হাসিনার আমলে তৈরি হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযোদ্ধা বিরোধীদের এই আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করা। ২০২৪-য়ের জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পালাবদলের পর সেই আইসিটি ইউনুস সরকারের দমনপীড়নে মোক্ষম অস্ত্র হয়ে ওঠে। ধরে ধরে আওয়ামী লীগারদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা রুজু করে তাদের জেলে পাঠাতে শুরু করে। বাহিনীর যে সব কর্তাদের আওয়ামী লীগপন্থী বলে মনে করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও মিথ্যে মামলা রুজু করে তাদেরও জেলে পাঠান ইউনূস। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। প্রধানমন্ত্রীপদে আসীন হন তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রশাসনিকস্তরে বেশ কিছু রদবদল ঘটনা। সেনাবাহিনীতে রদবদলের পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনেও রদবদল ঘটান। উদ্দেশ্যে ছিল স্বচ্ছতা আনা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এবার বিএনি সরকারের টার্গেট ১/১১-য়ের কুশীলবদের বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নিয়ে গিয়ে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা। তাদের বিচার হবে এই ট্রাইব্যুনালে।
প্রাক্তন দুই সেনাকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রাক্তন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেফতারের পর ১/১১ -য়ের অন্য কুশীলবদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কুশীলবদের মধ্যে যারা বিদেশে রয়েছেন, তারা কার্যত আত্মগোপন করেন। দেশে যাঁরা রয়েছেন, তারাও আত্মগোপন করেছেন। সাবেক ওই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার গ্রেফতারের পর কেউ কেউ দেশ ছাড়ারও চেষ্টা করছেন। তবে তাদের বিদেশ যাত্রার ওপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ওই কুশীলবরা কেউ বিমানবন্দর অতিক্রম করতে গেলে বাধার মুখে পড়বেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য মিলছে। সরকার থেকে সব বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। সূত্র বলছে, প্রতিটি বিমানবন্দরে ১/১১ –য়ের নাটের গুরুদের ছবি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একটি সূত্রে বলা হচ্ছে, ওই দুই শীর্ষকর্মকর্তা ছাড়াও ১/১১-য়ের সময় প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় কেউ কেউ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। তারেক সরকার তাদের টিকি এখনও স্পর্শ করতে পারেনি। তবে ‘বিতর্কিত’ ওই কর্মকর্তাদের ভূমিকা, খতিয়ে দেখে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিতর্কিতদের মধ্যে এখনও যাঁরা দেশে আছেন, তারা যাতে দেশ থেকে চলে যেতে না পারেন সরকারের তরফে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি গণমাধ্যমের তরফে অভিবাসন দফতরের এক কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। আদালত থেকে কারও বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের খবর এলে তখন পদক্ষেপ করা হয়। তবে এর বাইরেও বিশেষ ব্যবস্থায় বিদেশ যাত্রায় বাধা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে ওই কর্মকর্তাটি জানিয়েছেন।
উল্লেখ করা যেতে পারে, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রায় ১৯ বছর আগে গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করে সেনার একটি অংশের সমর্থনে গঠিত হয়েছিল তত্ত্বাধায়ক সরকার। বিতর্কিত ওই সরকার ‘১/১১’-য়ের সরকার বলে পরিচিতি পায়। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর মধ্যে আচমকাই কয়েকজন ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন। তারা বেসামরিক সহযোগীদের সমর্থনে দেশ পরিচালনা করতে শুরু করেন। তখন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলতে শুরু করে। আর সেই সুযোগে সেনাবাহিনীর হঠাৎ ক্ষমতাবান হয়ে ওঠা কর্তারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। তারা নেতাদের চরিত্ব হননের উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে নামেন। সেই সেনা সরসাকের আমলে তারেক রহমানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সেনাসদরে। সেখানে চলে অত্যাচার।
ক্ষমতার অপব্যবহার, দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মাইনাস করে নতুন এক রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা করেছিল ১/১১ সরকার। ওই সরকারের নেপথ্যে ভূমিকা পালনকারী কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষী সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার মূল লক্ষ্য ছিল রাজনীতিবিদদের অপদস্থ করে তাদের সম্পর্কে দেশবাসীর কাছে ‘নেগেটিভ পারসেপশন’ তৈরি করা।












Discussion about this post