বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ‘চিকেন নেক’ হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর ঘিরে সম্প্রতি ভারতের কিছু সামরিক তৎপরতার খবর নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। সীমান্তের খুব কাছে অসম এবং উত্তর দিনাজপুরে দুটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে ভারতীয় সেনা। এই প্রসঙ্গে ভারতর এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অভিমত, শিলিগু়ড়ি করিডোরের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই দিল্লির এক মাত্র উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এবং তাকে কেন্দ্র করে নতুন ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও এই সামরিক তৎপরতা অন্যতম বড়ো কারণ।
বিশ্লেষকদের মতে, চিকেন নেক তথা শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়ো ভূমিকা রাখে। দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্তা নাইম আশফাক চৌধুরী বলেন, ‘শোনা যাচ্ছে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প ১০০ বছরের জন্য চিনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করছে বাংলাদেশ সরকার। তাই, শিলিগুরি করিডোরের কাছে চিনের উপস্থিতি ভারত দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে। সে কারণে সীমান্তের নিরাপত্তা তারা আরও কঠোর এবং আঁটোসাঁটো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ভারতের সমর বিশেজ্ঞদের মতে, ভারতের সেভেন সিস্টার্সের কাছাকাছি অঞ্চলে চিন তাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার মোকাবিলার জন্য ভারতের একটি বড়ো লক্ষ্য। সেই দাবি কতটা সঠিক, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ সীমান্ত পরিবদর্শন করে সে দেশের সেনা তথা ১৫ বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম। তিনি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লালমনিরহাট সীমান্ত নিয়ে একটি বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই খবর সঠিক নয়। আমি সম্পূর্ণভাবে বলছি, এটা পুরোপুরি গুজব। স্থানীয় মানুষ এবং দেশবাসীর মধ্যে একটি বিভ্রান্তি তৈরির লক্ষ্য এ সব করা হচ্ছে। এই এলাকার প্রতিটি মানুষ স্বচ্ছন্দে রয়েছে। সীমান্ত টহল দিচ্ছি বিজিবি।’
সীমান্ত এলাকার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, সৈন্য সমাবেশ বা অনুপ্রবেশের মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। তবে ভারতের বিএসএফ নজরদারি আরও কড়া করেছে। গত ৫ অগাস্টের পর থেকে লালমনিরহাট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। সেখানকার বাসিন্দা শিল্পী বেগন জানিয়েছেন, আগে তিনি নিয়মিত সীমান্তের কাছে গেলও এখন আর যান না। আগে দেখা যেত সীমান্ত টহল দিচ্ছি চার থেকে পাঁচজনের একটি বাহিনী। এখন সেটা ১৫ জন বা ১৬ জন মিলে দিচ্ছেন। বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অস্থায়ী টহল। ভারত সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি যেমন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, শিলিগুলি করিডোরের নিরাপত্তাও আগের থেকে আরও কঠোর করা হয়েছে। এই বছরের শুরুতে বাহিনীর তিন শাখা যৌথভাবে এখানে একটি সামরিক মহড়া দেয়। ভারতের অবসর প্রাপ্ত এক সেনাকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তের দায়িত্বে বিএসএফ। সেখানে সেনাকে মোতায়েন করা হয় না। সাধারণ সময়ে আর্মির কোনও দায়িত্ব এখানে নেই। তাদের কিছু এসটাবলিশমেন্ট আরও মজবুত করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ডোকলাম থেকে শিলিগুড়ি করিডোর অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই ভারত সরকার এর নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র করার চেষ্টা করবে। কোনও সময়ে এই অঞ্চলে শত্রুপক্ষ আঘাত করার চেষ্টা করলে সেনা যাতে তা দ্রুত প্রতিহত করতে পারে, তার জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে।












Discussion about this post