বাংলাদেশে তারেক রহমানের সরকার এসে একাধিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যেগুলি নিয়ে প্রবলভাবে আলোচনা চলছে বাংলাদেশের অন্দরে। এরমধ্যে অন্যতম হল, পাঁচটি দেশের হাইকমিশন থেকে হাইকমিশনারকে প্রত্যাহার করে নেওয়া। সেই পাঁচটি দেশের হাইকমিশনাদের মধ্যে এমনও আছেন, যাঁর বিরুদ্ধে উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার যোগ রয়েছে। যিনি হাইকমিশন দফতরে বসে পাকিস্তানপন্থী নানা কার্যক্রম খোলাখুলি করে গিয়েছেন। একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এমন অনিযোগ বহুদিন থেকে উঠে আসছিল। কিন্তু ইউনূস সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। আর একজন হাইকমিশনার, যিনি বিদেশে বসে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ন্যারেটিভ তৈরি করে নিজের জায়গাটা পাকা করেছেন ইউনূস সরকারের আমলে। যে বিষয়গুলি মেটিকুলাস ডিজাইন করে করা হয়েছিল অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়। এদিকে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই একাধিক পদক্ষেপ করছে। এইরকম পাঁচ রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ৫ দেশ থেকে পাঁচজন রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিএনপি সরকার। অর্থাৎ পাঁচ জামাতপন্থী, পাকিস্তানপন্থী রাষ্ট্রদূতের চাকরি গেল। এখন তারা কী করবেন?
মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের সিদ্ধান্তকে পাল্টে দিয়ে বড় পদক্ষেপ করল তারেক সরকার। ৫ দেশের পাঁচ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের ঘটনায় অনেকে বিএনপি সরকারের প্রশংসা করছে নানা মহল। সেই তালিকায় কারা কারা রয়েছেন? চলুন দেখা যাক।
জানা যাচ্ছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলি হল, যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো এবং মালদ্বীপ। একজন হলেন, ফজল আনসারী। তিনি আওয়ামী লীগের সময়ে বিদেশে বসে থেকে আওয়ামী বিরোধী বিভিন্ন ন্যরেটিভ তৈরি করতেন। এর পুরষ্কার স্বরূপ মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে রাষ্ট্রদূতের পদ পান। এছাড়াও যুক্তরাজ্য ও মেক্সিকো সহ পাঁচটি দেশের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ড. মাহফুজুল হক, মাহমুদ মইদুল ইসলাম, ফজল আনসারী এবং ড. মাহমুদ নাজমুল ইসলাম। তাঁদের প্রত্যাহার করে ঢাকাতে বদলি করা হয়েছে। এছাড়াও যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম। লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর বলেছেন, হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রবাসী কমিউনিটির স্বার্থে কাজ করেননি তিনি বলে অভিযোগ।
হুমায়ুন কবীর যখন শনিবার হিথ্রো বিমানবন্দরে নামেন, তখন তাঁর পাশেই ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান। উপদেষ্টার ঘোষণার পরেই রবিবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। যেখানে হাই কমিশনার আবিদা ইসলাম এবং পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো, মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত রাষ্ট্র যুদ্ধে প্রত্যাহার করে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানাচ্ছে, লন্ডনের ডেপুটি হাই কমিশনার নজরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছেন। তবে বিএনপি সরকারের এই সিদ্ধান্ত নজীরবিহীন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কর্মরত কোনও রাষ্ট্রদূত যে দেশে কর্মরত রয়েছেন, সেই দেশে গিয়ে প্রকাশ্যে সরকারের তরফ থেকে এইভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা বিরল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই ঘটনা সামনে আসতেই অনেকেই আলোচনা করছেন, যাদেরকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার, বিগত দিনে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল। তাঁরা কট্টর পাকিস্তানপন্থী কার্যকলাপ করতেন বলেও একাধিকবার অভিযোগ এসেছে। কিন্তু এতদিন তাঁদের প্রত্যাহার করেননি বা কোনও পদক্ষেপ করেননি। উল্টে তাঁদের পদমর্যাদা বাড়ানো হয়েছে।
এখনও বিএনপি সরকারের বয়স এক মাসও হয়নি। তার আগেই এমন পদক্ষেপ, যা প্রশংসাযোগ্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেউ কেউ বলছেন, তারেক রহমানের খেলা এই শুরু। ক্ষমতায় বসার আগে যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারই লক্ষ্যে তিনি কাজ করে চলেছেন। তবে তাঁর এই পদক্ষেপ বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে কতটা এগিয়ে দেয়, এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post