ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। পূর্বতন তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস কলকাঠি নেড়ে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পাশাপাশি দলের প্রতীক ফ্রিজড করে নেয়। ফলে, নতুন সংসদ আওয়ামী বিহীন। এটা কি তারেক রহমানের কাছে আশীর্বাদ না অভিশাপ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের না থাকাটা তারেক সরকারের কাছে শুধু অভিশাপ নয়, একটা আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগ এবং হাসিনাকে নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। দলটি বিএনপিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পাশাপাশি দলের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করে। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর একটা প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করে- আওয়ামী লীগের দেখানো পথেই কি হাঁটবে বিএনপি? এককথায় না।
তারেক রহমানকে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের তরফ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষণার বিষয়ে তাঁর বা তাঁর দলের অবস্থান কী? প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক একবারের জন্য আওয়ামী লীগের নাম উচ্চারণ করেননি। তবে জানিয়েছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিকদলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষপাতি নন।
তাঁর মুখে এই বক্তব্য শুনে রাজনৈতিকমহল নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী চাইছেন জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন। শুধু তিনি কেন, তার দলের প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, “আওয়ামী লীগের ব্যাপারে তো নির্বাচন কমিশন পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের কার্যক্রম সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পরবর্তী কালে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকেই উঠে আসবে আওয়ামী লীগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত”।
এখানেই শেষ নয়, আলমগীরকে বলতে শোনা যায়, ‘এরা হঠাৎ হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে। এগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। আমি যেটা মনে করি, পলিটিকসটাকে চলতে দিন, লেট পলিটিকস মুভ ইন ইটস ওন ওয়ে, লেট ডেমোক্রেসি মুভ ইন ইটস ওন ওয়ে। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কিছুকে দেখে রাজনীতিকে বন্ধ করে গণতন্ত্রকে আটকে দিয়ে, পথ বন্ধ করে দিয়ে…। লেট ইট মুভ, কাজ করুক না।’
আলমগীর যেটা বোঝাতে চেয়েছেন যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়েছে। সেই অবস্থান থেকে এই মুহূর্তে তাদের সরকারের সরে আসার প্রশ্ন উঠছে না। তবে আওয়ামী লীগের যে সব শাখা সংগঠন আছে, তারা চাইলে রাজনীতি করতেই পারে। কেন, তাঁর বা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইচ্ছা দলটি জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে আসুক। এর অন্তর্নিহিত কারণ রয়ে গিয়েছে সংসদের অভ্যন্তরে। জামায়াত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এনসিপিও কয়েকটি আসনে জয়ী হয়েছে। কয়েকজন জুলাই যোদ্ধাও সংসদে ঢুকে গিয়েছেন। ফলে, বিরোধী শিবির একজোট হলে তারেক রহরমান যে মসৃণভাবে সরকার চালাতে পারবে না, তা বলাই বাহুল্য। তার একটি ইঙ্গিত কিন্তু জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই পাওয়া গিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সংসদে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত সহ বিরোধী দলের নেতারা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তারা দিতে শুরু করে সরকার বিরোধী স্লোগান। একসময় তারা সংসদ ওয়াকআউট করে। পরে জামায়াতে আমির সংবাদমাধ্যমকে যা বলেছেন, তার থেকে স্পষ্ট যে তারা বিএনপি সরকারকে খুব মসৃণভাবে চলতে দেবে না। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান তো তারেক সরকারের জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন। কারণ, বিএনপি জুলাই সনদ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। ফলে, বিরোধীদল কিন্তু গোপনে একজোট হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় তারেক রহমান বা তাঁর সরকারের কাছে একটাই রাস্তা খোলা রয়েছে, যে কোনও উপায়ে আওয়ামী লীগকে জাতীয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে দুটি দল সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর হলেও একটি ক্ষেত্রে তাদের মিল রয়েছে। দুটি দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। জণগনের দাবি মেনে তারেক এবং বিএনপি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ফেরায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।












Discussion about this post