আওয়ামীলীগের এক অদ্ভুত কৌশল এ এক অদ্ভুত রাজনীতি। এ হল অপেক্ষার রাজনীতি। শুধু মাঝে মাঝে জানান দেওয়া আমরা আছি। তাই কোথাও ঝটিকা মিছিল আবার কোথাও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাঁচানোর নামে আসলে আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব বেঁচে আছে সেটির জানান দেওয়া। আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করার পর তাদের জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণ যোগ্যতা বেড়েছে অনেক বেশী। কখনও কখনও উপদেষ্টাদের কেউ কেউ তো বলে ফেলছেন যে গত একবছরের তুলনায় হাসিনার সময়েই সবাই বেশী ভালো ছিল। আর সাধারণ মানুষ তারা বলার সুযোগ তো পাচ্ছেন না ভয়ে এবং আতঙ্কে আছেন, তবুও যে টুকু সুযোগ পাচ্ছেন তারা বর্তমান সময় এবং আগের সময়ের তুলনা টেনে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে আওয়ামীলীগের ধারে কাছে নেই এই সরকার। সাধারণ মানুষ এখন টাকা পাচার বা চুরির গল্প শুনতে চাইছে না। তারা বলছে আগে মানুষ দু-বেলা খেতে পেয়েছে, দেশের অনেক উন্নয়ন দেখেছে। আর এই সরকার বাংলাদেশকে দিয়েছে চাঁদা আর মববাজি। ইউনূস সাহেবকে যে কোন দেশ চাইছে না সেটি তিনিও বুঝে গেছেন। যে কারণে তাকে আর কোন দেশ ডাকছে না আর বাংলাদেশে কোন রাস্ট্রপ্রধানও আসছে না। আসলে মহম্মদ ইউনূস যত পাপ করেছেন তার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তম পাপটি হল আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করা। ছাত্ররা একদিন আন্দোলোন করে বলল আর তিনি মেনে নিলেন যে আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে, আর ছাত্ররা সব সময় ভয়ে ছিল যে আওয়ামীলীগ ভোটে অংশ গ্রহনের সুয়োগ পেলেই আবার জিতে যাবে, তাই তাদের নিষিদ্ধ করতেই হবে। নিজেরা বাঁচতে চাইলে। কিন্তু আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধে ফল হল উল্টো। যেখানে সারা দেশে লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মীদের আটক অথবা দেশ ছাড়া করা হয়েছে, তার পরও ইউনূস এবং এনসিপির রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এই নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের দুঃস্বপ্ন। মহম্মদ ইউনূস আর্থিক সুবিধা পেতে একটি মহাজনী কারবারের দোকান খুলে বসেছেন। তিনি নিজের জন্য সব সুবিধাগুলি নিজেই মঞ্জুর করে নিয়েছেন। যেমন প্রথমেই তিনি এবং আরও ১৪ জনের নামে যে ম্যানি লন্ডারিং এর মামলা ছিল, সেগুলি প্রত্যাহার করিয়ে নিয়েছেন। তাকে কর বাবদ দিতে হত ৬৬৬ কোটি টাকা, সেই টাকাও মুকুব করিয়ে নিয়েছেন। সেই সঙ্গে তার গ্রামীন ব্যাঙ্কের আগামী পাঁচ বছরের জন্য কর মুকুব করিয়ে নিয়েছেন। সরকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীন ব্যাঙ্কে সরকারেই অংশীদারিত্ব কমিয়ে দিয়েছেন। সরকারের আগে মালিকানা ছিল ২৫ শতাংশ।সেখান থেকে নামিয়ে তা ১০ শতাংশ করেছেন। গ্রামীনের নামে ইউভার্সিটির অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন। গ্রামীনের নামে টেলিকমের ব্যবসা পেয়েছেন। গ্রামীনের নামে আরো বহু কিছু সুবিধা তিনি নিজে নিজেই নিয়েছেন। আর জনগন কি পেয়েছে। চাঁদাবাজির শিকার এবং মব জাস্টিসের নামে নতুন বিচার ব্যবস্থা। তো এসবের পর যদি ভোট হয় এবং সেখানে আওয়ামীলীগ না থাকে তবে সেই ভোট কি জনগন মেনে নেবে। এর আগেও তো এর থেকে অনেক বেশী বিপদে থেকেও আওয়ামীলীগ ফিরে এসেছে। কারণ বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার সঙ্গে আওয়ামীলীগকে রিলেট করে। এছাড়া ভারতের সঙ্গে চিনের দুরত্ব কমে এসেছে ফলে বাংলাদেশে এখন আমেরিকা কি চাইছে তার ভিত্তিতে সরকার গঠিত হবে না।বাংলাদেশে সরকার হবে চিন রাশিয়া এবং ভারত কি চাইছে তার উপর ভিত্তি করে। ফলে যদি আওয়ামীলীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন হয়ও, এবং সেই নির্বাচনে সরকারে যেই আসুক, তাকে দিয়ে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা আছে সেটি উঠিয়ে নিতে বাধ্য করবে এই তিন দেশ। আর একবার নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে সবাই বুঝতে পারবে আওয়ামীলীগ আছে কি নাই। এবং নির্বাচিত সরকার বাধ্য হবে আর একটি নির্বাচন দিতে যেখানে আওয়ামীলীগের অংশ গ্রহনে কোন বাধা থাকবেনা। তবে এই নির্বাচনই আওয়ামীলীগকে ছাড়া করা সম্ভব কিনা তাই নিয়েই থাকছে বড় প্রশ্ন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post