গ্রাম বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে অগণিত জমিদার বাড়ি। বর্তমানে জমিদারি নেই কারও, কিন্তু স্মৃতির ধুলো আজও জমা পড়ে সেই জমিদার বাড়িগুলিতে। বহু জমিদার পরিবারের উত্তরসূরীরা বিদেশ-বিভূঁইয়ে চলে গিয়েছে, ফলে অবহেলায়, অনাদরে সেই সকল জমিদার বাড়ি আজ জীর্ণ ও দীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোনও কোনও জমিদার বাড়ি ভূত বাংলোতে পরিণত হয়েছে। তেমন এক ক্ষয়ে যাওয়া জীর্ণদশার জমিদার বাড়ি এবার উঠে এল পুজোর থিম হিসেবে।
অনেকেই মনে করেন পুজোর থিম নাকি কলকাতার একচেটিয়া অধিকার। গ্রাম বাংলার পুজোতে সেরকম চমকদার পুজোর থিম নাকি পাওয়াই যায় না। কিন্তু মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুররের মাছমারা এলাকার অমর সাথী দুর্গোৎসব কমিটি এবারের দুর্গোৎসব একটু অভিনব উপায়ে করছে। এবারের রজত জয়ন্তী বর্ষে এই পুজো কমিটির থিম ‘ভূত বাংলোয় দশভূজা’। যা অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে বহরমপুরের পুজোর আনন্দকে। গা ছমছমে এক পরিবেশে পরিত্যাক্ত এক জমিদার বাড়িতে হচ্ছে দশভূজার আরাধণা। বাঁশ, কাঠ, প্লাইউড ও ফাইবার দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে আস্ত এক ভগ্নপ্রায় জমিদার বাড়ি। লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গা ছমছমে পরিবেশ। ঠিক যেন কোনও ভুত বাংলো, যেথানে বাসা বেঁধেছে ভুতের দল। তাঁরাই যেন মায়ের পুজোর আয়োজন করছে।
পুজো উদ্যোক্তাদের কথায়, মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে অনেক জমিদার বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে। রীতিমতো ভূত বাংলোতে পরিণত হয়েছে। সেই সমস্ত জমিদার বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ।
অমর সাথী দুর্গোৎসব কমিটির সদস্যদের কথায়, তাঁদের থিম নিয়ে ইতিমধ্যেই বহরমপুর শহরে আলোচনা শুরু হয়েছে। গা ছমছমে ভুতের ভয় ধরানো মণ্ডপ দেখতে অনেকেই উৎসুখ।
বহরমপুরের নামী-দামি পুজো কমিটি যখন সুউচ্চ বাহারি মণ্ডপ ও চোখ ধাঁধানো আলো দিয়ে একে-অপরকে টেক্কা দিতে ব্যস্ত, তখন ওই প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছেন তাঁরা। তার বদলে পুজো মণ্ডপ থেকে বৃক্ষরোপন, জলাভূমি রক্ষা করা ও ক্যারিব্যাগ বর্জনের মতো সামাজিক সচেতনতার বার্তা দেওয়াকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্য পুজো কমিটি থেকে এটাই পার্থক্য রজত জয়ন্তী বর্ষে পা দেওয়া অমর সাথী দুর্গোৎসব কমিটির।












Discussion about this post