মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে একটা বিষয় বেশ পরিষ্কার – যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তেহরান কাটা কাটা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তারা এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বে না। তেহরানের এই হুমকির বড়ো কারণ, তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে খুন করেছে আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক ঘাঁটি বা তৈল শোধনাগার। তেল ভাণ্ডারেও হামলা চলে। এখন হামলার লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে বেসামরিক এলাকা। ঘরবাড়ি ধবংস হচ্ছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। যুদ্ধের বলি হচ্ছে নিষ্পাপ শিশু। তবুও যুদ্ধে লাগাম পরানো যাচ্ছে না।
এই অবস্থায় আসরে নামলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি আরও একবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজিসকিয়ানকে ফোন করেন। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন ও রাজনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের আহ্বনা জানিয়েছেন। পরে ক্রেমলিনের তরফ থেকে এই ফোনালাপ নিয়ে বিবৃতি জারি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে পুনরায় আলোচনা হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট এই সংঘাত আর বাড়তে না দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরানের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। পেজেসকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং আত্মমর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে রাশিয়ার পূর্ণ সংহতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, “এটি ইরানের বিরুদ্ধে বিনান উসকানিতে আগ্রাসন। ”
এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলে। তবে আলোচনার শেষ দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনও সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়ে যায়। পরের দিন ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে আমেরিকা ও ইজরায়েল। অভিযানের নাম দেওয়া হয় অপারেশন এপিক ফিউরি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইজরায়েল ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে শুরু করে সামরিক অভিযান। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় “অপারেশেন রোয়িং লায়ন।” এই হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। তারা ইজরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানকে প্রযুক্তি ও সামরিক সাহায্য দিয়ে চলেছে রাশিয়া। ফলে, মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিকমহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মাঠে নামলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্ট ৬ মার্চ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ফোনালাপ হয়েছিল ৯ মার্চ। কথা হয় এক ঘণ্টা।
বসে নেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ এরদোয়ান। তিনিও চাইছেন দ্রুত অবসান হোক সংঘাতের। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রতিরোধে ইসলামি বিশ্বের জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এরদোয়ান জানিয়েছেন, তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার জন্য কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। মার্কিন ও ইসলামি হামলাকে গভীর উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে এরদোয়ান বলেন, এটা নেতানিয়াহুর উস্কানির জন্য হয়েছে। সেই সঙ্গে তার সংযোজন, যে কারণে হোক উপসাগরীয় আমাদের ভ্রাতৃপ্রতীম দেশের বিরুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আমরা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি না। এরদোয়ানের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও কথা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে বলা হয়, এরদোয়ান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ না হলে চলমান সংঘাত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করতে তুরস্ক ও সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। কূটনৈতিক সুযোগ দেওয়াই সব চেয়ে যুক্তিসংগত পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন।












Discussion about this post