আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে কৌতূহল যেন প্রকট হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে , কবে তিনি অস্ত্র লাইসেন্স পেয়েছিলেন? কোন অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছিলেন? যেই অস্ত্রের লাইসেন্স নিলেন সেই অস্ত্রের গুলির ম্যাগাজিন নিয়ে কি বিমানবন্দরে ধরা পড়লেন আসিফ মাহমুদ? আর এই সকল প্রশ্নের কড়া ভাষায় ব্যাখ্যা দিচ্ছেন উপদেষ্টা আসিফ। এগুলির মাধ্যমে তার সম্মানহানির চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি তার।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিমানবন্দরে বন্দুকের ম্যাগাজিন ধরা পড়ার ঘটনায় শুরু হয়েছে একাধিক আলোচনা সমালোচনা। আর সেই সমালোচনাতেই রীতিমতো ক্ষুব্ধ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। বারংবার তার দাবি কোন ন্যায় সঙ্গত বিষয় না পেয়ে, একটি ছোট বিষয়কে বড় করে দেখানো হচ্ছে। এতে সন্দেহের গন্ধ পাচ্ছেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি জানাচ্ছেন, এত বড় একটি ঘটনা নিয়ে কেন অন্ধকারে রাখা হবে সকলকে। কোন অস্ত্রের জন্য তিনি লাইসেন্স নিয়েছিলেন এবং কোন অস্ত্র বিমানবন্দরে ধরা পড়েছিল সেটা স্পষ্ট করতে হবে উপদেষ্টা আসিফের তরফে। গতবছর জুলাই আন্দোলনের সময় যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন তিনি নাকি তার এবং তার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য নিজের কাছে লাইসেন্স কৃত অস্ত্র রাখছেন। তার সম্প্রতি বিমানবন্দরে তৃতীয় স্ক্যানিংয়ে অস্ত্র সমেত ম্যাগাজিন ধরা পড়ার পর অনেকেই দাবি করছেন বিমানবন্দরী ধরা পড়া অস্ত্রের গুলি এ কে৪৭, এরপর থেকে আরও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর শুরু করলো , এত দামি একটি অস্ত্র তিনি কিভাবে পেলেন? বা এই ধরনের অস্ত্রের প্রশিক্ষণ তিনি কবে নিয়েছেন যার উপর ভিত্তি করে তিনি মনে করলেন যে ওই অস্ত্রের দ্বারা নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন তিনি? কিন্তু এই কোন প্রশ্নের উত্তরই পাওয়া গেল না আসিফ মাহমুদের বক্তব্যে। আবার বলে গিয়েছেন এটি একটি ছোট্ট ভুল, ভুলবশত অস্ত্রের ম্যাগাজিনটি তার ব্যাগে রয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এই ধরনের অস্ত্রের লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২ লক্ষ টাকা আয়কর দিতে হয়, এই পরিমাণ আয়কর প্রদান না করতে পারলে অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা সম্ভব নয়, এরপর প্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদের সমাজ মাধ্যম পরিচালনাকারী এডমিন একটি পোস্টের মাধ্যমে বলেছেন, এই ধরনের তথ্য যদি কারো কাছে না থাকে তিনি অজ্ঞ থেকেই যেতে পারে। সম্মানহানের উদ্দেশ্যে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ডেপুটি স্পিকার বড় বড় নেতা মন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তিত্বদের জন্য এই কর দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তখন এই ধরনের অস্ত্র কেনার টাকা তার কাছে কিভাবে এল সেই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই দাবি করছেন একজন মন্ত্রী হয়ে তার এই অস্ত্র কেনার আর্থিক ক্ষমতা থাকতেই পারে, কারণ তার পরিবার-পরিজন নেই কাজেই তার মন্ত্রীর যে বেতন তা দিয়েই এই ধরনের অস্ত্র তিনি কিনতেই পারেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠা তরফ থেকে বারংবার দাবি করা হচ্ছে তিনি এই অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছেন তার নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে। তাহলে তার পরিবার কোথা থেকে এলো আবারও প্রশ্নের জন্ম।
আবার এই সমস্ত জল্পনার আবহে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তিনি দাবি করছেন এটি একে ৪৭ এর গুলি নয় এটি একটি পিস্তলের গুলি। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেখে বিবেচনা করে কি কথাটি বললেন? একেবারেই না তার অস্ত্রের লাইসেন্স এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ফলে নিশ্চিতভাবে কেউই বলতে পারবে না এটি কোন অস্ত্রের গুলি। কিন্তু এই বিষয়ে নিরাপত্তা রক্ষীদের নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার কথা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তাতে নিজের নিরাপত্তা স্বার্থে শুধু রিভলবার নয়, মিসাইল নিয়ে ঘুরলেও অবাক হওয়ার কিছুই নেই। কারণ নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা রয়েছে তারাই সকলের নিরাপত্তা লঙ্ঘন করছে। বিমানবন্দরের তার অস্ত্রের ম্যাগাজিন ধরা পড়ার ফুটেজ কিভাবে দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একজন উপদেষ্টার কাছে বিমানবন্দরের মত একটি স্পর্শকাতর জায়গায় বন্দুকের ম্যাগাজিন পাওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখনো পর্যন্ত কোন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো না কেন? এবং বিমানবন্দরের চেয়ে আধিকারিক তার এই বন্দুকের ম্যাগাজিন টিম পাওয়ার পর সেটি কে জমা রেখে তাকে বিমানে প্রবেশ করতে দিয়েছেন তার বিরুদ্ধেও কোনরকম আইনানুগ ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না এই ধরণের বিভিন্ন দাবিতে সরব হচ্ছে বিভিন্ন মহল।












Discussion about this post