বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস সুষ্ঠ ভাবে দেশে নির্বাচন করিয়ে বিদায় নিতে পারবেন না। গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন দেশে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তখন গোটা দেশের মানুষ দেশের শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার আশায় বুক বেঁধেছিল। কিন্তু এই সরকারের ১০ মাস কাটতে না কাটতেই সেই আশা নিরাশাই পরিণত হয়েছে। এখন দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে। যদিও ঈদের ছুটির কারণে আপাতত এই আন্দোলন বিক্ষোভ বন্ধ রয়েছে দেশে, তবে ঈদ পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার ধারণ করবে।
এই আন্দোলন বৃহত্তর হওয়ার আভাস কেন দেওয়া হচ্ছে তার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে সম্প্রতি অন্তর্ভুক্তির সরকার যে নির্দেশ দিয়েছে সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে। সেটি সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনির্বাচিত সরকারের এক প্রকার বিদ্রোহ ঘোষণা। স্বাভাবিকভাবে অনির্বাচিত সরকারের নির্দেশ মানতে নারাজ সরকারি কর্মচারীরা , যার জেরে তারা এখনো রাস্তায় আছেন। এছাড়াও বাংলাদেশের নানা ক্ষেত্র যেমন বিনিয়োগ কর্মসংস্থান এর ব্যাপারেও ইতিমধ্যেই বহুবার আলোচনা সমালোচনা প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ঐক্য, আওয়ামী লীগকে বাদ দিলেও যে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি রয়েছে তাদের মধ্যে অনস্থা অনৈক্য সবটাই বিদ্যমান। আরেকটি প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগ কেন নিষিদ্ধ হবে বাংলাদেশে? জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার যদি হয় সেটি দলের নেতৃত্ব শেখ হাসিনা ও অন্যান্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হবে কিন্তু গোটা দল এবং দলের কাজকর্ম কেন নিষিদ্ধ হবে সে দেশে। কিন্তু মোহাম্মদ ইউনুস তিনি নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশে সে কথা একেবারেই স্পষ্ট। আর ঠিক যতটা আশা নিয়ে সাধারণ মানুষ মুহাম্মদ ইউনুসকে সরকারের মাথায় বসে ছিলেন ততটাই আশাহত হতে হয়েছে সেই মানুষগুলিকে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালের এই দশ মাসে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২১ লক্ষ মানুষ আরো দরিদ্রতার দিকে এগিয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে ১৮ লক্ষ ই রয়েছেন মহিলা। অর্থাৎ ১০ মাস পেরিয়ে ১১ মাসের দিকে এগিয়ে চলায় সরকার এখনো পর্যন্ত একটিও সংস্কারের মুখ দেখাতে পারেনি বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে। সংস্কারের লোভ দেখিয়ে নির্বাচনকে ধোঁয়াশায় ঠেলে দিচ্ছে এই সরকার। কিন্তু একদিকে সংস্কার চললেও অন্যদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলতেই পারে সেটা হয়তো আর কারোরই অজানা নয়। ওটা তো এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়েছিল শুধুমাত্র দেশের সংস্কার বিচার এবং নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু এগুলির সব কটি আজও অধরা। উপরন্ত বাংলাদেশের মানুষকে অশান্তির আগুনে জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশেরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে বিদেশীদের হাত ধরেই ক্ষমতায় এসেছে সেটা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। কারণ বিদেশীদের ঘাঁটি দেওয়া থেকে শুরু করে মানবিক করিডোর সমস্ত নির্দেশেই মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
কিন্তু এবার বাংলাদেশের করিডোর ইস্যু নিয়ে জাতিসংঘ কেউ আর পাশে পাচ্ছেনা ইউনূসের সরকার। জাতিসংঘ সরাসরি জানালো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা চালাচ্ছে তাতে জাতিসংঘের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এবার বাংলাদেশের নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক রাষ্ট্রদূত গোয়েন লুইস,
আমার দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে নির্বাচনে ইস্যুতে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও চলতি বছরে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে আর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে অন্তর্ভুক্তি সরকারের ওপর কিন্তু সেখানেও এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস তিনি জানাচ্ছেন আগামী বছর জুনের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। কিন্তু তার এই নির্দেশ যে অন্যান্য দলগুলি মেনে নেবে না তা এই দলগুলির বর্তমান তৎপরতা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
সেখান থেকে বলা যায় বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন না দিয়েই বিদায় নেবে।












Discussion about this post