যারা রাস্তায় নেমে হাদি হত্যার বিচার চাইছিল এখন যদি হাদির হত্যাকারী হিসাবে তাদেরই বিচার করতে হয়, তবে তারা কি করবে। সরকার বদলে গেছে। হাদিকে হত্যা করে ভোট বাঞ্চাল করে দিয়ে বিএনপির ক্ষমতায় আসাকে যারা আটকাতে চেয়েছিল, তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। হাদিকে হত্যা করে তার জানাজায় যারা প্রথম সারিতে ছিল, এখন হাদিকে হত্যার দায়ে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে জেলের ভাত।হাদির জানাজা থেকে ফিরে যারা মদের আসর বসিয়েছেল, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন জেলযাত্রা। হাদি হত্যার প্রকৃত তদন্ত হলে বেরিয়ে আসবে জুলাই যুদ্ধকারী অনেক বড় বড় মাথাদের নাম। অস্থির বাংলাদেশ আরও অস্থির হতে চলেছে হাদি হত্যাকে কেন্দ্র করে। যদিও হাদির পরিবার জানত কারা হাদিকে মেরেছে। পরিবারের অনেকেই তো সত্য চেপে যাওয়ার জন্য পুরস্কারও পেয়ে গেছে ইউনূস সাহেবের কাছ থেকে। আসলে অনেক গুলি পরিকল্পনা নিয়ে ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছিল। হাদির প্রকৃত হত্যাকারীরা ধরা পড়ার পর বলতে হচ্ছে তাদের সেই সব ষড়যন্ত্র বিফলে গেল। এখন প্রকৃত হত্যাকারী বলতে হচ্ছে এই কারণে যে, হাদির হত্যাকে কাজে লাগিয়ে ইউনূস সাহেব চাইছিলেন ভোট বানচাল করতে, ভারত আওয়ামীলীগ এবং ভারতের গোয়েন্দা বিভাগকে দোষী করতে, তাই সেগুলি প্রমান করার জন্য বেশ কিছু সাজানো হত্যাকারীকে গ্রেফতার করিয়েছিল তৎকালীন ইউনূস সরকার। এবং বেশ কিছুদিন ধরে তদন্ত আর বিচার,বিচার নাটকও চলছিল। কিন্তু শনিবার জানা গেল ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। গত ৭ মার্চ গভীর রাতে ভারতের বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স—এসটিএফ। আর এই খবর প্রকশ হওয়ার পর ঢাকার পূর্ববর্তী সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের দাবী এবং বিশ্বাস যোগ্যতা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ভারতের গোয়েন্দারা বলছে দুই বাংলাদেশি তাদের দেশে চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে—এমন গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আগে থেকেই তাদের কাছে ছিল। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকার পর সুযোগ বুঝে আবার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিল।ভারতের আদালত তাদের ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে, যা এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত সত্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ মাত্র। এই গ্রেফতারির মাধ্যমে একটা জিনিস পরিস্কার হয়েছে যে হাদি হত্যার ঘটনায় ভারত এবং আওয়ামীলীগকে জড়ানো ও মিথ্যে গুজব ছড়ানোর পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। আবার উল্টোদিকে হাদি হত্যার কিছুদিনের মধ্যে ১৬ই ডিসেম্বর জানানো হয়েছিল ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। এ ছাড়া চারজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি সঞ্জয় চিসিম ও ফয়সাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে তারা জবানবন্দি দিতে সম্মত হন বলে জানা গিয়েছিল। এখন প্রশ্ন হল হাদি হত্যার আসল অপরাধী যদি এখন ভারতে গ্রেফতার হয়ে থাকে তবে জবানবন্দি দেওয়া ঐ ফয়সাল কে। কারা তাকে মিথ্যে অপরাধী সাজিয়ে জবানবন্দি দিতে বলেছিল। প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে একটি সাজানো নাটক চলল। কাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য ঐ নিরীহ মানুষগুলোকে ফাঁসানো হয়েছিল। বিচার শেষ হওয়া পর্যন্ত জুলাই যোদ্ধারা দেশে থাকবে তো।












Discussion about this post