আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি-সহ বেশ কয়েকটি সংগঠন। অন্যদিকে ইসলামিক কট্টরপন্থী সংগঠনগুলিও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মতামত সৃষ্টি করতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের তদারকি সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। প্রশ্ন উঠেছে দলটির নিবন্ধন কি থাকবে? বাংলাদেশের প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলটি কি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে? যদিও বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে চূরান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। আসলে আওয়ামী লীগ ইস্যুতে নব্য গঠিত রাজনৈতিক দল তথা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা সমন্বয়করা যেমন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ মনোভাব দেখাচ্ছে, তাতে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের কাছে আওয়ামী লীগ এখন শাখের করাত। কারণ, আওয়ামী লীগ ইস্যুতে ক্রমাগত আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর। ফলে এই দলকে বাইরে রেখে পরবর্তী নির্বাচনে যাওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন, এমনটাই মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।
গত বছরের জুলাই আগস্ট মাসে বাংলাদেশে যে আন্দোলন এবং গণ অভ্যুত্থান হয়েছিল, তাতেই পতন হয়েছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সরকারের। সেই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল হাসিনাকে সরিয়ে দেওয়া। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ দাবি করছেন, শেখ হাসিনা তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ নীতি নিয়ে চলতেন। তাঁর আমলে কট্টরপন্থী মুসলিম আন্দোলন বা জঙ্গি-জিহাদিরা বাংলাদেশে ঠাঁই পাননি। বেশিরভাগ কট্টরপন্থী নেতাদেরকেই জেলে ভরেছিলেন তিনি। এমনকি সন্ত্রাসবাসী সংগঠনগুলির শীর্ষ নেতাদেরও জেলে ভরেছিল শেখ হাসিনার সরকার। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় এসেই একে একে জঙ্গি নেতাদের জেল থেকে ছেড়ে দেন। মূলত জামাত নেতাদের পরামর্শেই এই কাজ তিনি করেছেন। আর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা, যারা জামায়তে ইসলামী সংগঠনের মতাদর্শেই আন্দোলনে নেমেছিলেন তাঁদেরই আবদারে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। যদিও তিনি প্রথম দিকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী ছিলেন না। এই দাবি তিনি প্রকাশ্যেই করেছিলেন কয়েকবার।
কিন্তু ক্রমাগত চাপ এবং আন্দোলনের চাপে তাঁকেও নতীস্বীকার করতে হয়। শেষ পর্যন্ত ইউনূস সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারও নিষিদ্ধ। এরপর বাংলাদেশে কার্যত রটে যায়, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি লন্ডনে এক বিদেশি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ নয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ নিয়ে লেখালেখি শুরু হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ডিপ্লোম্যাট বা দ্য ইকোনমিস্টের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে অনেকটাই চাপে পড়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য-সহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশও আওয়ামী লীগকে নিয়ে ইউনূস সরকারের নীতিকে সমালোচনা করা হয়েছে। তাঁরা পরিস্কার বার্তা দিয়েছে গণতন্ত্রের জন্য এটা বিপজ্জনক। যা আওয়ামী লীগের জন্য আশার আলো বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।












Discussion about this post