বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রূ তারেক রহমান। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই বিএনপি সরকারের সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশের যৌথভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির লক্ষে কাজ করার বার্তা দিয়েছে ভারত। নরেন্দ্র মোদির মূল লক্ষ্য, একেবারেই গোড়াতেই বেশী মাতামাতি না করে ঢাকার সঙ্গে আদানপ্রদানের দরজাগুলি খোলা রাখতে। পাশাপাশি, ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার দিকগুলি নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যের দিকে তাকিয়ে সম্প্রতি ভারতে এসে একাধিক বৈঠক করে যান বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী। খবরটি সামনে আসার পর থেকে শুরু হয়েছে একাধিক গুঞ্জন। দ্বিপাক্ষিক মহলে চলছে নানা আলোচনা। জানা গিয়েছে, কায়সার রশিদ বৈঠক করেছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন এবং সামরিক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর এস রমনের সঙ্গে। বৈঠকে কথা হয়েছে, কেউ যাতে কোনও দেশের মাটিকে ব্যবহার করে কোনও নাশকতাকে প্রশ্রয় না দেয়। এই বিষয়ে দুদেশের গোয়েন্দারা তারা একমত হয়েছে। গত ১৮ মাসে বাংলাদেশে যে অস্থিরতা তৈরী হয়েছিল তারপর দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের পুরনো পথগুলো সচল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দায়িত্ব নেবার ৫ দিনের মাথায় এই সপর আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ক্যান্টনমেন্টেও। কায়সার রশিদ চৌধুরীর ভারত সফরের সুফল পাওয়া গিয়েছে একেবারে হাতে নাতে। কেন বলছি একথা? কারণ, হাদি হত্যার দুই মূল অভিযুক্তকারী গ্রেফতার হন এপার বাংলার পুলিশের হাতে। বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের STF। দুই অভিযুক্তের নাম, রাহুল ওরফে ফয়জল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেন। জানা গিয়েছে, ফয়জল পটুয়াখালির বাসিন্দা এবং আলমগিরের বাড়ি ঢাকায়। ওসমান হাদিকে খুনের পর ওই ২ অভিযুক্ত মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল । এসটিএফ সূত্রে খবর, মেঘালয় দিয়ে ভারতে ঢুকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছিল ২ অভিযুক্ত। শেষ পর্যন্ত বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নেয় ২ অভিযুক্ত। ঘটনার তিনমাস পর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হল খুনিরা। হাদী হত্যাকারীরা গ্রেফতার হতেই বাংলাদেশে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। dgfi-র তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বরফ গলার ইঙ্গিত পাওয়া গেলও পথ কিন্তু খুব একটা সহজ নয়। এপারা বাংলা- ওপার বাংলা দুজনের টেবিলে দুটি বড় ইস্যু। প্রথমত, শেখ হাসিনা বর্তমানে ২০২৪ র পর থেকে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। পরিচালনা করছেন একাধিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। এই ইস্যুটি দুই বাংলাতেই বড় ধরনের ইস্যু। দ্বিতীয়টি, গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬-র ডিসেম্বরে। চুক্তির মেয়াদ যাতে বাড়ে তার জন্য বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা নানারকম ভাবে চেষ্টা করছে। ২০২৫ সালে ঢাকা সফর করেছিলেন এস. জয়শঙ্কর। তাঁর মাধ্যম দিয়ে ইতিবাচক দিক পাঠানো হয়। দুমাস পর ভারতের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা তারা তারেকের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই সেনা ও গোয়েন্দা বিভাগে বড় রদবদল হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব পান নতুন ডিজিএফআই প্রধান। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর এই দিল্লি সফরকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ভূমিকা বরাবরই দিল্লির কাছে উদ্বেগের।
এবার দুদেশের গোয়েন্দা প্রধানদের বৈঠক সম্পর্ক কোন দিকে যাবে সেদিকে নজর থাকবে প্রত্যেকের।












Discussion about this post