বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন। প্রথম দিন সংসদে যে দৃশ্য দেখা গেল, সেটা নিন্দা করার মতো ভাষা খুঁজে পাওয়া যায় না। বিউগেলে বাজছে জাতীয় সংগীতের সুর। আর জামায়াতের সদস্যরা বেঞ্চে বসে রয়েছেন। নিয়ম হল জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় উঠে দাঁড়াতে হয়। এটা শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সব দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু জামায়াতের সংসদ সদস্যরা যা করলেন সেটা শুধু বেনজির নয়, জাতীয় সংগতীকে তারা অপমান করেছন। অথচ নির্বাচনের পরে পরে এমনকী কিছুদিন আগেও দলের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, তারা সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। আর জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন তারা যা করে দেখালো তা নিন্দা করার মতো ভাষার অভাব পড়েছে। শুধু কি জাতীয় সংগীতকে অপমান? তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করতে গিয়ে যে ভাষা প্রয়োগ করেছে তা শুধু অসংসদীয় নয়। পাড়ার রকেও এই ধরনের ভাষা সন্ত্রাস হয় কি না, সেটাও বড়ো প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই নির্বাচন আসলে ইউনূসীয় নির্বাচন। সব আগে থেকে সেটিং করা ছিল। ভোটের মাধ্যমে সেই সেটিংয়ে পড়ল সরকারি সিলমোহর। তারেক রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে। আর বিনামূল্যে তাঁর গলায় পরিয়ে দেওয়া হয়েছে জামায়াত ও এনসিপি মাদুলি। সংসদের প্রথম দিনের কার্যপ্রণালী দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রধান দায়িত্ব হবে জামায়াত আর এনসিপির অ্যাজেন্ডাকে বাস্তবায়িত করা। সংসদের প্রথম দিনটি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ তো বটেই, গোটা বিশ্ব দেখেছে সংসদে জামাত আর জুলাই জঙ্গিদের মাস্তানি। শুধু কি তাই, যুদ্ধপরাধীদের প্রতি শোকপ্রস্তাব গ্রহণ কম লজ্জাজনক নয়। এটা দেশের ভবিষ্যতের জন্য মোটেই শুভ সংকেত নয়। এটা কোথায় গিয়ে থামবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।
অনেকে তো বলছেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়েই জামায়াত সংসদে যদিও এই ধরনের আচরণ করতে পারে, তাহলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে হয়তো তারা সংসদ থেকে জাতীয় পতাকা নামিয়ে দলের পতাকা উত্তোলন করত। সংসদে জামাতের আচরণ একটি বিপজ্জনক পথের সূচনা। যা শুরু হয়েছিল ২০২৪-য়ের জুলাই-অগাস্টের জঙ্গি আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। সংসদে সরকারপক্ষে যারা রয়েছে, সেই বিএনপি যেমন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী, জামায়াত, বিএনপিও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। ফলে সংসদ এখন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে শক্তির দখলে। স্পিকারে আসনে যিনি বসেছেন তিনিও। স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তাঁর পরিচয়টা জানিয়ে রাখা দরকার। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী এবং স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার। তিনি মৃত্যদণ্ডে দণ্ডিত একজন আসামী। তাঁর মতন একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে বাংলাদেশের জন্য আগামীদিনগুলি খুব একটা সুখকর হবে না। তবুও এটাই বাস্তবতা। এখন মনে হচ্ছে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারউদ্দিন ঠিকই বলেছেন। তিনি বলেছিলেন জুলাই আন্দোলন না হলে তিনি মুক্তি পেতেন না। ১২ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার তাঁর পক্ষে সম্ভব হতো না। তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন। এখন তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য। সুতরাং, জাতীয় সংসদের যে আদর্শগত চরিত্র বদলে গিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। জুলাই সন্ত্রাসের বড় আউটকাম এটাই। তবে জামায়াত বা এনসিপি জুলাই আন্দোলনেক সন্ত্রাস বলতে কুণ্ঠা বোধ করেন। তাদের কাছে এটা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। এই সংসদ প্রতিষ্ঠা হয়েছে তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার এই স্লোগানের ওপর ভর করে। জুলাই যোদ্ধারা সবাই নিজেদের রাজাকার পরিচয় দিয়ে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। আজ সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব করছে জামায়াত আর কয়েকজন জুলাই সন্ত্রাসী।












Discussion about this post