হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্তে তেমন অগ্রগতি নেই এবং এ পরিস্থিতিতে তাকে জামিন দেওয়া যেতে পারে বলে আইনজীবীরা হাইকোর্টকে বলেন। জাহিরুল ইসলাম সুমন, নাহিদ হাসানসহ আরও অনেকে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন। প্রসঙ্গত, খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১১ সালের ১০ মে এক রায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দেন। যার মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে চালু হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও বাতিল হয়ে যায়।জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে পুলিশ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে এসব মামলাতেও গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে সবকটি মামলা বিচারাধীন। এখন দেখার জল কতদূর এগোয়।












Discussion about this post