আসছে ভোট। আর তাই, বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির পরতে পরতে চমক। এবার চমক জোট নিয়ে। হওয়ার কথা ছিল ১৬ দলের জোট। সেটা বেড়ে হল ২০ দলের জোট। নতুন এই জোটের নাম এনডিএফ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট। । জোটের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রাক্তন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর। গত ৮ ডিসেম্বর এই জোটের কথা ঘোষণা করেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। সোমবার ঢাকার গুলশানের একটি পার্টি সেন্টারে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর এই ঘোষণা করেন।
কারা আছে এই দলে? এই ২০ দলের মহাজোটের অন্যদলগুলি হল জনতা পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ মুসলিম লিগ, জাতীয় ইসলামিক মহাজোট, জাতীয় সংস্কার জোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, স্বাধীন পার্টি, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি, বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি, বাংলাদেশ সর্বজনীন দল, বাংলাদেশ জনকল্যাণ পার্টি, অ্যাপ্লায়েড ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয় লিগ।
অভিযোগ, এই জোটের অনেক দলই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা ধরনের সুবিধা ভোগ করে এসেছেন। অনেকে আবার শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। স্বৈরাচার এরশাদের নেতৃত্বধীন জাতীয় পার্টি ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর। হাসিনা আমলে তিনটি ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের বৈধতা দিয়েছিল দলটি। ওই তিন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে এরশাদের জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। এমনকী ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের তারা শরিকও ছিল।
জোট গঠনের পর আনিসুল ইসলাম মাহমুদ একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জোট গঠনের উদ্দেশ্য বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থার নিরসন এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে মাথায় রেখে রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া সচল রাখা, গত জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করা, বাংলাদেশে জাতীয়তাবোধকে প্রসারিত করা, ইসলামিক নীতি আদর্শকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা, একটি নিরপেক্ষ বিচারবিভাগ প্রতিষ্ঠিত করা, স্বৈরাচারী শাসনের চিরকালের জন্য অবসান, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনের দাবিতে সরব হওয়া মানুষদের স্বীকৃতি প্রদান। ’
জোট সাতটি দাবির কথা জানিয়েছে। সেই দাবির মধ্যে রয়েছেন কিন্তু অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। অর্থাৎ সব রাজনৈতিক দল যাতে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, সেটা তদারকি সরকারকে নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ।
দাবির মধ্যে রয়েছে, তদারকি সরকারকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশের মাটি কোনওভাবেই কোনও সন্ত্রাসী সংগঠন ব্যবহার করতে পারবে না। সেটা তদারকি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। বন্ধ করতে হবে চাঁদাবাজি, তোলাবাজি। এই ক্ষেত্রে তদারকি সরকার কোনওভাবেই কোনও একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতপূর্ণ আচরণ করতে পারবে না।
বসে নেই নাহিদ শিবির। তারা আবার দুটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠনের কথা জানিয়েছে। বাকি দুটি দল হল রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং এবি পার্টি। গত রবিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই জোটের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সংস্কার ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় এই নতুন মঞ্চ কাজ করবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post