গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ –য়ে ঈদের চাঁদ যেমন দেখতে ছিল, এ বছরেও সেই চাঁদের রূপ একই আছে। বদলে গিয়েছে শুধু জাতীয় রাজনীতির দৃশ্যপট। ২০২৪ এবং ২৫ ঈদকে বাংলাদেশের কোনও মানুষ খুশির ঈদ হিসেবে দেখেননি। শুধু কি তাঁরা? রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর মতন একজন ব্যক্তিকে জাতীয় ঈদগাহে তাঁকে নামাদ আদায় করতে দেওয়া হয়নি। একটা রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা কতটা নিষ্ঠুর ও অমানবিক হলে একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ করা যেতা পারে। রাষ্ট্রের যিনি অভিভাবক, তাঁর অবস্থা যদি এরকম হয়, তাহলে আমজনতা কীভাবে ঈদ পালন করেছে, তা সহজেই অনুমেয়। গত বছর ঈদের আগে মীরপুর, রামপুরা, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ সহ একাধিক জায়গায় শ্রমিক বিক্ষোভ হয়েছে। তাঁরা রাস্তায় নেমে বেতন ও ভাতার দাবি করেন। ইউনুস ক্ষমতা দখলের পর বাংলাদেশে একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হতে শুরু করে। বহু কারখানা ইউনূসের তৈরি মব হামলা চালায়। বহু কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অনেক কারখানায় লুঠপাট হয়েছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়। ইউনূস সরকারের নীরব সমর্থন ছিল। মব সন্ত্রাসকে পূর্বতন সরকার বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। সরকারের প্রশ্রয়ে মব বাহিনী হয়ে উঠেছিল অপ্রতিরোধ্য। মব সৃষ্টিকারী, চাঁদাবাজদের জেল থেকে ছাড়িয়ে আনা হয়। এক চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে দেশের মানুষ। গত ঈদ কেটেছে চরম অনিশ্চয়তায়, ভয়ংকর আতঙ্কে। এবারের ঈদ সেই আতঙ্ক থেকে মুক্ত। হামলা ও লুঠপাটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বেতন দিতে পারেনি মালিকপক্ষ। আবার অনেকে মবের ভয়ে কারখানা খুলতে পারেননি। একের পর এক ব্যবসা বন্ধ হয়েছে।
লাখ লাখ শ্রমিকের গত ঈদ কেটেছে অনাহারে, ভিক্ষাবৃত্তি করে। তারা ঈদে হাসতে পারেনি, তাদের ঈদ ছিল কান্না ভেজা। দেড় বছরের বিনিয়োগ বিনাশী সরকারের বিদায়ের পর মালিকরা নতুন করে আবার সবকিছু শুরুর অপেক্ষায়। শ্রমিকরাও আশায় বুক বেঁধে আছেন।নতুন সকালের অপেক্ষায়। সবকিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে এমন আশা করছেন মালিক- শ্রমিক সবাই। এবার ঈদ তাদের জন্য স্বস্তির। একজন শ্রমিক বলছিলেন, ‘কীভাবে দেড়টা বছর পার করেছি আল্লাহ জানেন। এমন খারাপ সময় যেন আর কখনো ফিরে না আসে কারও জীবনে।’
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এরপরে প্রথম ঈদে স্বস্তি, আশা আর উচ্ছ্বাস একসঙ্গে কাজ করেছে মানুষের মনে। বিএনপি সরকার পূর্বতন সরকারের ব্যর্থতা বা দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টায় নতুন সরকার কাজ করে চলেছে। তারেক রহমান সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেই সীমাবদ্ধতার মাঝে থেকেও তারেক রহমান সরকার ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাইছে জনগণের ভোটে জিতে আসা সরকার। এমন প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে পালিত হল ঈদ। সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের বার্তা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই স্থিতিশীল। ফলে, উৎসবের সেই তুরীয় মেজাজ আবার ফিরে এসেছে। বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। কয়েকবছর বাদে ফের জমে ওঠে ঈদের বাজার। প্রতিটি বাজারে ভিড় অর্থনীতিতে গতি আনার বার্তা দিচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের চাপ থাকলেও মানুষের প্রত্যাশা ছিল বাস্তব সম্মত। অনেকে বলছেন, এক মাসের একটি সরকারের পক্ষে সার্বিভাবে পরিস্থিতি পরিবর্তন করার সম্ভব নয়। বিএনপির তরফ থেকেও সময়ে চেয়ে নেওয়া হয়েছে। রমজান ও ঈদে পণ্যসংকট না থাকায় সকলের মধ্যেই একটা স্বস্তি রয়েছে। এর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ঈদের উপহার অনেকের মাঝে উৎসবের আনন্দ বাড়িয়েছে অনেক গুণ। শুধু ঈদ যে প্রাণ ফিরে পেয়েছে, তা নয়। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ফিরেছে প্রাণ। গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করে রেখেছিল পূর্বতন তদারকি সরকার। তাই, দলমত নির্বিশেষে সব গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য এবারের ঈদ ছিল আক্ষরিক অর্থেই উৎসবমুখর। যারা আতঙ্কের মধ্যে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাঁদের আতঙ্ক কিছুটা হলেও কম হয়েছে।












Discussion about this post