বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শিশু উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বিমানবন্দরের স্ক্যানারে তার ব্যাগে গুলির ম্যাগাজিন পাওয়ার ঘটনাকে ‘ভুলবশত ঘটা’ বলে দাবি করলেও। তিনি কবে কীভাবে এই অস্ত্রের লাইসেন্স পেলেন এবং লাইসেন্সের প্রাপ্ত অস্ত্র ব্যবহার ও গুলির ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি কতটা অবগত এসব প্রশ্ন গুলিতে তোলপাড় হচ্ছে সমাজমাধ্যম।
পাশাপাশি তার গ্রেফতারের দাবিও তুলছে বিভিন্ন মহল কিন্তু সেখানে এখনও নিশ্চুপ অন্তর্বর্তী সরকার।
ফেসবুকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে আসিফ মাহমুদ অবশ্য বলেছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তার লাইসেন্স করা অস্ত্র আছে। এর উদ্দেশ্য সরকারি সিকিউরিটি যখন থাকে না, তখন নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভুলবশত এই ম্যাগাজিন তার ব্যাগেই রয়ে যায় বলে দাবি আসিফ মাহমুদের।
কিন্তু ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে আসার পরপরই প্রশ্ন উঠে যে ভিআইপি টার্মিনালের প্রথম চেকিং পার হয়ে এই গুলি ভর্তি ম্যাগাজিনসহ তিনি ভেতরে গেলেন কীভাবে? তিনি কবে কীভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স পেলেন? কারণ এ ধরনের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট বয়সসহ কিছু শর্ত থাকে।
লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬ অনুযায়ী, লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৩০ বছর বয়সী হতে হবে। এববং তিন বছর ধারাবাহিক ভাবে এক থেকে তিন লাখ টাকা আয়কর দিতে হবে লাইসেন্স প্রাপক ব্যক্তিকে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই নীতিমালার ব্যাতিক্রম হিসেবে মন্ত্রী বা পদমর্যাদার ব্যক্তি, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সহ কয়েকটি শ্রেণির ব্যক্তিদের জন্য বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
কিন্তু আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যতিক্রম প্রযোজ্য নয় সেক্ষেত্রে তার বয়সসীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আর সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন,‘বৈধ লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বয়স ৩০ বছরের সময়সীমা আছে কি ? আমি যেহেতু এ আইনটা পুরাটি দেখিনি, এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না।’
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে বিমানবন্দরে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার ম্যাগাজিন পাওয়া ও তার অস্ত্রের লাইসেন্স আছে কি না এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা হয়তো জাস্ট একটা ভুল।’ অনেকে বলছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ একে ৪৭-এর লাইসেন্স পেয়েছেন। এটা একে -৪৭ নয়, এটা তারই একটা লাইসেন্সকৃত হাতিয়ার, একটি পিস্তলের খালি একটি ম্যাগজিন ছিল। সেটি ভুলে রয়ে গিয়েছিল। এটা আসলে ভুলেই হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে বিভিন্ন সময় এভাবে ঘোষণা না দিয়ে অস্ত্র বা গুলিসহ ঢাকায় বিমানবন্দরে যাওয়ার পর লাইসেন্স করা অস্ত্রসহ গ্রেফতারের উদাহরণও আছে।
কিন্তু মাহমুদের বিষয়ে সে ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং তার ব্যাগে পাওয়া গুলির ম্যাগাজিন তিনি নিজেই তার প্রটোকল অফিসারের কাছে হস্তান্তর করে নির্ধারিত ফ্লাইটে ঢাকা থেকে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন ।












Discussion about this post