মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একটা গুঞ্জন তৈরি হয়। সেটা তৈরি হয়েছিল ভারতকে কেন্দ্র করে। সাউথব্লক কেন কোনও প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে না? মধ্যপ্রাচ্যে এত বড়ো অঘটন ঘটার পরেও প্রধানমন্ত্রী মোদি কেন চুপ করে রয়েছেন? সেই সব জল্পনার অবসান ঘটল। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন, প্রধামন্ত্রী মোদি। এই ফোন পশ্চিমা বিশ্বের কাছে একটা বড়ো ধাক্কা। দিল্লি কূটনৈতিকভাবে তেহরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের দিকে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কী এমন ঘটনা ঘটল, যার জন্য ইরানের প্রেসিডেন্টকে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী। আমেরিকাকে ইরান হুমকি দিয়ে বসেছে। তেহরান ওয়াশিংটনকে বলেছে, আমেরিকা যদি পাওয়ার গ্রিডে হামলা চালায় তাহলে পশ্চিমের যত দেশ আছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলকে যে সব দেশ সাহায্য করছে, সেই সব দেশকে তারা অন্ধকারে ডুবিয়ে দেবে। তার জন্য তাদের মাত্র একদিন সময় লাগবে। মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ংকর যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে বিশ্ব। ইরানের হামলার আতঙ্কে থমকে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তৈল বাণিজ্য। বৃহস্পতিবার জানা গিয়েছিল, ইরানের বিদেশমন্ত্রক মৌখিকভাবে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলি যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। তবে ইজরায়েল, আমেরিকা, এবং ইউরোপের সব জাহাজে এখনও নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ইরানের ইসলামিক রেভেলুশনারি গার্ড ফোর্স। কিন্তু পরে ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালি সার্বিকভাবেই বন্ধ রাখা হবে।
এই হুমকির আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফোন পেলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ। বৃহস্পতিবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ানের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং অসামরিক পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে আটকে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণের পথ নিরবচ্ছিন্ন রাখাটাই যে সর্বাধিক গুরত্বপূর্ণ সেটাও পেজেস্কিয়ানকে বুঝিয়ে দিয়েছেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, “‘ভারতীয়দের সুরক্ষা এবং নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণ আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। ভারত শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে। আমরা চাই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক।’ এর আগে বিদেশমন্ত্রকস্তরে দুই দেশের কথা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগাছির সঙ্গে বার তিনেক কথা বলেছেন। তারপরও হরমুজ দিয়ে ভারতের পণ্যবাহী তরীর নিরবিচ্ছিন্ন যাতায়াত সুনিশ্চিত হয়নি। ” ফোনে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে মাসুদ পেজেস্কিয়ান জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তবে তারা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং ইরানের স্কুল ছাত্রীদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর। এদিকে এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে ব্রিকস গোষ্ঠীর ভূমিকার তাৎপর্য তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। এর আগে ১১ মার্চ রুশ এবং পাক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পরে পেজেশিয়ান জানিয়েছিলেন, তিন শর্তে ইরান যুদ্ধ বন্ধে রাজি হবে- আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের ন্যায্য অধিকার মেনে নিতে হবে; সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো হামলা না ঘটে সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এর আগে সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা হয় ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের। সেই সময় হরমুজ প্রণালী নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের তেলবাহী জাহাজ যাতায়াতে তারা কোনও বাধা দেবে না। যদিও গত ১১ মার্চ হরমুজ প্রণালীতে থাইল্যান্ডের একটি জাহাজকে হামলা চালিয়েছিল ইরান। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমীরশাহী থেকে গুজরাতের দিকে যাচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়তে শুরু করেছে। তবে এই পরিস্থিতিতে ঘিরে কেউ যদি অযথা গুজব ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরির চেষ্টা করেন, তা বরদাস্তা করা হবে না












Discussion about this post