গত বছরের জুন-জুলাই মাস থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জওয়ান-আধিকারিকরা সেনাব্যারাক ছেড়ে পথে পথে কাজ করছেন। অর্থাৎ, সেনাবাহিনী দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটাতে ব্যস্ত। এখন তো তাঁরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক কন্ট্রোলের পাশাপাশি ভিভিআইপি-দের নিরাপত্তাও দিচ্ছে। যা নিয়ে ক্রমশ অসন্তোষের পারদ চড়ছে নিচুতলার সেনা জওয়ান থেকে শুরু করে নিচু তলার আধিকারিকদের মধ্যে। কারণ তাঁদেরই রাস্তায় নেমে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন দীর্ঘ সময় ধরে। এতে অনেক ধরণের সমস্যা তৈরি হচ্ছে সেনাবাহিনীর অন্দরে। আর সেটা আঁচ করেই সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দ্রুত নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এবার আসা যাক সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে কি কি ঘটছে এবং এর জন্য কি ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন শীর্ষ কর্তারা।
সম্প্রতি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরই দুজন সামরিক কর্তাকে আটক করেছিল সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তারা। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁদের আটক করা হয় বলে জানা যাচ্ছে। তাঁদের জেরা করে বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। জানা যাচ্ছে, এক বছরের বেশি সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্টের বাইরে জনগণের মধ্যে থাকার ফলে বাহিনীর মধ্যে একটা অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই যেমন বিরক্ত, তেমন অনেকে আবার দুর্নীতি ও অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। আর এই সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের দুটি রাজনৈতিক দল এবং কয়েকটি কট্টরপন্থী সংগঠন সেনা জওয়ানদের মগজধোলাই করছেন। গোয়েন্দারা ধৃত দুই সেনা আধিকারিককে জেরা করে জেনেছেন, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ রেভেলুশনারি সোলজার্স ফ্রন্ট বা বিপ্লবী সেনা ফ্রন্ট নামে একটি গোপন সংগঠন তৈরি করে ফেলেছে এক রাজনৈতিক দল। অতি গোপনে সংগঠনে যুক্ত করা হচ্ছে জেনারেল ওয়াকারের বিরুদ্ধে থাকা সেনাকর্তা ও জওয়ানদের। জানা যাচ্ছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে সমান্তরাল একটা ব্যবস্থা চালু করতে চায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মূল টার্গেট দুটি, এক- জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে পদ থেকে সরানো আর দুই নম্বর হল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দেওয়া। যাতে পরবর্তী সময় প্রয়োজন পড়লেই ক্যু বা অভ্যুত্থান করানো যায়।
অবশ্য, শেখ হাসিনার আমলে নিয়োগ পাওয়া তাঁরই আত্মীয় জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে পছন্দ করে না জামাত ও এনসিপি শিবির। এর আগেও বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে থেকে স্লোগান উঠেছিল, “ওয়াকার না হাসনাত, হাসনাত-হাসনাত”। আবার এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ছাত্রনেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মতো ব্যক্তিরা সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনেছিলেন। বলা যায় তখন থেকেই জেনারেল ওয়াকারের বিরুদ্ধে ছাত্রনেতারা বিরুদ্ধ মতবাদ প্রচার করে আসছিল। এর আগেও সেনাপ্রধানকে সরাতে নানাভাবে চক্রান্ত হয়েছে। বলা হয়, ভারতীয় গোয়েন্দাদের রিপোর্ট পেয়ে জেনারেল ওয়াকার সেই চক্রান্ত বানচাল করেছেন। কিন্তু তলে তলে তাঁকে সরানোর প্রচেষ্টা থেমে থাকেনি।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলাদেশেও ইসলামিক রিপাবলিক গার্ডের মতো একটি সমান্তরাল সেনাবাহিনী তৈরির ছক কষছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। অনেকটা ইরানের মতো ব্যবস্থা করতে চায় বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দলগুলি। আর অত্যন্ত গোপনে সেই পথেই অনেকটা এগিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। এই সংগঠন তৈরিতে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই জড়িত বলেও খবর। গোয়েন্দারা আরও একটি খবর পেয়েছে, সেটা হল শেথ হাসিনার আমলে যাদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেনাবাহিনী থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল, তাঁদের একজোট করা হচ্ছে। নেক্সাস ডিফেন্স ফোর্স নামে ওই সংগঠনও গোপনে সেনাবাহিনীর অন্দরে নিজেদের প্রচার চালাচ্ছে। সবমিলিয়ে জেনারেল ওয়াকারের সামনে এখন কঠিন লড়াই।
ইউনূস বিদায় নিয়েছেন। তবে তিনি সর্বত্র তাঁর পদচিহ্ন রেখে গিয়েছেন। ইউনূস যখন বুঝতে পারলেন তিনি আর বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন...
Read more












Discussion about this post