প্রতিবেদন শুরু করা যাক মির্জা ফখরুলের একটি ভাষ্য দিয়ে।
মির্জা ফখরুল বলছেন, ‘এরা হঠাৎ হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে। এগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। আমি যেটা মনে করি, পলিটিকসটাকে চলতে দিন, লেট পলিটিকস মুভ ইন ইটস ওন ওয়ে, লেট ডেমোক্রেসি মুভ ইন ইটস ওন ওয়ে। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কিছুকে দেখে রাজনীতিকে বন্ধ করে গণতন্ত্রকে আটকে দিয়ে, পথ বন্ধ করে দিয়ে…। লেট ইট মুভ, কাজ করুক না।’ মির্জা ফখরুল বলেন, যেহেতু এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে; বন্ধ আছে, বন্ধ থাকবে। বাকিরা যারা আছে, তারা কাজ করবে, করছেও। আওয়ামী লীগ তো চেষ্টা করবেই কিছু কিছু কাজ করতে। করছে। লাভ তো হচ্ছে না। পিপল (জনগণ) তাদের রিজেক্ট করেছে। পিপল রিজেক্ট করে দিয়েছে একদম, তাই না? ’ আর তারেক রহমান কী বলেছেন? তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগেরন নাম উচ্চারণ করেননি। তবে বলেছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিকদলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষপাতি নন।
কোনও কোনও প্রান্ত থেকে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলামগীর আওয়ামী লীগকে নিয়ে যা বলেছেন, সেটা একটু খুটিয়ে বিশ্লেষণ করা দরকার। বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা নিষিদ্ধ থাকবে। কিন্তু দলের তো অনেক শাখা সংগঠন আছে। তাদের তো পূর্বতন তদারকি সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। তাই, “বাকিরা যারা আছে ” মির্জা ফখরুল এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের অনেক শাখা সংগঠন আছে। তারা কাজ করবে। করছে। আওয়ামী লীগের শাখা সংগঠনের কাজকর্ম নিয়ে বিএনপি সরকারের কোনও অ্যালার্জি নেই।
আওয়ামী লীগকে নিয়ে এই প্রথম যে চর্চা হচ্ছে তা নয়। দিল্লিতে থাকাকালীন এই দল এবং দলনেত্রীকে নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। নতুন করে আলোচনার কারণ সামনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এই অবস্থায় দিল্লি থেকে হাসিনা তাঁর দলের যে সব নেতা আত্মগোপন করে রয়েছেন, তাদের ফিরতে বলেছেন। একটি গণমাধ্যমের তরফে দাবি করা হয়েছে, ঈদের পর অন্তত ৫০ জন নেতা তারা বাংলাদেশে চলে আসবেন। এই পরিস্থিতিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূস গয়ালের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
প্রশ্ন অন্যত্র। বিএনপি কি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, তারেক রহমান কোনওভাবেই এই কলঙ্কের ভাগিধার হতে চাইবেন না। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, হাসিনা এতটা আত্মপ্রত্যয়ী কীভাবে হচ্ছে যেখানে তিনি জানেন ক্ষমতায় যে দলটি রয়েছে, সেই দল আওয়ামী বিরোধী। আওয়ামী লীগের নাম শুনতে পারে না প্রধান বিরোধী দল জামায়াত। অসহ্য বোধ করে এনসিপি। এত কিছুর পরেও দলনেত্রী কী করে বলছেন যে তিনি দেশে ফিরবেন? কেন দলীয় কর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ দিচ্ছেন? এই প্রসঙ্গে অনেকে ১৯৮১ সালে হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি উল্লেখ করেন। সেই সময় তিনি গোটা দেশ চষে বেরিয়েছিলেন। দলকে সংগঠিত করেছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপট বদলে গিয়েছে। হাসিনা এখন আর প্রধানমন্ত্রী নন। সে কারণে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হাত ধরে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন, কথা বলতে পারছেন দলের তৃণমূলস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও। ফলে দেশে ফেরার একটা ক্ষেত্র তিনি প্রস্তুত করেছেন। হাসিনা দেশে ফিরতে পারেন কি না, আওয়ামী লীগ আবার জাতীয় রাজনীতিতে ফিরতে পারে কি না, সেটা দেখার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।












Discussion about this post