গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ক্ষমতায় আসে মুহাম্মদ ইউনূসের একটি অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনূস সেই বছরের ২৮ আগস্ট দুই বছরের চুক্তিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগ করে মোখলেস উর রহমানকে। তিনি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সরকারি চাকরি থেকে সদ্য অবসর নিয়েছিলেন। তাঁর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ছিলেন মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু হাসিনা আমলের কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা যাবে না, তাই নিজেদের পছন্দের লোকজনকে সচিবালয়ের উচ্চ পদগুলিতে নিয়ে আসার কাজ শুরু হয়। আর এই সুযোগেই বাংলাদেশের সচিবালয়ে কোটি কোটি টাকার পদোন্নতি বাণিজ্যের সূত্রপাত। মোখলেস উর রহমান, যাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব করা হয়েছিল, তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রশাসনে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করে। তাঁর বিরুদ্ধে দাবি ওঠে,কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে উচ্চ পদে বদলি ও পদোন্নতি করেছেন তিনি। ডিসি পদে নিয়োগে অর্থ লেনদেন নিয়ে একটি পত্রিকা সংবাদ প্রকাশ করেছিল। তারপর মোখলেস উর রহমানের বিরুদ্ধে একটা লোকদেখানো তদন্ত হয়। কিন্তু সেই তদন্ত রিপোর্ট আর প্রকাশ্যে আনা হয়নি। পরে জানানো হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং সিনিয়র সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু ভিতরের খবর হল, এই মোখলেস উর রহমান হলেন চুনোপুঁটি। মূলত রাঘব বোয়ালদের আড়াল করতেই তাঁকে বলির পাঁঠা করা হল।
মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশ প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলো ক্রমেই পরিণত হচ্ছে লাভজনক বাণিজ্যের পণ্যে। মেধা বা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নয়, বরং বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সচিব-সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি হচ্ছে, এমন অভিযোগ উঠছে বিগত এক বছর ধরেই। যদিও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে অন্তর্বর্তী সরকার এই বিষয়ে কার্যত কানে তুলো গুঁজে বসে ছিল। এর আগে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি উঠেছিল বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানকে ঘিরে। অভিযোগ ছিল, অতিরিক্ত সচিব থেকে বাণিজ্য সচিব হতে তিনি ৩৫ কোটি টাকা, এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব হতে ৬০ কোটি টাকা এবং সবশেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের চেয়ারম্যান হতে ৩০০ কোটি টাকার চুক্তি করেছেন। সবমিলিয়ে প্রায় ৩৯৫ কোটি টাকা খরচ করতেও তিনি পিছপা হননি। প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল অর্থ তিনি কাকে দিয়েছেন? বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, চুক্তিগুলোর নেপথ্যে রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এরমধ্যে “মেসার্স আর্মি বিডি কনসালটেন্সি” নামের একটি রহস্যময় প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে আসছে। সূত্র বলছে, সচিবালয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতির এই সিন্ডিকেটকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিন প্রভাবশালী ব্যক্তি। প্রশাসনে তারা ‘তিন পান্ডব’ নামে পরিচিত। তারা হলেন—প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এছাড়াও আরেকজন প্রভাবশালীর নাম উঠে আসছে। তিনি হলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনিও কয়েকশো কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে কানাঘুঁষো বাংলাদেশে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রভাবশালীদের আড়াল করার যাবতীয় প্রচেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করেন প্রেস সচিব শফিকুল এবং এনসিপির নেতারা। ফলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম কোনও তদন্তমূলক খবর প্রকাশ করতে পারছে না। যে দুই একটা সংবাদ মাধ্যম এই ধরণের খবর সামনে নিয়ে আসছে, তাতেই কয়েকশো কোটির দুর্নীতির পর্দাফাঁস হয়েছে। প্রথমে, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানকে ঘিরে দুর্নীতি এবং এবার নপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমানকে ঘিরে খবর। কিন্তু এদের নেপথ্যে থাকা আসিফ নজরুলদের নাম আর প্রকাশ্যে আসছে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post