২০২৫ সালের হাদি হত্যাকাণ্ড ভোটমুখী বাংলাদেশের বেহাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নগ্ন ছবি ধরা পড়েছিল। ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরেও যথেষ্ট আলোড়ন ফেলেছিল। সেসময় বাংলাদেশ পুলিশের তরফ থেকে তদন্তকারীরা অভিযোগ তুলেছিলেন যে, হাদির খুনিরা পালিয়ে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। কিন্তু নয়াদিল্লির তরফ থেকে সেই অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দেয়। তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস আশ্বাস দিয়েছিলেন সেই সময়, হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার করে প্রকৃত বিচার করা হবে। কাউকে ছাড়া হবে না। সেই মতো, শোনা গিয়েছিল তাঁর হত্যাকারীরা ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার হল হাদিকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ২ জন। বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের STF। দুই অভিযুক্তের নাম, রাহুল ওরফে ফয়জল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেন। জানা গিয়েছে, ফয়জল পটুয়াখালির বাসিন্দা এবং আলমগিরের বাড়ি ঢাকায়। ওসমান হাদিকে খুনের পর ওই ২ অভিযুক্ত মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল । এসটিএফ সূত্রে খবর, মেঘালয় দিয়ে ভারতে ঢুকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছিল ২ অভিযুক্ত। শেষ পর্যন্ত বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নেয় ২ অভিযুক্ত। ঘটনার তিনমাস পর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হল খুনিরা। গোপন সূত্রে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এসটিএফ খবর পায়, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি এবং খুন-সহ একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত ২ জন পালিয়ে এসে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং বনগাঁ সীমান্তে গা-ঢাকা দিয়েছে। ফের বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এসটিএফ। প্রথমে আটক করা হয় ফয়জল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগির হোসেনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়,দুজনে বাংলাদেশে ওসমান হাদিকে খুন করে পালিয়ে ভারতে যায়। এরপর অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। আদালতেও পেশ করা হয়েছে ২ জনকে। ত ১২ ডিসেম্বর জুম্মার নমাজের পর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকা দিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন হাদি। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। মাথায় গুলি লাগে হাদির। দ্রুত ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠায়। কিন্তু সেই দূর দেশ থেকে ফেরে হাদির মৃত দেহ। মাথায় গুলি লাগায় বাঁচানো সম্ভব হয় না তাঁকে। এরপরেই হাদি-কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত হিসাবে ফয়জ়লকে চিহ্নিত করে ঢাকা পুলিশ। আটক করা হয় তাঁর গোটা পরিবার। এছাড়াও গ্রেফতার করা হয় ১১ জন অভিযুক্তকে। মোট ১৩ জনকে করা হয় গ্রেফতার। বাংলাদেশে হাসিনার সরকারের পতনের পরে ১৮ মাস বাংলাদেশে শাসন করেছেন মহম্মদ ইউনূস। তার আমলেই খুন হতে হয় ওসমান হাদিকে। সেই নিয়ে বাংলাদেশে বিক্ষোভও হয় দীর্ঘ দিন, কিন্তু কিছুতেই সহজেই ধরা পড়েনি হাদির হত্যাকারীরা। বহু ঘটনার পর বাংলাদেশে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসেন বিএনপির নেতা তারেক রহমান। তারেকের ক্ষমতায় আসার পরে শুরুতেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেরও উন্নতি হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। শাসনক্ষমতায় এসেই তিনি দেশ সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছেন। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বোন মাসুমা হাদি। সোমবার সকালে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকার বাড়িতে বসে একটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারের সময় তিনি একথা জানান। মাসুমা হাদি বলেন, ‘ফয়সাল একজন শুটার। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে আমরা কিছুটা আশাবাদী হাদির মৃত্যুর তার বিচার হবে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কারা জড়িত, ফয়সালকে কে নির্দেশ দিয়েছে, কে অর্থ জুগিয়েছে এবং কারা তাকে জেল থেকে জামিনে বের করতে সহায়তা করেছে, এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করা প্রয়োজন।’ এখন দেখার হাদির মৃত্যুর ঘটনায় আর কারা জড়িত, তারা এখন কোথায় রয়েছে তাদের মূল উদ্দেশ্যে বা কী ছিল সবটাই তদন্ত সাপেক্ষ ঘটনা।












Discussion about this post