নির্বাচন নিয়ে বহু উপমা রয়েছে। তেমন একটি উপমা হল ‘সিমপ্যাথি ভোট’।
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে যারা একসময় বিরোধী ছিলেন, তাদের প্রতি জনগণের একটা সিমপ্যাথি ভোট কাজ করেছে। সেই সিমপ্যাথী ভোটের দৌলতে হাসিনার দল যেমন ক্ষমতায় আসীন হয়েছে, বাংলাদেশ শাসন করেছিল বিএনপি। বর্তমানে আওয়ামী লীগ কিন্তু ক্ষমতার বাইরে। একটি নির্বাচিত সরকারকে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পালাবদলের পর প্রথম দিকে কিন্তু তদারকি সরকারকে নিয়ে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ট দেশবাসী ভীষণ একটা প্রত্যাশা ছিল। তাদের মনে হয়েছিল, হাসিনা আমলের থেকেও বাংলাদেশ সব দিক থেকে আরও বেশি উন্নতির শিখরে পৌঁছে যাবে। কিন্তু সময় যত গড়িয়ে প্রত্যাশার পারদ ততই নিম্নমুখী হয়েছে। যে সরকারের দায়িত্ব দেশের সার্বিক উন্নয়ন, সে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠল আওয়ামী লীগকে নিঃশেষিত করার। তাই, রাজধর্ম পালন করা থেকে এই সরকার বিরত রইল। রাজধর্ম ছেড়ে তদারকি সরকার গায়ে চাপাল রাজনৈতিক ধর্ম। আর তার ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে।
বাংলাদেশ সব দিক থেকে খাদের কিনারে চলে গিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তো বটেই, অর্থনৈতিকভাবে। বলা যেতে পারে, তদারকি সরকার প্রধান দেশটাকে দায়িত্বের সঙ্গে ডুবিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে জানিয়ে দিয়েছে, তা আর টাকা দিতে রাজি নয়। বাংলাদেশে নতুন যে সরকার দায়িত্ব আসবে, সেই সরকারের সঙ্গে তারা এই ব্যাপারে কথা বলবে।
হাসিনার সময় বাংলাদেশ যে মৌলবাদ ছিল না, তা কোনওভাবেই বলা যাবে না। বেশ কয়েকজন ব্লগারকে সেই মৌলবাদী হামলার শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু মৌলবাদী শক্তির যে বাড়াবাড়ি বর্তমান বাংলাদেশ দেখছে, সেটা হাসিনার সময়ে ছিল না। পাশাপাশি বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরণ ছিল, সেই বাতাবরণ কিন্তু আর নেই। বাংলাদেশে আকাশে বাতাসে বিদ্বেষের বিষ ছড়িয় পড়েছে। মৌলবাদীদের দাপট বেড়েছে। তারা এখন সরকারের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। না হলে জামায়াতের মতো একটি দলের এভাবে উত্থান হতে পারে।
এই আবহে কয়েকটি সংস্থার তরফে একটি সমীক্ষা করা হয়েছিল। সমীক্ষার মূল বিষয় ছিল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে মানুষ কাকে ক্ষমতায় চাইছে? সংখ্যাগরিষ্ঠের মত ছিল আওয়ামী। তাদের মতে, আওয়ামী আমলে তারা অনেক ভাল ছিল। দেশ রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল ছিল। দেশের আর্থিক অবস্থা ছিল অনেক বেশি মজবুত। বর্তমানে বিনিয়োগ নেই। আমদানি-রফতানি কার্যত বন্ধ। হাসিনা আমলে ভারতের সঙ্গে যে সম্পর্ক ছিল সেই সম্পর্কে আর আগের মতো নেই। এমনকী আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মোটেই স্বচ্ছ নয়। উপায় এখন একটাই – যে কোনও মূল্যে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা মোটা অংশ কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষে। তাদের যুক্তি, হাসিনা আমলে যে দুর্নীতি হয়নি। তা একেবারে জোর দিয়ে বলা যাবে না। কিন্তু এই সরকার তো দুর্নীতির পদ্মায় ভাসছেন। কর্মসংস্থা নেই। একের পর এক কলকারখানা বন্ধ। অর্থনীতি খাদের কিনারে চলে গিয়েছে। এমনকী যে বস্ত্রশিল্পের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ মোটা অংকের রাজস্ব আদায় করতে পারত, সেই বস্ত্রশিল্পে জ্বলছে লালবাতি। আর ইউনূস সরকার একের পর এক রাষ্ট্রায়াত্ত্ব সম্পত্তি বিক্রি করে তুলেছে। যেটা বাংলাদেশে কাছে প্রবল নিরাপত্তার ঝুঁকি হয়ে উঠতে চলেছে। তরুণ প্রজন্ম জঙ্গিবাদ চায় না। তারা চায় রুটি রুজি আর মাকান। কিন্তু ইউনূস সরকার তাদের ভাতের ব্যবস্থা করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন। উল্টে তাদের ভাতে মারার সব পাকা ব্যবস্থা করে ফেলেছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post