ঈদের পর আন্দোলন।
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে এটা একটা আপ্তবাক্যে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, সেই সময় বিরোধী বিএনপি নেতাদের মুখে হামেশাই শোনা যেত ঈদের পর তারা মাঠে নামবেন। ঈদ যায়, পরে ঈদ আসে। বিএনপির নেতাদের আর মাঠে নামতে দেখা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিয়ে একাধিক মিম ও ভিডিও রয়েছে। ওই সব ভিডিও প্রতিটি হাস্যকর। আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় নেই। ক্ষমতায় আসীন হয়েছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। জামায়াত প্রধান বিরোধীদল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল না, তখন তাদের সঙ্গে এই দলের সম্পর্ক কেমন ছিল, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। ভোটের ফল সব ঘুঁটি এবং হিসেব উল্টে দিয়েছে। জামায়াত আর বিএনপি এখন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে, তারা তাদের মতো করে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে। জামায়াত জানিয়ে দেয় তারা ঈদের পর কঠোর আন্দোলনে নামবে। গত ২১ মার্চ ছিল ঈদ। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ। জামায়াতের একজনকে প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি। তাহলে কী তারা আন্দোলনে ইতি টেনেছে? প্রশ্ন উঠছে, জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট কী তবে বিএনপির সেই স্লোগানের উত্তরসূরী হিসেবে কাজ করছে?
শেখ হাসিনা তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন। বিএনপি প্রধান বিরোধীদল। তাদের নেতাদের মুখে মাঝে-মধ্যেই শোনা যেত ঈদের পর তারা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে নামবে। আওয়ালীগ যত বছর ক্ষমতায় ছিল, সেই সময় এক নয়, একাধিক ঈদ পালিত হয়েছে ঘটা করে। বিএনপিকে কিন্তু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে দেখা যায়নি। ২৭টি ঈদ গিয়েছে। ঈদের পর তাদের আর মাঠ দেখা যায়নি। ১৬ বছর পর বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বদলে গিয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করতে পারেনি। ক্ষমতা দখল করেছে বিএনপি। আর জামায়াত প্রধান বিরোধীদল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফলে, তাদের কাছে ঈদের পর আন্দোলনের কথা শোভা পায় না। এখন প্রশ্ন রাজনীতির মাঠ কি আদৌ শান্ত হয়েছে? আর ঈদের পরে আন্দোলনের ভূত এখন জামায়াতের কাঁধে চেপেছে।
গত ৬ মার্চ জুমার নামাজের পর রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়াতুল মোকাররমের উত্তর গেটে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল কোরাম থেকে শুরু হয় পল্টন বিজয় নগর পর্যন্ত যায়। এসময় জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মিছিলে অংশ নেওয়া এক জামায়াত কর্মী বলেন, তারেক রহমানের এই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল জনগণ আর মেনে নেবে না। আন্দোলন করে তারা একটি নতুন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন একটি সরকার গঠন করবে। ওই জামায়াত কর্মীকে এও বলতে শোনা যায়, ‘এই রমজান থেকে আমরা আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখব। আর পবিত্র ঈদের পর এই আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়বে। ভোট চুরি করে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের পতন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। জুলাই সনদ নিয়ে এই সরকার দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সেই প্রতারকদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ছি না।’ মিছিলে অংশ নেওয়া আরও এক জামায়াত কর্মী বলেন, ‘খলিলুর রহমান পূর্বতন তদারকি সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। বিএনপি সরকার তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেছেন। এ থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে উপদেষ্টা পরিষদের তিনি গুপ্তভাবে কাজ ছিলেন। তিনি বিশেষ একটি দলের এজেন্ট হয়ে কাজ করেছেন।’
ঈদ চলে গিয়েছে। পরবর্তী ঈদের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। জামায়াতের কাউকে রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না। অনেকে বলছেন, জামায়াত বুঝে গিয়েছে দেশবাসীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এখন বিএনপির দিকে। তাই, রাস্তায় নেমে কোনও লাভ হবে না। যা কিছু করার সংসদে করতে হবে।












Discussion about this post