কিছুটা হলেও স্বস্তি পেলেন বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকার উজজামান। সৌজন্যে স্থলসেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। আমাদের সেনাপ্রধান বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন। আর সেই সার্টিফিকেট পেয়ে বেশ খুশি জেনারেল ওয়াকার এবং তাঁর ইউনিটের সদস্যরা। কী বলেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল দ্বিবেদী, যা নিয়ে পদ্মাপারে রীতিমতো গুঞ্জন শুরু হয়েছে?
শুধু বাহিনীকে নিয়ে নয়, সেনাপ্রধান জেনারেল দ্বিবেদী তদারকি সরকারকে নিয়ে তাঁর মতামত খোলামনে জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মন্তব্যের মূল কথা, পদ্মাপারের সরকারকে তারা খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। কারণ, একটা সরকারের গুরুত্ব নির্ভর করে স্থায়ীত্বের ওপর। বর্তমানে তদারকি সরকারের মেয়াদ যে প্রায় শেষ সেটা সেনাপ্রধান দ্বিবেদীর কথায় খুব পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। একবার দেখে নেওয়া যাক জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী তদারকি সরকারকে নিয়ে কী বলেছেন।
জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, ‘‘সবচেয়ে আগে জানতে হবে কোন সরকার সেখানে আছে? যদি সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার থাকে, তারা যে পদক্ষেপ করছে তার মেয়াদ কতদিন? চার-পাঁচ বছর না কি চার পাঁচ মাস? সেটা থেকেই আমাদের বুঝতে হবে তার যে পদক্ষেপ করছে তার প্রেক্ষিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন আছে, না কি নেই।’’
বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আজকের দিনে ওদের তিন বাহিনী (বাংলাদেশ স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনা) যে পদক্ষেপ করছে তা কোনও ভাবেই ভারত বিরোধী নয়।’’ সেনা স্তরে দ্বিপাক্ষিক আস্থাবর্ধক কর্মসূচি এবং ‘কোর গ্রুপ স্তরের আলোচনা’ চালু রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ওদের অফিসারেরা এখানে প্রশিক্ষণের জন্য আসেন, আমদের অফিসারেরাও যান।’’
প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। দু’দেশের সেনা আধিকারিকদের ঘন ঘন বৈঠক, যৌথ যুদ্ধ মহড়া এমনকি, পাকিস্তানের থেকে চিনের তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানও কিনতে চলেছে বাংলাদেশ। ফলে নয়াদিল্লি-ঢাকা সংঘাতের প্রেক্ষপট তৈরি হচ্ছে বলে অনেকে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু জেনারেল দ্বিবেদী কার্যত সেই সম্ভাবনা নাচক করলেন।
তবে বাংলাদেশ সেনাকে দরাজ সার্টিফিকেট দিলেও পাকিস্তানকে বেশ কড়া ডোজ দিয়েছেন। খুব স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইসলামাবাদ যে সতর্ক হয়। অপারেশন সিঁদুর শেষ হয়ে গিয়েছে – যদি তারা এটা ধরে নেয়, তাহলে তারা খুব ভুল করবে। এই প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, ‘৭ মে ২২ মিনিটের সূচনায় এবং পরবর্তী ৮৮ ঘণ্টার সুসংহত অভিযানে অপারেশন সিঁদুর কৌশলগত সমীকরণ বদলে দিয়েছে। গভীরে ঢুকে আঘাত করা হয়েছে। ভেঙে দেওয়া হয়েছে জঙ্গি কাঠামো। বহুদিনের পারমাণবিক হুমকির বয়ানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে। ’
কাশ্মীরের পরিস্থিতি বদলের ইঙ্গিত হিসেবেও একাধিক দিক তুলে ধরেন সেনাপ্রধান দ্বিবেদী। তাঁর মতে উন্নয়নমূলক কাজের গতি বেড়েছে। চাঙ্গা হচ্ছে পর্যটন। শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে অমরনথ যাত্রা। চলতি বছরে চার লক্ষ্যের বেশি পুণ্যার্থী অংশ নিয়েছেন। এটা গত পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে বেশি। সন্ত্রাস থেকে পর্যটনের পথে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে ভূস্বর্গ।
তবে সেনাপ্রধান জেনারেল দ্বিবেদীর মুখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশংসা কিছুটা হলেও ওয়াকারের ইউনিটের হারিয়ে যাওয়া মর্যাদাকে ফিরিয়ে দিতে পেরেছে। গত জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনের পর থেকে বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়। বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। গত ১৫-১৬ মাস ধরে বাংলাদেশ সেনা হয়ে উঠেছিল উপহাসের পাত্র। অনেকেই বলছেন, যেভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গালমন্দ করা হয়েছে, তা এককথা বেনজির। তাদের মতে, এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক যে যাদের দায়িত্ব দেশকে রক্ষা করা, তারা কার্যত দেশটাকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। এর জন্য সকলেই জেনারেল ওয়াকারকেই দায়ী করেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post