বাংলাদেশ নিয়ে মাঝে মাঝে খুব কৌতুহল হয় একটি বিষয় জানার জন্য। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর কি পাকিস্তান পন্থি মনোভাবাপন্ন মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে বাংলাদেশে। ২৪এর জুলাই অভ্যুত্থান যে বিদেশী ফান্ডের দ্বারা সংগঠিত একটি জঙ্গী আন্দোলোন সেটি জেনে গেছে দেশ বিদেশের সবাই। তাই ২৪ নিয়ে তারাই আনন্দ করবে, যারা পাকিস্তানপন্থি এবং রাজাকারের উত্তরাধিকারী। আজ যারা সংসদে আছেন তাদের মধ্যে যিনি স্পিকার তিনি নিজে মুক্তিযোদ্ধা এবং বীর বিক্রম। যিনি পাক হানাদার বাহীনির সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু আজ সংসদের প্রথম দিনে যা ঘটল তা মুক্তিযোদ্ধাদের লজ্জিত করার কথা। বাংলাদেশের স্পিকার যিনি নিজে বীর বিক্রম, তিনিই কিনা তাদের নামের শোক প্রস্তাব মঞ্জুর করছেন, এক সময় যিনি নিজে এই রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। এই সব দেখার পর দেশের স্বাধীনতা কামী মানুষ, যারা মুক্তযুদ্ধের পক্ষের মানুষ, তারা আরও বেশী করে আওয়ামীলীগের পক্ষ্যে চলে যেতে বাধ্য। বিএনপি এক সময় এই রাজাকার দের নিয়ে সরকার গড়েছিলেন, সেটি ছিল তাদের রাজনৈতিক কৌশল। কিন্তু আজ তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও, সেই সব রাজাকারদের নামে শোক প্রকাশ করছে, যারা এক সময় লক্ষ্য লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করেছে। লক্ষ্য লক্ষ্য মা বোনের উপর অত্যাচার করেছে। তখনও দেশ স্বাধীন হয়নি। মানে নিজের দেশের মানুষের সঙ্গেই এই নির্মমতা করা মানুষগুলোর নামে শোক প্রকাশ মঞ্জুর করছেন তিনি, যিনি এক সময় এই মানুষগুলোর নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন।ঘটনা হল আজ ছিল বাংলাদেশে হাসিনার সরকার পতনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।যেখানে অনেক রোমাঞ্চকর ঘটনার অবতারনা হয়েছিল। কিন্তু যে ঘটনাটি মুক্তিযোদ্ধাদের আহত করেছে সেটি হল, সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা জামাতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের শোক প্রস্তাবে কিছু নামকে যুক্তু করার আহ্বান জানান, তিনি বলেন অতিতে মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন ব্যক্তির নাম অন্তভূক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন দেশের জনজীবনে এই সব ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।তিনি যাদের নাম বলেন, তারা হলেন বিশিষ্ট রাজাকার এবং যুদ্ধঅপরাধী মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, মৌওলানা আব্দুদ সোহবান, আব্দুল কাদের মোল্লা সহ বিভিন্ন রাজাকাররা। যারা দেশের বিচারব্যবস্থায় দোষী সাব্যস্ত এবং কেউ কেউ ফাঁসির সাজা প্রাপ্ত। এদের নামগুলিতে স্পিকারের সম্মতি দেওয়ার সাথে সাথে মনে হল বাংলাদেশ আজ পাকিস্তানের সেই ভাই, যে ভাই আপ্রান চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে রাখতে। কিন্তু প্রশ্ন হল কেন বর্তমান বাংলাদেশ পরিচালনা কারীরা মুক্তিযুদ্ধকে ফেলতেও পারছেনা আবার প্রকৃত সম্মান দিতেও পারছে না।












Discussion about this post