একে একে পিঠ বাঁচাতে মরিয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উপদেষ্টারা। বাংলাদেশের নির্বাচনের পর ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপরই দেখা যাচ্ছে, ইউনূসের সরকারের আমলে যে দুর্নীতি ও চুরির ঘটনা ঘটেছিল, তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তদন্ত শুরুও হয়েছে। এরপরই কার্যত দিশেহারা ইউনূসের একাধিক উপদেষ্টা এবং উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা। এখন দেখা যাচ্ছে, ওই সমস্ত উপদেষ্টারা কার্যত নিজেদের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ তো আবার প্রমান দিতে শুরু করেছেন। কেন এমন হচ্ছে?
বাংলাদেশের প্রাক্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, তিনি কয়েকদিন আগেই এক টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, যারা কটূক্তি করেছে তাঁদের বিষয়ে নারী সমাজ যেমন প্রতিবাদ করেছে, লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে, সরকারও কথা বলেছে। ফলে তাঁরা ক্ষমা চেয়েছে। সেই সব কটূক্তি করা উগ্রবাদী শক্তি যেন মেইন স্ট্রিম না হয় সেটার বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। এরপরই তিনি দাবি করেছিলেন, নারী সমাজ সে সব কটূক্তি করা উগ্রবাদী শক্তিকে মেইন স্ট্রিম হতে দেয়নি। তাঁর তির যে জামায়াতে ইসলামীর দিকেই ছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রিজওয়ানা হাসানের এই বক্তব্য সামনে আসার পরই প্রবল ক্ষুব্ধ হন জামায়াতে ইসালামী। তাঁরা রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেন। এরপরই পাল্টি খান রিজওয়ানা। তাঁর দাবি, পুরো আলোচনায় তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করেননি, কারণ সেটি প্রশ্নের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ছিল না। বিরোধী দল অবশ্যই মূলধারার অংশ—এ কথা উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমি কোনো দলকে মেইন স্ট্রিম হতে দিইনি বলে যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, সেটা কেবলই অপব্যাখ্যা, অবান্তর এবং বিভ্রান্তিকর। আমার বক্তব্য ছিল উগ্রবাদী শক্তি বিষয়ে, কোনো দলের বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য ছিল না।
এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এক বড় দাবি করে বসেছেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্য কমিশনকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল, আর সুযোগ থাকার পরও অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো দৃষ্টান্ত দেখাতে পারেনি। ইফতেখারুজ্জামানের দাবি হয়তো বা অন্তর্বর্তী সরকারের কোনও কিছু গোপন করার মতো ছিল। যে কারণে পুরো চর্চাটাই ছিল অন্ধকারের মধ্যে। গোপনীয়তার মধ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণীত হতে দেখেছি আমরা। রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন।
অন্যদিকে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অনেক সিদ্ধান্তের তথ্য রাষ্ট্রীয় নথিপত্র ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি বিস্ফোরক দাবি করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর দাবি, ভুল বা সঠিক হোক সব তথ্য জানার অধিকার রাষ্ট্রের নাগরিকদের রয়েছে। তথ্য সরিয়ে ফেলা সেটি আইন পরিপন্থী। এটি তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন, সময়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সিদ্ধান্ত হয়েছে অন্ধকারে। দেড় বছরে তথ্য কমিশনকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এখন একে একে অন্তর্ব্রতী সরকারের যাবতীয় কালো কার্যকলাপের খতিয়ান সামনে আসছে। আর ততই দিশেহারা হয়ে পড়ছেন উপদেষ্টারা। মুহাম্মদ ইউনূস কার্যত অন্তরালে চলে গিয়েছেন।












Discussion about this post