ডোনাল ট্রাম্প কি ভেনেজুয়েলাকে সামনে রেখে ভারত রাশিয়া এবং চীনকে বার্তা দিতে চাইছেন। বিগত কয়েক দিনে তিনি যেভাবে একটি স্বতন্ত্র দেশের জাহাজের উপর হামলা করলেন তাতে এই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসছে। ভেনেজুয়েলার কাছে ক্যারিবিয়ন সি, সেখানে ইউ এস নেভি ডিপ্লয় করা ছিল। গত কাল সেই ইউ এস নেভি একটি এয়ার স্ট্রাইক করেছে ভেনেজুয়েলার একটি জাহাজের উপর। যার ফলে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা নিয়ে উত্তাল আন্তর্জাতিক মহল। অন্য দেশের জাহাজের উপর এই ধরনের এয়ার স্ট্রাইক করা যায় কিনা সেটাই বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসন জানাচ্ছে সেই জাহাজে করে নাকি ড্রাগ সাপ্লাই হচ্ছিল আমেরিকার দিকে। তাই ভেনেজুয়েলা উপকূলে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের পাল্টা জবাবে উপকূলে টহল দেওয়ার জন্য যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন পাঠাচ্ছে ভেনেজুয়েলা।দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা কোনোভাবেই তার দেশ আক্রমণ করতে পারবে না।’বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় প্রবেশের কোনো উপায় নেই। আমাদের দেশ সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এ সামরিক অবস্থানকে লাতিন আমেরিকার মাদক চক্রবিরোধী অভিযানের নামে আড়াল করা পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন লাতিন আমেরিকার মাদক মোকাবেলায় তিনটি যুদ্ধজাহাজের একটি উভচর স্কোয়াড্রন ভেনেজুয়েলার উপকূলের দিকে পাঠায়।
সংবাদ সংস্থাগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আরও দুটি জাহাজ- একটি গাইডেড মিসাইল ক্রুজার ও একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত দ্রুত আক্রমণকারী সাবমেরিন ক্যারিবীয় সাগরে পাঠিয়েছে। মোতায়েনকৃত বাহিনীতে মোট ৪৫০০ মার্কিন সেনা রয়েছে। এর মধ্যে ২২০০ নৌ সেনা সদস্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি অভিযোগ করেছে, ভেনেজুয়েলার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং কোকেন পাচারে ভূমিকা রেখেছেন। এ অভিযোগের পর ওয়াশিংটন মাদুরোকে গ্রেপ্তার বা বিচারের মুখোমুখি করার জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। পরে তা বাড়িয়ে ৫০ মিলিয়ন ডলার করা হয়।ইয়েমেনে প্রত্যাঘাত শুরু করেছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। লোহিত সাগরে আমেরিকার জাহাজে তারা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি। যদিও আমেরিকা এই দাবি অস্বীকার করেছে। হুথিদের বক্তব্য, তারা আমেরিকার বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যানে ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে আঘাত করেছে। ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি। ইয়েমেনে হামলা না থামানো হলে মার্কিন জাহাজগুলিতেও হামলা চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাদের নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি রবিবার জানান, লোহিত সাগরে এ বার আমেরিকার বাণিজ্যতরীগুলিকে নিশানা করা হবে। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা যদি আগ্রাসন চালিয়ে যায়, আমরাও আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়ে দেব।’’আমেরিকার হামলায় ইয়েমেনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এখনই হামলা থামানোর পরিকল্পনা নেই আমেরিকার। কয়েক সপ্তাহ তা চলতে পারে। হুথিদের তরফে আমেরিকার এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ইয়েমেন এবং পশ্চিম এশিয়া নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছে রাশিয়াও। রবিবার ভোরে ইয়েমেনে আমেরিকার হামলার খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে। তাতে মহিলা এবং শিশু-সহ বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়। ইয়েমেনের হুথি পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত মার্কিন হামলায় মোট ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ শিশুও রয়েছে। অন্য দিকে আমেরিকাও জানিয়ে দিয়েছে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যতরী আক্রমণ না-থামালে হুথিদের উপর আক্রমণও থামবে না।
ইয়েমেনে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, হুথিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চলবে। হুঁশিয়ারির সুরে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘এ বার থামার সময় এসেছে। না হলে তোমাদের উপর নরক বর্ষণ হবে।’’ ইরানকেও এই গোষ্ঠীকে সমর্থন না করার বার্তা দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।
হুথিদের প্রত্যাঘাতের দাবি উড়িয়ে আমেরিকার এক আধিকারিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রবিবার মার্কিন বিমান থেকে গুলি করে হুথিদের মোট ১১টি ড্রোন নামানো হয়েছে। তার কোনওটাই ট্রুম্যান নামক জাহাজের কাছাকাছি যায়নি। হুথিদের দিক থেকে কোনও প্রচেষ্টা এখনও পর্যন্ত আমেরিকার উদ্বেগের কারণ হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। ইয়েমেনে হামলা থামানোর জন্য আমেরিকাকে অনুরোধ করেছে রাশিয়া। সেখানকার বিদেশমন্ত্রী সার্জেই লাভরোভ আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োকে ফোন করেন রবিবার। জানান, পুতিন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে চান।












Discussion about this post