বাংলাদেশ ও নেপালের পর যে ভারতও টার্গেট ছিল, সেটা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছিলেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা গুলিও সতর্ক ছিল। তবুও কেন্দ্রশাসিত লাদাখ আচমকা জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল। লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতাভুক্ত করে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দিতে হবে, এই দাবি অনেক আগে থেকেই ছিল। কিন্তু আচমকা হিংসাত্মক আকার ধারণ করে এই আন্দোলন। তাতে প্রাণ হারান ৪ জন। ৩০ জন পুলিশকর্মী এবং সিআরপিএফ জওয়ান সহ জখম অন্তত একশো জন। হিংসায় জ্বলে পুড়ে ছাই হয়েছে লেহ-তে অবস্থিত বিজেপি পার্টি অফিস। প্রশ্ন উঠছে, লাদাখের এই হিংসাত্মক আন্দোলনের পিছনে কে বা কারা যুক্ত? ঘটনার পর বুধবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে লাদাখের এই হিংসার জন্য দায়ী করা হয়েছে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুককে। যিনি গত ১০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছিলেন। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘তাঁর উস্কানিমূলক বক্তব্যের জেরে এতকিছু হলেও সোনম ওয়াংচুক নিজে এর মাঝে অনশন ভেঙে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজের গ্রামে ফিরে যান। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কোনও চেষ্টাই করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে অমিত শাহের মন্ত্রকের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিজের ভাষণে আরব বসন্তের ধাঁচের বিক্ষোভের উস্কানিমূলক উল্লেখ করেছিলেন সোনম। এছাড়াও নেপালে সাম্প্রতিক জেন জি বিক্ষোভের উল্লেখও করেছিলেন সোনম। এতে করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে পরিবেশকর্মী সোনমের বিরুদ্ধে।
অনেকেই হয়তো সোনম ওয়াংচুককে চেনেন। ওই রাজকুমার হিরানীর বিখ্যাত ছবি থ্রি ইডিয়টের আমির খান যে ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন, সেটি এই সোনমকে কেন্দ্র করেই ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট বলে পরিচয় দিচ্ছেন। বেশ কয়েকটি বিদেশী সম্মান তাঁর ঝুলিতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড। তাঁর দুটি এনজিও এখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নজরে। একটি হল, ‘স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখ’। দ্বিতীয়টি হল ‘হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস লাদাখ’। এই দুটি সংস্থা আইন ভেঙে বিদেশী অনুদান নিয়েছে বলে অভিযোগ। ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট বা এফসিআরএ অ্যাক্টের ৮, ১২, ১৭, ১৮ এবং ১৯ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে বিদেশি অনুদান নিয়েছিল সোনম ওয়াংচুকের এনজিও। পরে তাঁকেও গ্রেফতার করেছে সিবিআই।
ভৌগলিক এবং কৌশলগত দিক থেকে লাদাখের অবস্থান ভারতের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। লাদাখের পশ্চিম দিকে পাকিস্তান এবং উত্তর-পূর্ব প্রান্তে চিনের অবস্থান। আশেপাশেই সিয়াচেন ও আকসাই চিনের মতো স্পর্ষকাতর এলাকা রয়েছে। আবার যে প্যাংগং লেক ও গালওয়ান উপত্যকা নিয়ে চিনের সঙ্গে ভারতের বিবাদ হয়েছিল, সেগুলিও লাদাখে অবস্থিত। সবমিলিয়ে ভারতের নিরাপত্তার দিক থেকে লাদাখের গুরুত্ব ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা এজেন্সিগুলির কাছে অপরিসীম। সেই লাদাখের তরুণ প্রজন্মকেই প্রথম টার্গেট করা হল। যা ভারতের কাছে অত্যন্ত ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা। ওয়াকিবহাল মহল দাবি করছে, ভারতের প্রতিবেশীদেশগুলিতে যেমন জেন জি বা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করে সরকার বদল ঘটানো হয়েছে। তেমনই ভারতেও এটা ঘটানো হতে পারে বলেই মনে করছিলেন। যা লাদাখে হয়ে গেল। এই ঘটনার জন্য বিদেশী অর্থায়নে চলা সোনম ওয়াংচুকের এনজিওগুলি অনেকটাই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের দাবি, জর্জ সোরসের ওপেন ফাউন্ডেশনের থেকে প্রচুর অর্থ পেয়েছে ওয়াংচুকের সংস্থা। পাশাপাশি বিভিন্ন মার্কিন সংস্থাও তাঁর সংগঠনে অনুদান দেয়। সোনম বছরে কয়েকবার বিদেশ সফর করেন এবং সম্প্রতি পাকিস্তানেও গিয়েছিলেন। তাই তাঁকে আতসকাঁচের তলায় রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ‘বহু নেতা সোনমকে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও তিনি তা শোনেননি। আরব বসন্তের কায়দায় বিক্ষোভে উস্কানি দিয়ে গিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নেপালের জেন জি আন্দোলনের উল্লেখ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন। কেন্দ্র আরও দাবি করেছে, সোনমের সেই উস্কানিমূলক বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একদল জনতা অনশনস্থল ত্যাগ করে হিংসাত্মক আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারের পর থেকে লাদাখের পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। গোটা এলাকায় কার্ফু জারি রয়েছে। এবং সেনা ও আধা সমরিক বাহিনী টহল দিচ্ছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post