বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের শুরু থেকেই দ্বন্দ্ব। জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। এরপর যখন অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস তিনি সংবিধানের অধীনে শপথ গ্রহন করবেন নাকি একটি বিপ্লবী সরকার হিসেবে অন্যত্র বা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শপথ গ্রহণ করবেন তানিয়ে শুরু হয়েছিল প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব। শেষমেষ সংবিধানের অধীনে এই সরকার শপথ গ্রহণ করলেও বিতর্ক থেমে থাকে নি। উঠে এসেছিল একাধিক প্রশ্ন। কিন্তু এই বিভিন্ন বিতর্কের মধ্যে জড়িয়ে রয়েছে বিদেশী সংস্থা, ও পাকিস্তানি আই এস আই।
যে সমস্ত সংগঠন ও সংস্থাগুলি জুলাই আন্দোলনের স্বপক্ষে কাজ করে গিয়েছে তারাই ডিসেম্বরে অন্তর্ভুক্তির সরকারকে তাদের ভিতরে একটি বিপ্লবী সরকারের ক্লিয়ারেন্স দেয়নি। কারণ তাদের প্রত্যেকের একটাই উদ্দেশ্য ছিল সেন্ট মার্টিন টেকনাফ ও মানবিক করিডোর দিয়ে সেন্ট মার্টিন থেকে সহায়তা প্রদান করা আরাকান আর্মিকে সাহায্য প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে মার্কিন রাষ্ট্রের অধীনে বা মার্কিন সেনাবাহিনীর অধীনে। এ ধরনের বিদেশী শক্তিদের পরিকল্পনা ছিল, দীর্ঘদিন তাদের যে নজর ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের উপর সেটি যেন তারা নিজেদের আয়ত্তে আনতে পারে এবং এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল কক্সবাজার সহ কিছু মিয়ানমারের বেশ কিছু অংশ এবং ভারতের কিছু অংশ নিয়ে তারা একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিল বিদেশী সংস্থা গুলি।
কিন্তু বিদেশের সংস্থাগুলির এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তির সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সমর্থন থাকলেও। এই কর্মকাণ্ড গুলিতে সব থেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার ও জামান।
আর ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আড়াআড়ি বিভক্ত করেছেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পর্ক এখন তলানিতে । এই সম্পর্কে সমীকরণ প্রকাশ্যে এনেছে ছাত্র নেতারা। গণঅভ্যুত্থানের পর সেনাপ্রধান নিজের হাতে ক্ষমতা না রেখে তা হস্তান্তর করেছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে। এখানেই তিনি চূড়ান্ত বুদ্ধি করেছিলেন বলে দাবি বিভিন্ন মহলের । এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্ষমতায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে ইউনুস ও তার দল। ক্ষমতায় আসার পর তিনি তাঁর উপদেষ্টামণ্ডলী এবং অন্যান্য কমিশনের মাথায় নিয়ে এসেছেন বিদেশী নাগরিকদের। তাঁদের উদ্দেশ্য কেবলমাত্র ক্ষমতায় থাকা। আর এটা করতে গিয়ে সেনাপ্রধান ওয়াকারের বাঁধার মুখে পড়তে হচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসদের। ফলে তাঁকেই সরিয়ে দেওয়ার ভয়ানক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশে শুরু হল গৃহযুদ্ধ।
জানা যায়, সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে সরাতে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে অন্তত দুবার অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা হয়েছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু ওয়াকারের প্রতি এখনও বেশ কয়েকজন শীর্ষ সেনা আধিকারিক আন্তরিক থাকায় তা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে জামাতপন্থী সেনা আধিকারিকরা চাইছেন জেনারেল ওয়াকার উজ জমানকে সরিয়ে দিতে। তাঁদের মদত দিচ্ছে পাক আইএসআই। দুজনের নাম তো প্রকাশ্যেই ঘোরাফেরা করছে। লেফটানান্ট জেনারেল কামরুল হাসান এবং লেফটানান্ট জেনারেল ফইজুর রহমান। তাঁরা এখনও সক্রিয়। ফলে সেনাপ্রধানের বিপদ এখনও কাটেনি। এখন আগামী 2 মাস ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়ার নিয়ে লড়াই ময়দানে থেকে সেনাপ্রধান বাংলাদেশকে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে নিয়ে যায় এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post