১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ২০২৬ সালে এসে আওয়ামী লীগ এই দিনটি ঘটা করে পালন করার উদ্যোগ নিয়েছিল। যদিও বিগত ইউনূস সরকারের আমল থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তবে এখন সরকার বদলেছে, নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এসেছে তারেক রহমানের বিএনপি। ফলে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের মতো একটি জাতীয় দিবস পালন করতে বাধা নেই। এই দিনে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে যা বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত, সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিশাল জনসমুদ্রে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোযণা বলে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ। অপরদিকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। ফলে এমন একটা ঐতিহাসিক দিন যদি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোনও কর্মসূচি নেয়, তাহলে বিএনপি সরকার তাতে বাধা দিতে পারবে না বলেই দাবি করেছিলেন শেথ হাসিনা। কিন্তু দেখা গেল, ঠিক উল্টো চিত্র। আওয়ামী লীগকে কোনও কর্মসূচিই পালন করতে দেওয়া হল না। পুলিশ আবার কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার কারণে। ফলে বিএনপি এবার নিজেদের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
৭ মার্চ রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের কাছে মিছিলের চেষ্টা করার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে ধানমন্ডি মডেল থানার পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি জাতীয় পতাকা ও মাথায় বাঁধার ১০টি হেডব্যান্ড উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া দুজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তাঁরা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মিছিলের উদ্দেশে একত্রিত হয়েছিল। তাঁদের মোবাইল ফোনে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারমূলক একাধিক ভিডিও ও ছবি পাওয়া যায়। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর যেভাবে বাংলাদেশ জুড়ে একে একে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খুলে যাচ্ছিল তাতে মনে করা হচ্ছিল হাসিনার দলের বিরুদ্ধে নরম মনোভাব নিচ্ছে বিএনপি। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, আওয়ামী লীগের প্রায় ৪০টি কার্যালয় বা পার্টি অফিসের তালা খোলা হয়েছে বাংলাদেশে। সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দলের কর্মী-সমর্থকরা। তবে এর মধ্যে দুই-একটি জায়গায় এনসিপি ও ছাত্র সংগঠনগুলি আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে পুনরায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলেও জানা গিয়েছে। কিন্তু সবমিলিয়ে বিএনপি সেরকম কিছু করেনি। ফলে শেখ হাসিনা দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন ৭, ১৭ এবং ২৬ মার্চ বাংলাদেশ জুড়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করতে হবে। কিন্তু প্রথম দিনেই ধাক্কা খেলেন তিনি। ফলে পরবর্তী দুই দিনে কি হবে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ঘটনা হল, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে যাওয়া, আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিন হওয়া। উল্টে ইউনূসের জমানার একাধিক উপদেষ্টা, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়া নিয়ে ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এনসিপিও বিএনপির দিকে আঙ্গুল তুলছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি ৭ মার্চ খেলা ঘুরিয়ে দিল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। ২০০৭ সালের এই ৭ মার্চ বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই দিনটিকে সামনে নিয়ে এসে বিএনপি তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দী দিবস পালন করল দেশ জুড়ে। বিএনপির যুক্তি বস্তুত ১/১১-র জরুরি অবস্থাকালীন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের মূল টার্গেট হয়েছিলেন তারেক রহমান। এই কর্মসূচির জেরে কার্যত অন্তরালেই চলে গেল ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটি। উল্টে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মীকে গ্রেফতার করে পাল্টা বার্তাও দিল বিএনপি সরকার। ফলে সামনে কঠিন সময় আওয়ামী লীগের। এটা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post