চাওয়া-পাওয়ার কোনও শেষ নেই। চাইলেই যদি পাওয়া যায়, তাহলে চাইবে না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। চাইলে না পাওয়া গেলে সেটা পাওয়ার জন্য মন ছটফট করে। সেটা অর্জন করার জন্য একজন নানা রাস্তা খোঁজেন। সেই সঙ্গে চলে ফন্দি ফিকির। একটা ফন্দি কাজ না করলে, দ্বিতীয় একটি ফন্দি তৈরি করা। সেটা না হলে তৃতীয়। মোট কথা যেভাবেই হোক সেটা পেতে হবে। হীরক রাজা দেশে ছবির সেই বিজ্ঞানীর কথা মনে আছে। বিজ্ঞানী চেয়েছিলেন গবেষণাগার। তিনি কিছু একটা আবিষ্কার করবেন বলে গবেষণাগারের আবদার করেছিলেন। সাত লক্ষ মুদ্রা অগ্রিম নিয়েছিলেন। সেটাও রাজা তাঁকে দিয়ে দেন। হীরে চেয়েছিলেন দুই সহস্ররতি। সেটা হীরক রাজা দিতে অস্বীকার করেন। রাজা তাঁর মতিগতি বুঝতেই পারছিলেন না। কিন্তু বিজ্ঞানী একটার পর একটা চেয়ে গিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে জামায়াতে আমিরের কথা ধরা যাক। তিনি অনেকটা হীরক রাজার দেশের বিজ্ঞানীর মতো। ভোট প্রচার থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর চাওয়ার তালিকা। কী কী চেয়েছিলেন তার একটা তালিকা তৈরি করে ফেলা যাক।
জাতীয় সরকারে আসীন হওয়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে চিঠি লেখা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ, গণভোট অধ্যাদেশ। জামায়াতে আমির তাঁর দলকে বার্তা দিয়েছিলেন সংসদ নির্বাচনে তাঁর দলের জয় নিশ্চিত। ক্ষমতায় তারাই যাবে। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে তারা একটি জাতীয় সরকার গঠন করবেন। সেই সরকারে তাঁর দলের জয়ী নেতাদের মন্ত্রী করা হবে। এই ব্যাপারে তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর কথা হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন। বেগম জিয়ার মৃত্যুর পর জামায়াতে আমির গুলসনে বিএনপি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, তাঁর দল এবং বিএনপি যৌথভাবে একটি সরকার গঠন করবে। এই বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা হয়ে গিয়েছে। তারেকের থেকে তিনি সবুজ সংকেতও পেয়েছেন। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর তারা আবারও আলোচনায় বসবেন। সেখানে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শফিকুর রহমান নির্বাচনী জনসংযোগে গিয়ে রীতিমতা ঢাক পেটান। সৈয়দ মহম্মদ তাহেরের আসন থেকে শুরু করে গোলাম পরওয়ারের আসন – এমন কোনও কেন্দ্র ছিল না যেই সব কেন্দ্রে গিয়ে জামায়াতে আমিরকে বলতে শোনা যায় তারেক তাঁকে মন্ত্রী করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলেন। আর ভোটের ফলফল প্রকাশের পর দেখা গেল বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জামায়াত প্রথম বৃহত্তম বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আর তারেক রহমান জানিয়ে দিলেন, জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের কোনও অভিপ্রায় তাঁর নেই।
তারেকের এই সিদ্ধান্তে জামায়াতে আমিরের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। জামায়াতে আমিরও বুঝে যান বিএনপি কোনওভাবেই তাদের আর কোনও আবদার মেনে নেবে না। সংসদে শপথ নেওয়ার দিনেই তারেক সরকার সেটা পরিষ্কার করে দেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়ে দেন সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে সংবিধানে কিছু নেই। তাই, শপথ নেওয়া হয়েছে সংবিধান মেনে। সংবিধানকে গুরুত্ব দিয়ে। বিএনপি জানিয়ে দিয়েছে, গণভোট অধ্যাদেশকেও তারা সংসদে তুলবে না। বিএনপি বলছে, গণভোট হয়ে গিয়েছে। গণভোট অধ্যাদেশের কার্যকারিতা এরই মধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে। ইউনূসের সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশের বেশিরভাগেরই স্বয়ংক্রিয় ভাবে পাশ হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তারা আগে এই সব অধ্যাদেশ ঝাড়াইবাছাই করবে। তারপর সংসদে তোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এরই মধ্যে খবর এল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে তিনি তাঁর দফতরে যান। রহস্য এখানে। তিনি কোন আবদার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চলে গেলেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছে জামায়াতে আমির মহা প্যাঁচে পড়ে গিয়েছেন। উদ্ধার হওয়ার রাস্তা খুঁজছেন।












Discussion about this post