গভীর সংকটের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।
এর মাঝে নতুন এক জল্পনা তৈরি হয়েছে সে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বসানো হতে পারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। লন্ডন বৈঠক নিয়ে ইতিমধ্যেই জনমনে সংশয় সন্দেহ প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে রহস্যও।
জুলাই সনদ ঘোষণার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে ঐক্যমতে আসার কথা বলা হচ্ছিল, কিন্তু দলগুলি ঐক্যমতেই সে পৌঁছায়নি সেই কথা জানালেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সভাপতি আলী রিয়াজ। তুমি আরো বলেন জুলাইতে এই জুলাই সনদ ঘোষণা করা হবে বলে যে আশা করা হচ্ছিল সেটা কতটা সম্ভব সেটা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। কিন্তু ছাত্র সমাজের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের দাবি তারা এই জুলাইতেই জুলাই সনদ ঘোষণা করবে। আর তাদের দাবি যদি সরকার মেনে নেয় তবে সংবিধান স্থগিত হয়ে যাবে। এবার বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা বা সরকার পুনর্গঠন হবে কিনা সেই বিষয়ে নানারকম সম্ভাবনা সামনে আসছে।
আর এই ঘটনা প্রসঙ্গে সংবিধান সংস্কার কমিশনের আরো এক সদস্য ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিক বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন। তিনি বলছেন, পাঁচ আগস্ট সংবিধান স্থগিত করে বিপ্লবী বা ঐক্যমতের সরকার গঠন করা ছিল উপযুক্ত সময়। অর্থাৎ সংবিধান সংস্কার কমিশনের অভ্যন্তরেই এমন কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন যারা নিজেরাই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দিতে চাইছে। যার ফলে ধীরে ধীরে উত্ত্যক্ত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে।
এবার বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে যে সম্ভবনা গুলি উঠে এসেছে তার মধ্যে অন্যতম নির্বাচন পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে বসানোর প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টার তরফ থেকে তারেক রহমানকে লন্ডন বৈঠকে দেওয়া হয়েছিল কিনা তা বা সে প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারেক রহমান সঠিক গ্রহণ করেছেন কিনা তা নিয়ে একটু জল্পনা তৈরি হয়েছে। কারণের লন্ডন বৈঠকি এখন সবচেয়ে বেশি রহস্যজনক একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সে দেশে। আরো একটি সম্ভাবনা সেটি হল সংবিধান স্থগিত করে প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনুসকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো হতে পারে এবং প্রধান উপদেষ্টা পদে দেখা যেতে পারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপপ্রধান উপদেষ্টা পদে বুঝতে পারেন জামাতের আমির শফিকুর রহমান। এরপর সেই সরকারের অধীনে উপদেষ্টা মন্ডলীতে থাকবে বিভিন্ন দলের নির্বাচিত প্রতিনিধরা। অর্থাৎ এখন সংবিধান স্থগিত করে যদি এই নতুন সরকার পুনর্গঠন করা হয় তবে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত হবে। সে নির্বাচন আদৌ কবে হবে সেটারও সঠিক উত্তর কেউ দিতে পারবে না।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন বাংলাদেশের এই বর্তমান পরিস্থিতিতে যার অন্যতম ভূমিকা ছিল তিনি হলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। যার ওপর অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা ছিল সাধারণ মানুষের সেই বিশ্বাস ও আস্থায় চির ধরেছে। সেই সেনা প্রধানের সম্মতি কি আছে সংবিধান স্থগিত করে জাতীয় সরকার গঠনে? কারণ এই সংবিধান স্থগিত করার জল্পনা অনেক আগেই শুরু হয়েছিল, আর স্বাভাবিকভাবেই সংবিধান স্থগিত করেই জাতীয় সরকার গঠন করা হলে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চপ্পুকে তার পথ থেকে অপসারণ করা হবে তেমনি সেনাপ্রধান কেউ তার পর থেকে সরানো হবে। এই বিষয়গুলিতে এখন সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী? সমস্ত ডিজাইন গুলি কি বুঝতে পারছেন সেনাপ্রধান? দেশকে শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা দিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post