গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের একাধিক থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হয়েছিল পুলিশের অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটা বড় অংশ। সেই অস্ত্র ও গোলাবারুদের বেশিরভাগটাই এখনও উদ্ধার করতে পারেনি মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন। এমনকি সেনাবাহিনীও কার্যত ব্যর্থ সেই অস্ত্র উদ্ধার করতে। বাংলাদেশের ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ঠিক কতো অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদ লুঠ হয়েছিল, তার সঠিক হিসাবই করে উঠতে পারেনি ইউনূস প্রশাসন। কেউ কেউ আবার বলছেন, আসলে লুঠ হওয়া অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করার চেষ্টাই করেনি প্রশাসন। এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা অংশ।
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশে খুনাখুনি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বেড়েছে। যদিও প্রশাসন তা স্বীকার করতে নারাজ। বিগত দশ মাস ধরে বাংলাদেশ কার্যত নৈরাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় দিনে-দুপুরে ডাকাতি, ছিনতাই হচ্ছে পুলিশের সামনেই। মব জাস্টিসের নামে যেখানে খুশি সেখানে গণধোলাই দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ দেখেও দেখে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, আসলে বাংলাদেশের পুলিশবাহিনী কার্যত ভয়ে চুপসে আছে। কারণ, কড়া হাতে এই ধরণের ঘটনা দমন করার নির্দেশ দেওয়ার বদলে ইউনূস প্রশাসন পুলিশের হাত থেকে মারনাস্ত্র কেঁড়ে নিয়ে শুধুমাত্র লাঠি ধরিয়ে দিয়েছে। ফলে পুলিশই এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পাশাপাশি গত বছর আগস্ট মাসজুড়ে থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুঠ হওয়া বিপুল পরিমান অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ এখন সেই সমস্ত দুস্কৃতিদের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। যা প্রশাসন জানে, এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই চুপ করে রয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের সদর দফতরের সূত্র বলছে, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দেশের ৬৬৪টি থানার মধ্যে ৪৬০টি থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছিল। মোট ১১৪টি ফাঁড়িতে লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। পুলিশের দাবি, বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে পিস্তল, রিভলভার, শটগান-সহ ১১ ধরনের পাঁচ হাজার ৭৫৩টি অস্ত্র লুট করে হামলাকারীরা। এখন পর্যন্ত লুট হওয়া ৪ হাজার ৩৮৪টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করছে পুলিশ সদর দফতর। বাকি ১,৩৬৯টি অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পাশাপাশি লুট হওয়া ৬ লক্ষ ৫১ হাজার ৮৩২টি গোলাবারুদের মধ্যে ৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ৮৭টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। অর্থাৎ অর্ধেকের কাছাকাছি গোলাবারুদ এখনও পাওয়া যায়নি। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহল বলছে, পুলিশ যে সংখ্যা বলছে, তা সঠিক নয়। এর থেকে ঢের বেশি অস্ত্র এখনও বাইরে রয়েছে। যা এখন তোলাবাজি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও মব জাস্টিসের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তাই জানিয়েছেন, লুট হওয়া অস্ত্রের বড় অংশ এখন সন্ত্রাসী, ডাকাত, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাংয়ের হাতে চলে গেছে। লুটের এসব অস্ত্র কেউ কেউ নিজের কাছে রেখেছে, আবার কেউ বিক্রি করে দিয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী জোরদার অভিযানে নেমেছিল। কিন্তু পরে কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সেই অভিযানের গতি কমে যায়। দশমাস পর ফের নতুন করে বাংলাদেশ সেনা ও পুলিশের যৌথবাহিনী অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান শুরু করেছে। কিছুটা সাফল্যও মিলছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের ভিতর ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী, যেমন এনসিপি, জামাত ও অন্যান্য কট্টরপন্থী সংগঠনগুলিই এই অস্ত্র লুঠের জন্য জড়িত। তাই তাঁরাই অভিযান ঠেকিয়ে দিচ্ছে। লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদ জেল ভেঙে পলাতক আসামি, দাগি সন্ত্রাসী, উগ্রপন্থী, চরমপন্থী, কিশোর গ্যাংয়ের হাতে চলে যাওয়ার বিষয়টি ভয় ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।












Discussion about this post