২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে তথাকথিত গণঅভ্যুত্থানের পর সে দেশে ক্ষমতায় এসেছিল একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যার নেতৃত্বে ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন শান্তির জন্য নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এর পরবর্তী দেড় বছর বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত একটি জাতি। মুহাম্মদ ইউনূস দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আর্থিক পরিস্থিতির ছিঁটেফোঁটা উন্নতি করতে না পারলেও একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে বিপদে ফেলার কাজটি সুচারুরূপে করে গিয়েছেন। তিনি এথনও বাংলাদেশ ছাড়েননি, জানা যাচ্ছে তিনি তাঁর সরকারি বাসভবন যমুনাও ছাড়েননি। কারণ হিসেবে সামনে আসছে তাঁর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার অদম্য বাসনা। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ তাঁর ঘনিষ্ট রাষ্ট্রগুলির মাধ্যমে তারেক রহমান সরকারের উপর চাপ সৃষ্টিও করে চলেছেন বলে জানা যাচ্ছে।
কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের স্বপ্ন এবার বোধহয় আইসিইউতে চলে যাচ্ছে। কারণ, এবার গণভোট ও তার ফলাফল এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে রুল জারি করল বাংলাদেশ হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের ডিভিশন বেঞ্চ, এই রুল জারি করে জানতে চেয়েছে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারির চিঠি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না। সেই সঙ্গে বিচারপতিরা এও জানতে চেয়েছেন, গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিল সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। হাইকোর্ট রুল জারি করে বাংলাদেশের আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জাতীয় সংসদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, নির্বাচন কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে বলেছে। উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং ৮ আগস্টই নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নিয়েছিল। এরপরই ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার একাধিক রাষ্ট্রীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। বিভিন্ন ধরণের সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়, আবার সেই সংস্কারের প্রস্তাবনা এক জায়গায় করতে একটি ঐক্যমত কমিশনও গঠন করেছিল ইউনূসের সরকার। সব প্রচেষ্টা কেন্দ্রীভূত করে, অবশেষে ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের রাজনৈতিক দলিল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে গত বছরের ১৩ নভেম্বর গণভোট অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই একসঙ্গে গণভোট হয় বাংলাদেশে। আর সেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়।
কিন্তু সংবিধান সংস্কারের সেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। সেই রিটে উল্লেখ করা হয়, গণভোট প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘন হয়েছে। এসব কারণে গণভোটের ফলাফল যথাযথ ও বৈধ নয় বলেও দাবি করা হয়েছিল। রিটকারীর দাবি ছিল হাইকোর্ট যেন গণভোটের ফলাফল বাতিল করে দেয় এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়। সেই রিট আবেদনের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ হাইকোর্ট এবার রুল জারি করল। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এবং আইনজ্ঞদের একটা বড় অংশ অনেক আগে থেকেই দাবি করে আসছে ইউনূস সরকারের এই অধ্যাদেশগুলি অসাংবিধানিক। কিন্তু ইউনূসের আমলেও এমন রিট আবেদন হয়েছিল, কিন্তু সেগুলি খারিজ হয় পত্রপাট। এবার সরকার বদলেছে, ফলে নতুন আবেদনের ভিত্তিতে রুলও জারি করেছে আদালত। মনে করা হচ্ছে, এবার বিচারব্যবস্থা খোলামনে কাজ করছে। ফলে আইসিইউতে চলে যাওয়া মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁদের দোসরদের স্বপ্নের মৃত্যু ঘটলেও ঘটতে পারে। কারণ, যে যে সরকার পরিবর্তনের পরই আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জাতীয় সংসদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব পরিবর্তন হয়েছে। বিএনপি এবং তারেক রহমানের ঘনিষ্টরাই স্থান পেয়েছেন বিভিন্ন শীর্ষ পদে। একটি নির্বাচিত সরকার যে অসাংবিধানিক কোনও আদেশকে গুরুত্ব দেবে না সেটা আগেই বুঝিয়ে দিয়েছিল বিএনপি।












Discussion about this post