উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিমানবন্দরে রিভলবারের ম্যাগাজিন ধরা পড়ার ঘটনা দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে সাড়া ফেলে দিয়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার তরফে কালো তালিকাভুক্ত হতে পারে বাংলাদেশ। অভিযোগ জানানো হয়েছে আসিফ মাহমুদের নামে। উপদেষ্টা আসিফের আচরণে বিপদে পড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। আসিফ মাহমুদের অস্ত্রের লাইসেন্স তলব করা হলে জানা যায় একটি নয় দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে এই উপদেষ্টার নামে। এই পরিস্থিতিতে আসিফ মোহাম্মদ নিজের দোষ ঢাকতে পাল্টা দায় চাপিয়েছে বিমানবন্দর আধিকারিকদের উপর।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৯ জুন সকালে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার ব্যাগ থেকে গুলির ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে দিনভর আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বাংলাদেশি কিছু সংবাদমাধ্যম এ ঘটনায় খবর প্রবাশ করেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা সরিয়ে ফেলে।
এরপর ঘটনার দিন, রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে ব্যাগে ম্যাগাজিন পাওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন,নিরাপত্তার স্বার্থে এই অস্ত্রটি আমার কাছে থাকে,লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্র এটি। তবে এটি ভুলবশত বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ব্যাগে রয়ে গিয়েছিল। গণঅভ্যুত্থান সময় যেভাবে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে, তাতে অস্ত্র রাখাটাই স্বাভাবিক। যখন সরকারি প্রোটোকল বা সিকিউরিটি থাকে না, তখন নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে এই লাইসেন্সড অস্ত্র রাখা।
উল্লেখ্য, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান , নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬-এর ধারা ৩ ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির যোগ্যতা সম্পর্কে উল্লেখ, প্রাপক ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, তাকে ৩০-৭০ বছর বয়স সীমার মধ্যে হতে হবে,ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা হতে হবে। পিস্তল, রিভলবার, রাইফেল-এর ক্ষেত্রে আবেদনের পূর্ববর্তী তিন বছর ধরে বছরে কমপক্ষে তিন লাখ টাকা করে কর দিতে হবে। আর শটগানের ক্ষেত্রে কমপক্ষে এক লাখ টাকা। কিন্তু এই বিষয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠচ্ছে,তিনি কোন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছেন?কোন সময়ে নিয়েছেন?বিমানবন্দরে যে ম্যাগাজিন ধরা পড়েছে, তা পুলিশ হেফাজতে নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা না করেই কেন তার প্রটোকল অফিসারকে দেওয়া হলো?
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ব্যাগে রিভলবারের ম্যাগাজিন পাওয়ার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে বিমানবন্দরে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার ম্যাগাজিন পাওয়া ও তার অস্ত্রের লাইসেন্স আছে কি না এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা হয়তো জাস্ট একটা ভুল।’ অনেকে বলছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ একে ৪৭-এর লাইসেন্স পেয়েছেন। এটা একে -৪৭ নয়, এটা তারই একটা লাইসেন্সকৃত হাতিয়ার, একটি পিস্তলের খালি একটি ম্যাগজিন ছিল। সেটি ভুলে রয়ে গিয়েছিল। এটা আসলে ভুলেই হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের সব লাইসেন্স স্থগিত করে অস্ত্রগুলো গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্দেশনায় বলা হয়, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা দেবেন না , তাদের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪৯ হাজার ৬৭১টি লাইসেন্স করা বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আছে। এর মধ্যে সাড়ে ৪৬ হাজার লাইসেন্স ব্যক্তির নামে। বাকিগুলো প্রতিষ্ঠানিক। পুলিশের সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশের পরও সাত হাজারের বেশি লাইসেন্স করা অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১৫ বছরে দেওয়া পাঁচ হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করতে চলেছে সরকার।












Discussion about this post