গত বছরের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পরবর্তী সময় থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাকযুদ্ধ চলেছে। এই সময়ে একে অপরের বিরুদ্ধে বেশ কিছু বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে দুই দেশ। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। আর এর জেরেই দু-দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও ফাটল ধরেছে। এতে কার কতটা ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কিন্তু এই আবহেই ভারত এবার বাংলাদেশকে চারদিক দিয়ে ঘিরতে শুরু করেছে।
ভারতের বিরুদ্ধে ক্রমাগত নানা অভিযোগ তুলে আসছিলেন বাংলাদেশের উপদেষ্টারা। তাঁদের সুরেই ছাত্রনেতারা ভারতকে নানান হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এর মধ্যেই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস গত মার্চ মাসে চিন সফরে গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে নিয়ে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বসেন। তিনি বলেছিলেন, ভারতের সেভেন সিস্টার্স ল্যান্ডলকড, তাই তাঁরা সমুদ্র দেখতে পায় না। বাংলাদেশ হল সমুদ্রের রাজা। এ কথা বলে তিনি চিনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে আহ্বান জানান। মুহাম্মদ ইউনূসের ওই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে দেয়। আগে ওই ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ ভারতের সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় কোনও দেশে পণ্য রফতানি করতে পারত। স্বভাবতই এই সুবিধা বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশের রফতানিকারকরা চরম দুর্দশায় পড়লেন। এরপরই পাল্টা দিয়েছিল ঢাকা। দেশীয় শিল্পকে সস্তা আমদানির চক্র থেকে বের করে আনতে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে স্থলপথে তুলা আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণ করেছিল। সেই শুরু, তারপর থেকে বাণিজ্য খাতে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে দুই দেশ।
বাংলাদেশের কাছে পোশাক শিল্পের জন্য তুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত থেকে এখনও বাংলাদেশে তুলা আসছে, তবে তা কেবল সমুদ্রপথে বা আকাশপথে। স্থলপথের তুলনায় যা অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। আবার বিশ্বের নামী-দামী ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায়, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বড়সড় ধাক্কা খায়। কারণ, ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে সমুদ্র বা আকাশপথে সহজেই সেগুলির চালান পাঠাতেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। এখন তা বন্ধ। সম্প্রতি ভারত বাসমতি চাল ব্যতিত সব ধরণের চাল রফতানি সীমিত করে দিয়েছে। এটা বাংলাদেশের কাছে একটা বড় ধাক্কা। সবমিলিয়ে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে। কিন্তু এই আবহেই ভারত এবার বাংলাদেশকে ঘিরতে শুরু করেছে।
জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সীমান্তে সেনাবাহিনীর মোতায়েন বৃদ্ধি করেছে ভারত। বিশেষ করে উত্তর পূর্বের সাতটি রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গের স্পর্ষকাতর এলাকাগুলিতে। এছাড়া মিয়ানমারেও ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বড় দল পৌঁছে গিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনীর আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারই পাল্টা চাল হিসেবে ভারতীয় সেনা মিয়ানমারে পৌঁছেছে যৌথ মহড়ার জন্য। এমনটাই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। কেউ কেউ দাবি করছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত প্রয়োজনে বাংলাদেশে সামরিক অভিযানও চালাতে পারে। কারণ মুহাম্মদ ইউনূস পশ্চিমা শক্তির বলে বলিয়ান। এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউনূসের পাশে রয়েছে। কিন্তু খেলা ঘুরিয়ে বেজিং ও ক্রেমলিন এবার নয়া দিল্লির পাশে দাঁড়িয়েছে। চিন এখন মার্কিন খেলা বুঝে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের থেকে মুখ ফিরেয়ে ভারতকে সমর্থন দিতে রাজি। ফলে খুব শীঘ্রই একটা বড় পদক্ষেপ নিতে পারে নয়া দিল্লি। আতঙ্কে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post