যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন আমেরিকার কয়েকজন সেনাকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন। তবে কতজন মার্কিন সেনাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট করে কিছু জানাননি। লারিজানি তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, তাঁকে জানানো হয়েছে যে কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করা হয়েছে। এই নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। কারণ, আমেরিকা বলছে, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ইরানের তরফ থেকে যে দাবি করা হয়েছে, সেটা ঠিক নয়। ইরানের হামলায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। আলী লারিজানি জানিয়েছেন, সত্যকে বেশিদিন লুকিয়ে রাখা যায় না। তাই একসময় বাস্তবতা প্রকাশ পাবে। তবে ইরানের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে ইরানের এই বক্তব্য পুরোপুরি মিথ্যে। যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল জানিয়েছেন, ইরান নানা ধরনের মিথ্যে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সেনা আটকের দাবি সেই ধরনের আরও একটি উদাহরণ। আল জাজিরাকে দেওয়া আমেরিকার সেন্ট্রাল কম্যান্ডের এক মুখপাত্র একই দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ইরান মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। এই যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহনীর ছয়জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলে আমেরিকার তরফে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছেন “অপারেশন এপিক ফিউরি। ইরানের একটি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৮০জন শিশু। দক্ষিণ পূর্বের শহর মিনারে একটি স্কুলে হামলার সময় এই শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমের একটি বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ওই স্কুলে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের তরফে চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযোগ অস্বীকার করে হামলার দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে বসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁর দেখা তথ্য অনুযায়ী, এই হামলা ইরান চালিয়েছে। এটা আত্মঘাতী হামলা। ইরানের উদ্দেশ্য ছিল হামলার দায় আমেরিকার ওপর চাপিয়ে দেওয়া।
যুদ্ধ শুরুর একদিন পর, অর্থাৎ ১ মার্চ ইরানের হানায় ছয় মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়। এই ছয় মার্কিন সেনাকর্তা হলেন, ক্যাপ্টেন কোডি এ খার্ক, সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নিকোল এম আমর, সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নোয়াহ এল টিউজেন্স, স্পেশালিস্ট ডেক্লান জে কোডি, মেজর জেফরি আর ও ব্রায়ন, চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার রবার্ট এম মারজান। ডোভার বিমান ঘাঁটিতে মৃতদেহ হস্তান্তরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধে আমেরিকা বড়ো ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তারা ইরানের পুরো দুষ্ট সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে তিনি এখনও ইরানে মার্কিন সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে মনস্থির করেননি। নিউ ইয়র্ক পোস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, অনেক প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা বিদেশে সেনা পাঠাবেন না। তবে তিনি এমন কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে চাইছেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন, এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্রশ্ন হল রাশিয়া কি ইরানের পাশে? নাকি পর্দার আড়ালে আছে রাশিয়ার শক্ত হাত? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের জন্য সমর্থন পেতে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে খবর আসে, ইরান চিনের তৈরি CM302 বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রস্তুতি নিচ্চে। এর ফলে ধারণা তৈরি হয়েছিল, চিন এবার আরও খোলাখুলি ভাবে ইরানের পক্ষে থাকতে পারে।












Discussion about this post