ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভুটান সফরের পর পরই ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর। যা নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল কূটনৈতিক মহলে। এই কৌতুহলের মূল কারণ হল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে তাঁর দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে একদিকে যেমন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, বাণিজ্য উপদেষ্টাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তেমনই সকলকে অবাক করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। এটা একেবারেই বিরল ঘটনা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের মতে, এর আগে ভুটানের কোনও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলির সাথে আলাদা করে কোনও সাক্ষাৎ করেননি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে কোনও অবস্থান নিতে চাইছেন হিমালয়ের কোলে অবস্থিত শান্ত এবং ছোট্ট এই দেশটি? কূটনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করছেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে আসলে ভারতের বিশেষ বার্তা নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন। যা এই মুহূর্তে কূটনৈতিক এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিক থেকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
জানা যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে গতকাল বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সাথেও বৈঠক করেন। এগুলো তাঁর সফরের মধ্যে থাকলেও তিনি বাংলাদেশের এই মুহূর্তে তিনটি বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করলেন, সেটাই আশ্চর্ষের। ঢাকার এক পাঁচতারা হোটেলে শেরিং তোবগের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। পরে মির্জা ফকরুল বলেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন। পরদিন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের-সহ আরও কয়েকজন নেতা। ওই একই হোটেলে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং আরও দুই জন শীর্ষ নেতা। এই তিন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বই দাবি করেছেন এটা সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ, দুই দেশের উন্নতি ও সহযোগিতা নিয়েই কথা হয়েছে। কিন্তু তা মানতে নারাজ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহল। তাঁদের দাবি, এর পিছনে বড় কোনও রহস্য আছে।
সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সামনে আসছে, তা হল নরেন্দ্র মোদির ভুটান সফরের পরই শেরিং তোবগে ঢাকায় এলেন। এবং সরকারি কার্যক্রমের বাইরেই তিনি তিন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করলেন। কূটনীতির ভাষায় এটাকে পলিটিক্যাল আউটরিচ বলা হয়। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের সাথে ভুটানের সম্পর্ক সকলের জানা। ভুটানের বাণিজ্য থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, এর সিংহভাগই ভারতের হাত রয়েছে। পাশাপাশি ভুটানের নিরাপত্তা এবং সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বও ভারতের। ফলে এর আগেও ভুটান বহুবার ভারতের বার্তাবাহক হয়ে অনেকগুলি কূটনৈতিক দৌত করেছে। এবারও নরেন্দ্র মোদির ভুটান সফর ছিল তেমনই কৌশলগত এক সফর। দিল্লি বিস্ফোরণের পরও তিনি ভুটান সফর বাতিল করেননি। যেটা জানা যাচ্ছে, ভারত-ভুটান সম্পর্কের গভীরতা, সে দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ভারতের অবদান তুলে ধরতেই শেরিং তোবগেকে ঢাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেই মোতাবেক তিনি ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে নরেন্দ্র মোদির সেই বার্তা পৌঁছে দিলেন। বাংলাদেশে সামনেই নির্বাচন, যে বা যারাই ক্ষমতায় আসুক, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের রূপরেখা কি হতে পারে, সেই বার্তাই দিয়ে এলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।
এবারের সফরে ভারত ভুটানকে ৪০ বিলিয়ন টাকার ক্রেডিট লাইন দিয়েছে। ভারতের অনুদানে ভুটানে একটি নতুন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধনও করেন নরেন্দ্র মোদি। এছাড়া ভুটানে নতুন রেললাইন পাতার প্রকল্পেরও চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি ভুটানের জন্য আরও অনেক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুচনা করেছেন নরেন্দ্র মোদি। আসলে এই সমস্তই বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলিকে বলে এলেন শেরিং তোবগে। যাকে এক কথায় বলা হয় কূটনৈতিক দৌত।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post